গোলপাহাড় মহাশ্মশান ও কালী মন্দিরে শ্যামাপূজার অনুষ্ঠানে ডা. শাহাদাত হোসেন
প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
সকল জাতিসত্তা ও ধর্মের মানুষকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রেইনবোনেশন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম শহর রোল মডেল হবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন। গতকাল (৭ নভেম্বর) রাতে নগরীর গোলপাহাড় মহাশ্মশান ও কালী মন্দির পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে শ্যামা পূজা উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত সভায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, সকল ধর্মের মানুষকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি সকল সম্প্রদায়ের মানুষকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। এর অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শারদীয় দুর্গাপূজায় চট্টগ্রামে এসেছেন। তিনি সম্প্রীতির বার্তা দিয়েছেন, সকলকে নিয়ে এগিয়ে চলার দৃঢ়তা ব্যক্ত করেছেন। একইভাবে আমিও চট্টগ্রাম শহরকে গ্রীন, ক্লিন ও সেইফ শহরে পরিণত করতে চাই। যেখানে সকল ধর্মের মানুষ নিরাপদে থাকবে, সকল ধর্মের মানুষ নিজ নিজ উৎসব ও ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালন করবে। সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে অভয়মিত্র মহাশ্মশানে উন্নয়ন কাজ চলছে। জানুয়ারীতে সেখানে দুইকোটি টাকা দামের বৈদ্যুতিক চুল্লী বসানো হচ্ছে। বাকলিয়া, কাট্টলি ও হালিশহরে নতুন নতুন মহাশ্মশান করা হচ্ছে। ডিসি হিলের সামনে বৌদ্ধ বিহারের সামনে পদ্মফুল স্থাপন করা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে দুর্গাপূজা ও জন্মাষ্টমী উদযাপিত হয়। সুতরাং চট্টগ্রাম শহর হবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
তিনি বলেন, গোলপাহাড় মহাশ্মশান কালী মন্দিরে যোগ্য নেতৃত্বে এগিয়ে চলছে। মন্দিরের ভূমি নিয়ে যে সমস্যা আছে তা আমি দেখবো। খাস জায়গা গুলো যেন মন্দিরের নামে স্থায়ী বরাদ্দ হয় সেটির উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। মন্দিরের উন্নয়ন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে যা যা করা প্রয়োজন তা করার ঘোষণা দেন ডা. শাহাদাত হোসেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার বিভাজনের রাজনীতি করে হিন্দুদেরকে বিএনপি থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করেছে। কিন্তু বিএনপি বিভাজনের রাজনীতি করে না। বিএনপি সকল ধর্মের মানুষকে নিয়ে এগিয়ে চলার রাজনীতি করে। গত ১২ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনে হিন্দুরা নিরঙ্কুশভাবে বিএনপিকে সমর্থন দিয়েছে। আমরা হিন্দুদের সাথে থাকতে চাই। তাদের সকল সুখে দুঃখে ও উৎসবে তাদের সহযোগিতা করতে চাই।
গোলপাহাড় মহাশ্মশান ও কালী মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি লায়ন আর কে দাশ রুপুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আশীর্বাদক ছিলেন সীতাকুণ্ড শংকর মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ তপনানন্দ গিরি মহারাজ। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব দে পার্থ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন গোলপাহাড় মহাশ্মশান ও কালী মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রুভেল দে। ধর্মীয় বক্তা ছিলেন অধ্যাপক স্বদেশ চক্রবর্তী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মন্দির পরিচালনা কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শিমুল মুহুরি। উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহ সভাপতি কাজল দেব, সাধন সিংহ, সৌমিত্র চক্রবর্তী, পরিমল সিকদার, নিকেল দে, বাবুল চৌধুরী, বিশ্বনাথ দাশ বিশু, লেলিন দে, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুজন দাশ, মুনমুন দত্ত মুন্না, সিদ্ধার্থ শংকর সিধু, চন্দন মহাজন, সঞ্জয় প্রসাদ মল্লিক, শৈবাল ভৌমিক, অর্জুন কুমার নাথ, সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন ঘোষ বাদশা, অর্থসসম্পাদক দেবাশীষ রায়, সহ সাধারণ সম্পাদক রতন দে, আশীষ আচার্য্য, তুহিন রায় প্রমুখ। পরে গুণি শিল্পীদের পরিবেশনায় সংগীতাঞ্জলি অনুষ্ঠিত হয়


