প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে একুশে পদকপ্রাপ্ত সমাজ-সংস্কারক ও শিক্ষানুরাগী আলহাজ¦ সূফী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেছেন, জীবনে কত বড় হবে, তা নির্ভর করবে কতজনের উপকার করলে। জীবনে বড় হতে হলে আমিত্ব থেকে বেরিয়ে আসতে হবে বলেও মনে করেন পিএইচপি ফ্যামিলির এ প্রতিষ্ঠাতা।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বারিধারায় ‘ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্সেস (ইউআইটিএস)’ ক্যাম্পাসে ‘জিরো ওয়ান ফেস্ট’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সূফী মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ইউআইটিএস প্রতিষ্ঠাতা আরও বলেন, ‘তোমরা সময় নষ্ট করবে না। প্রতিটা মুহূর্ত কাজে লাগাও। আমরা তোমাদের সঙ্গে আছি। তোমরা সামনে চলো, যতদিন বিজয় না আসবে, আমরা তোমাদের সঙ্গে থাকব।’
সূফী মিজানুর রহমান বলেন, ‘যদি মনে কর মানুষের উপকার করবে, মানুষকে সাহায্য করবে; মনে রাখবে বিধাতা তোমাকে সাহায্য করবে। আর তুমি যদি শুধু তোমার কথা চিন্তা কর, মানুষের কথা চিন্তা না কর, তা হলে যত পিএইচডি অর্জন কর, যত বড় বিদ্বান হও, তোমার জীবনে পরিপূর্ণ কামিয়াব হবে না। জীবনে বড় হওয়ার একমাত্র মন্ত্র হলো- তুমি অপরের জন্য কী করছ। অপরের জন্য কী ভাবছ।’
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ক্যারিয়ার শুরু করেছিলাম ১০০ টাকা বেতন দিয়ে। ১৯৬৪ সালে নারায়ণগঞ্জে মাসে ১০০ টাকা বেতনে কর্মজীবন শুরু করেছি। আজ এত বড় সুন্দর প্রতিষ্ঠান করতে পেরেছি। তোমরা জীবনে যদি বড় হতে চাও, কামিয়াব অর্জন করতে চাও; অসহায় মানুষের সাহায্য কর, তাদের জন্য চিন্তা কর। ওদের ভালোবাস। তা হলে তোমাকে আল্লাহ অনেক বড় করবেন। আমরা লেখাপড়া শিখছি। জ্ঞান অর্জন করছি। আমাদের অহঙ্কার দূর করতে হবে। আমাদের আমিত্ব ত্যাগ করতে হবে। জীবনে যদি বড় হতে চাও, বিনয়ী মানুষ হতে হবে। অহঙ্কার, ঔদ্ধত্য, দুর্নীতি করলে সফলতা অর্জন করতে পারবে না। আমি তোমাদের জন্য এই বিদ্যাপীঠ তৈরি করেছি শুধু আক্ষরিক জ্ঞান নয়, সর্বপ্রথম তোমাদের ভালো মানুষ হতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘সময় নষ্ট করবে না। কারণ তোমার হাতে কত সময়, তুমি জানো না। যেটুকু সময় বিধাতা তোমাকে দিয়েছেন,
এক সেকেন্ড সময়কেও বাড়াতে পারবে না। এই পৃথিবীতে মানুষ কত বড় হয়েছে, সেটি নির্ভর করবে সময়কে কীভাবে কাজে লাগিয়েছে। তোমরা সময়কে কাজে লাগাও। শিক্ষকদের কথা শোন। কোনো অভাবে থাকবে না। আমরা তোমাদের সঙ্গে আছি।’
তিনি বলেন, ‘তোমরা নিজের প্রাণের আনন্দে বড় হও। তোমরা মানুষের কথা ভাব। মানুষের কথা চিন্তা কর। তোমরা অন্যকে বড় করবে। যে নিচে পড়বে তাকে ওপরে উঠাবে। যে অসহায় তাকে সহায় করবে। যে নির্গুণ, তাকে গুণী বানাবে। যে মূর্খ, তাকে বিদ্বান করবে।’
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক কম্পিউটার বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. এম কায়কোবাদ বলেন, ‘বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এই ধরনের ক্লাব সংস্কৃতির মাধ্যমে দক্ষতা-যোগ্যতা বাড়ছে।’
বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. আবু হাসান ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের স্যার এএফ রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ ইউআইটিএস বোর্ড অব ট্রাস্টিজের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. কেএম সাইফুল ইসলাম খান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সিরাজ উদ্দীন আহমেদ, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক আ ন ম শরীফ, সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মাজহারুল হক।
বিশ^বিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের উদ্যোগে এবং ইউআইটিএস কম্পিউটার ক্লাবের সহযোগিতায় দুই দিনব্যাপী এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে ছিল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা, ন্যাশনাল সাইবার ড্রিল, সেমিনার, কর্মশালা, পোস্টার প্রদর্শনী, হেকাথন, ফটোগ্রাফি, ইনডোর ও আউটডোর গেমসসহ নানা আয়োজন।


