প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
ছোলা, চিনি, পেঁয়াজ, ডাল, ভোজ্যতেল ও মুরগির দাম বাড়ছেই। সরবরাহ ঘাটতি না থাকলেও দাম বাড়ানো হচ্ছে। এদিকে সরকার নির্ধারিত দামে কোথাও বিক্রি হচ্ছে না ভোজ্যতেল। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে মুরগির দাম বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় এসব পণ্যের দাম আরও বেশি।
রমজান আসার আগেই তারা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়ে দেন, যাতে পরে এ নিয়ে আর প্রশ্নের মুখে পড়তে না হয়। এবারও রমজানের ঠিক আগে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বেড়ে গেছে।
চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা জানান, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে চিনির দাম বেড়েছে মনপ্রতি ১২০ থেকে ২০০ টাকা। একই সময়ের ব্যবধানে ছোলা মনপ্রতি ২০০ টাকা থেকে ৩০০ পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে পাইকারিতে প্রতি মন (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) চিনি বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ১০০ টাকা। এক সপ্তাহ আগে যা ছিল ৩ হাজার ৮৬০ টাকা।
এছাড়া এক সপ্তাহ আগে ছোলা বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৭০০ টাকায়। এখণ মনে ১০০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৯০০ টাকা। দীর্ঘদিন ধরে চিনির বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। চিনির সংকট এখনো কাটেনি। চাহিদা অনুযায়ী চিনির সরবরাহ না থাকায় বাড়ছে দাম। আবার অনেক আমদানিকারক ডলার সংকটের কারণে এলসি খুলতে পারছেন না। এ কারণে চিনির চাহিদা অনুযায়ী আমদানি নেই। তাই সংকট সহসাই কাটছে না।
সরকার নির্ধারিত দামে কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না চিনি। অতিরিক্ত দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যটি কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমান বাজারে চিনি সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা পর্যায়ে খোলা চিনি প্রতি কেজি ১১৮ টাকা। অথচ খুচরা দোকানগুলোতে প্যাকেট চিনি ১১০ থেকে ১১২ টাকা ও খোলা চিনি ১১৫ থেকে ১১৮ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এর চেয়ে অনেক বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে আখের লাল চিনি। মোড়কজাত এ ধরনের চিনি বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে।
পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে দুই সপ্তাহ আগে চায়না আদা ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি বিক্রি হলেও এখন দাম ঠেকেছে ২৩০ থেকে ২৪০ টাকায়। যা খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩শ টাকায়। পাশাপাশি ৯০ টাকায় বিক্রি হওয়া ভারতীয় আদা বিক্রি হচ্ছে ১০৫ টাকা। অন্যদিকে কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে চায়না রসুন ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া বাজারে আসা নতুন দেশি পেঁয়াজ ২৮ থেকে ৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। চালের দামে কোনো পরিবর্তন নেই। মোটা ব্রি-২৮ চাল ৬০ থেকে ৬২ টাকা কেজি, চিকন চাল মিনিকেট ৭০ থেকে ৭৫ টাকা ও নাজিরশাইল ৮০ থেকে ৮৫ টাকা।
তবে আটা-ময়দার দাম কিছুটা কমছে। দুই কেজির প্যাকেটে ২০ টাকা কমে আটা ১৩৫ ও ময়দার প্যাকেটে ১০ টাকা কমে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি দেশি মসুর ডাল ১৩০ টাকা ও আমদানি করা ডাল ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
চট্টগ্রামের শীতকালীন সবজির দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই। নগরীর কাঁচা বাজারগুলোতে প্রতি কেজি ফুলকপি ৩০, পেঁপে ২৫, বাঁধাকপি ২৫, লাউ ৩০, মিষ্টি কুমড়া ৪০, শিম ৪০, বেগুন ৩০, শালগম ৩০, শসা ৪০, মূলা ২৫, টমেটো ৩০ ও নতুন আলু ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারে প্রতি কেজি রুই ২৪০ থেকে ২৮০, কাতল ২৭০, কার্প ২২০ থেকে ২৫০, তেলাপিয়া ২০০, কই ২২০, মৃগেল ২০০, চিংড়ি ৫৬০, পোয়া ৪শ, রূপচাদা ৬শ; প্রতি কেজি ইলিশ ১ হাজার, কোরাল ৫৫০, পাবদা ৪শ, শিং ৫শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
দীর্ঘদিন স্থিতিশীল থাকার পরে আবারও বাড়ছে ব্রয়লার মুরগির দাম। গত দুদিনের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে কেজিতে ১০–১৫ টাকা পর্যন্ত। বিক্রেতারা বলছেন, মুরগির সরবরাহ সংকটের কারণে দাম বাড়ছে।
এদিকে মুরগির বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার ১০–১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৫৫–১৬০ টাকায়। এছাড়া সোনালী মুরগির কেজি ২৬০ টাকা এবং দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকায়। মুরগি বিক্রেতা সৈয়দ আলী বলেন, বাজারে মুরগির সরবরাহ ঘাটতি রয়েছে। মুরগির খাবারের দাম বাড়ার কারণে অনেকে পোল্ট্রি শেডে মুরগি তুলছেন না। যার ফলে চাহিদার সাথে যোগানের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবে মূলত দাম বাড়ছে।


