প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দৈনিক জন্ম নিচ্ছে ১২০-১৩০ শিশু। এরই মধ্যে গেল ৬ বছরে জন্ম নিয়েছে প্রায় দুই লাখ ৮০ হাজার শিশু।
ক্যাম্পে দায়িত্বরত স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছেন, অল্প বয়সে বিয়ে ও একাধিক বিয়েতে আবদ্ধ হওয়ায় রোহিঙ্গাদের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার সর্বাধিক।
একদিকে রোহিঙ্গাদের ঊর্ধ্বমুখী জন্মহার, অন্যদিকে নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডে সংযুক্ত হওয়া আর একেরপর এক বনভূমি ধ্বংস হওয়াতে চরম উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় আছেন স্থানীয়রা। ফলে রোহিঙ্গা সংকট দিনদিন তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে।
২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা। এদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যা ছিল বেশি। এর আগে ৯০-এর দশকেও অনেক রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল। সব মিলিয়ে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে বসবাস করছে ১৫ লাখের কাছাকাছি রোহিঙ্গা।
জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আশ্রয়শিবিরগুলোতে মোট পরিবার রয়েছে প্রায় আড়াই লাখের মতো। এর মধ্যে ৫২ শতাংশই শিশু।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কার্যালয় জানিয়েছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রতিদিন গড়ে জন্ম নিচ্ছে প্রায় ১২০-১৩০ শিশু। এরই মধ্যে গেল ছয় বছরে জন্ম নিয়েছে তিন লাখের কাছাকাছি।
উখিয়ার কুতুপালংয়ের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের মিডওয়াইফারি সুপারভাইজার আসমা আকতার বলেন, রোহিঙ্গারা জন্মনিরোধক পিল, কনডম ব্যবহার করতে চায় না। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি পদ্ধতিগুলো একদমই নিতে চায় না। কারণ রোহিঙ্গারা মনে করেন, সন্তান যত বেশি জন্ম নেবে মাথাপিছু রেশন তত বেশি হবে। এ জন্য রোহিঙ্গারা জন্মদানে বেশি আগ্রহী।
একই ক্যাম্পের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ডা. ফাতেমা আকতার বলেন, রোহিঙ্গাদের মধ্যে সন্তান জন্মদানের প্রবণতা অনেক বেশি। কারণ তাদের কোনো কাজ নেই। যেহেতু কোনো কাজ নেই সেহেতু তাদের বিনোদনের ব্যবস্থা হচ্ছে সন্তান নেয়া।
এদিকে কক্সবাজার জেলার মোট জনসংখ্যা প্রায় ২৬ লাখের মতো। এখন ক্যাম্পে বসবাসরত রোহিঙ্গারা কক্সবাজারের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকের বেশি। যা নতুন করে ভয়াবহ সংকট হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
উখিয়ার রাজাপালং ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গাদের যদি কন্ট্রোল করা না যায়, তাহলে দেশের জন্য বিষফোঁড়া তো হয়েছে, কিছুদিন পরে এ সমস্যা আরো বড় আকার ধারণ করবে।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্মহার বাংলাদেশিদের চেয়ে অনেকগুণ বেশি। এটি আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। পরিবার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে।


