Thursday, July 2, 2026
spot_img
Homeমুল পাতাহামাস ও পুতিনকে একযোগে পরাজিত করতে হবে : বাইডেন

হামাস ও পুতিনকে একযোগে পরাজিত করতে হবে : বাইডেন

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

গাজার শাসকগোষ্ঠী হামাস ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একই জিনিস। তারা উভয়ে গণতন্ত্রের দুশমন। তাদের জিততে দেওয়া যাবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বৃহস্পতিবার (১৯ অক্টোবর) হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক টেলিভিশন ভাষণে এসব কথা বলেছেন।

বাইডেন বলেন, হামাস ও পুতিন আমাদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন ধরনের হুমকি। কিন্তু তাদের মধ্যে বড় মিল আছে। তারা উভয়ে প্রতিবেশী দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করতে চায়।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেন, হামাসের মতো সন্ত্রাসী ও পুতিনের মতো স্বৈরাচারকে আমরা জিততে দিতে পারি না। জিততে দেবও না। এ ধরনের কোনো কিছু আমি হতে দেব না।

আজ শুক্রবার (২০ অক্টোবর) বাইডেন কংগ্রেসে প্রায় ১০ হাজার কোটি ডলারের জরুরি সহায়তার একটি বিল উত্থাপন করবেন। এ অর্থ আগামী এক বছরে ইউক্রেন, ইসরায়েল ও তাইওয়ানের জন্য ব্যয় করা হবে।

১০ হাজার কোটির মধ্যে ইউক্রেনের জন্য ৬ হাজার কোটি ডলার। ইসরায়েলের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলার।

প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েল সেনাবাহিনীকে নিয়মিতভাবে বছরে ৩২০ কোটি ডলার সহায়তা দেয়।

শুক্রবার উত্থাপন করতে যাওয়া জরুরি বিলকে বিদেশে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থরক্ষার জন্য অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন বাইডেন। তাই এ বিলকে সমর্থন করতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বাইডেন বলেন, ইসরায়েল ও ইউক্রেন আমাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্যই তাদের তহবিল দেওয়া দরকার। এটা একটা স্মার্ট বিনিয়োগ। এ বিনিয়োগ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের আগামী কয়েক প্রজন্ম ধরে নিরাপত্তা দেবে। তাই আপনারা সবাই আগামীকালের (২০ অক্টোবর) বিলকে সমর্থন করবেন।

হোয়াইট হাউসে ভাষণ দেওয়ার আগের দিন বুধবার (১৮ অক্টোবর) ইসরায়েল সফরে যান বাইডেন। সেখানে সর্বাত্মকভাবে ইসরায়েলের পাশে থাকার ঘোষণা দেন।

বাইডেনের সফরের আগের দিন মঙ্গলবার তেল আবিবে যান জার্মানির চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস। বৃহস্পতিবার (১৯ অক্টোবর) যান যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক। দুয়েক দিনের মধ্যে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁও ইসরায়েল সফরে যাবেন।

তা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রীসহ পশ্চিমা দেশের শীর্ষ নেতারা ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবিরামভাবে সফর করছেন। বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করছেন।

বাইডেনসহ পশ্চিমের শীর্ষনেতারা এত তাড়াতাড়ি ইসরায়েল সফর করছেন কেন, এটা নিয়ে নানা কথা শোনা যাচ্ছে। প্রথমত ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন জানাতে তাদের এ সফর। দ্বিতীয়ত যুদ্ধ যাতে আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে না পড়ে তা নিশ্চিত করতেই তারা নেতানিয়াহুর সঙ্গে সরাসরি দেখা করতে আসছেন।

৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পরপরই পূর্ব ভূমধ্যসাগরে যুদ্ধবিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ডসহ কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র। এ অঞ্চলের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমানও মোতায়েন করা হয়। এরপর সেখানে যুদ্ধবিমানবাহী দ্বিতীয় রণতরি পাঠানোর ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এ দুই রণতরিতে প্রায় ১০ হাজার সেনা রয়েছে।

তা ছাড়া ইসরায়েলের উপকূলে আরও ২ হাজার সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্য দিয়ে ইসরায়েল উপকূলে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা সংখ্যা দাঁড়াতে যাচ্ছে প্রায় ১২ হাজার।

উপকূলে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী মোতায়েনের উদ্দেশ্য— ইরান, লেবাননের হিজবুল্লাহ ও সিরিয়ার বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সতর্ক করা। ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধে তাদের জড়িয়ে পড়া থেকে বিরত রাখা।

কিন্তু ইসরায়েল গাজায় পূর্ণমাত্রায় স্থল অভিযান শুরু করলে যুদ্ধ বিস্তৃত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট সবাই। ইরান এ বিষয়ে বারবার হুঁশিয়ারি দিচ্ছে।

নেতানিয়াহু ইতোমধ্যে ভয়ংকর প্রতিশোধ, হামাসকে নিশ্চিহ্ন করার হুমকি দিয়েছেন। সীমান্তে ৩ লাখ ৬০ হাজার সেনাসমাবেশ করেছেন। যুদ্ধ পরিচালনার জন্য জরুরি সরকার গঠন করেছেন। উত্তর গাজা থেকে ১১ লাখ ফিলিস্তিনিকে সরাতে বারবার নির্দেশ দিচ্ছে ইসরায়েল, যা যুদ্ধাপরাধ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইওভ গ্যালান্ট শিগগির গাজা অভিযান হতে পারে বলে জানিয়েছেন।

সূত্র : গার্ডিয়ান, আল-মনিটর, আলজাজিরা

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়