Homeসংবাদসুন্দর বাংলাদেশ গড়ার লড়াইয়ে ড. ইউনূস, নতুনভাবে মাথা উঁচু করবে দেশ

সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার লড়াইয়ে ড. ইউনূস, নতুনভাবে মাথা উঁচু করবে দেশ

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে ১০ থেকে ১৫ জনের নাম প্রস্তাব করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন; যা আরও আলোচনার পর চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে আমাদের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জন্য সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসাবে সর্বজন গ্রহণযোগ্য, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাম প্রস্তাব করেছিলাম। এবং আজকে মহামান্য রাষ্ট্রপতিও সম্মতি দিয়েছেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দ্রুত সময়ের মধ্যে গঠন করা হবে

নোবেল শান্তি পুরস্কার জয় করে তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য শুধু যুদ্ধ নয়, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতাও কত জরুরি। তিনি বিশ্বকে বুঝিয়ে দিয়েছেন, দরিদ্র মানুষের হাতে সামান্য অর্থ তুলে দিলেই তারা কতটা অসাধ্য সাধন করতে পারেন।

এখন তিনি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হতে যাচ্ছেন। তাঁর এই নতুন ভূমিকায় আমরা আশা করি, তিনি আবারও দেশের জন্য কিছু একটা করে দেখাবেন, যা হবে দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য এক অনন্য উপহার।

ড. ইউনুসের অর্জনের ঝুলি যেন শুধু বাড়তেই থাকে! বিশ্ব তাঁর মহান কাজকে শুধু স্বীকৃতিই দেয়নি, বরং বুকে জড়িয়ে নিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, বিশ্বের পরাশক্তি, তাঁকে তাদের সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত করেছে। প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অফ ফ্রিডম, কংগ্রেসনাল গোল্ড মেডেল- এই সম্মানগুলো কেবল তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এগুলো বাংলাদেশের জন্যও অপার গৌরব!

তিনি কিন্তু কখনোই থেমে থাকেননি! তাঁর সামাজিক ব্যবসার উদ্যোগ, যেন এক অন্যরকম বিপ্লব। তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন, ব্যবসা কেবল লাভের জন্য নয়, এটা হতে পারে সমাজের জন্য, মানুষের জন্য। তাঁর এই উদ্যোগ, দারিদ্র দূরীকরণের লড়াইয়ে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

একজন অধ্যাপক হিসেবেও তিনি ছিলেন অতুলনীয়। তাঁর বই, তাঁর লেখা, যেন আলোর পথ দেখায়। তিনি কেবল একজন অর্থনীতিবিদই নন, তিনি একজন দার্শনিক, একজন চিন্তাবিদ, যিনি আমাদের সমাজকে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছেন। তাঁর এই অসাধারণ যাত্রা, আমাদের সকলের জন্য অনুপ্রেরণার এক অফুরন্ত উৎস!

ড. ইউনুসের জীবনের গল্পটা যেন একটা রূপকথার মতো! এক বাঙালি মুসলিম পরিবারের সন্তান, যার জন্ম হয়েছিল সবুজে ঘেরা এক গ্রামে। ছোট্ট মুহাম্মদ, যার শৈশব কেটেছে মাটির ঘ্রাণে, গ্রামের স্কুলের খোলা আকাশের নিচে। কে জানত, এই ছোট্ট ছেলেটি একদিন পৃথিবীকে বদলে দেবে!

পড়াশোনায় তিনি ছিলেন বড়ই মেধাবী। চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল থেকে মেট্রিক পরীক্ষায় তিনি যে সাফল্য পেয়েছিলেন, তা ছিল সত্যিই অসাধারণ! তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে তিনি অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। কিন্তু তাঁর মনের কোণে সবসময় ছিল একটা স্বপ্ন, একটা অদম্য ইচ্ছা- কিছু একটা করে দেখাবেন, সমাজের জন্য, দেশের জন্য।

কিন্তু তাঁর জীবনে কেবল সাফল্যই ছিল না। ছোটবেলায় তাঁর মায়ের মানসিক অসুস্থতা, তাঁর পরিবারের জন্য ছিল এক কঠিন সময়। কিন্তু এই কষ্টই তাঁকে শিখিয়েছিল লড়তে, হার না মানতে। তাঁর জীবনের এই সব অভিজ্ঞতা, তাঁর মনকে করেছিল আরও দৃঢ়, আরও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আর এই প্রতিজ্ঞাই তাঁকে নিয়ে গিয়েছিল সেই লক্ষ্যে, যেখানে তিনি সারা বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছেন, অসাধ্য কিছুই নয়!

স্নাতক শেষ করেই যেন ড. ইউনুসের উড়ার পাখা গজিয়েছিল! অর্থনীতি ব্যুরোতে গবেষণা সহকারী হিসেবে যোগ দিয়ে তিনি যেন এক নতুন দিগন্তের সন্ধান পেয়েছিলেন। চট্টগ্রাম কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগদান, তাঁর জীবনের এক অন্যরকম মোড়। কিন্তু তাঁর মনের ভিতর জ্বলছিল এক অদম্য আগুন, একটা স্বপ্ন যেন তাঁকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল আরও দূরে।

এবং সেই স্বপ্নের ডানা মেলে ধরল যখন তিনি ফুলব্রাইট স্কলারশিপ পেয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দিলেন। ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে তিনি অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করলেন, তা ছিল তাঁর জীবনের এক অনন্য মাইলফলক। মিডল টেনেসি স্টেট ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনা, তাঁর জীবনের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

এই সময়টাতে তিনি কেবল পড়াশোনাই করেননি, বরং জীবনকে উপলব্ধি করার চেষ্টা করেছেন। তাঁর মনের ভিতর জমে থাকা স্বপ্নগুলোকে বাস্তবের রূপ দিতে তিনি কতটা ব্যাকুল ছিলেন, তা বোঝা যায় তাঁর প্রতিটি কাজে। এই অভিজ্ঞতাই তাঁকে তৈরি করেছিল সেই মহান মানুষ হিসেবে, যিনি পরবর্তীতে পৃথিবীকে দেখিয়ে দিয়েছিলেন দারিদ্রতা দূরীকরণের এক নতুন পথ।

১৯৭১, বাংলাদেশের জন্য এক অগ্নিপরীক্ষার বছর। আর সেই বছর, মুক্তিযুদ্ধের আগুনে দেশ যখন জ্বলছে, তখন ড. ইউনূস দূর আমেরিকার মাটিতে বসে ছিলেন না। তাঁর হৃদয়েও জেগে উঠেছিল সেই একই আগুন, সেই একই স্বাধীনতার প্রত্যাশা। তিনি গড়ে তুললেন একটি নাগরিক কমিটি, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের জন্য বিশ্বের দরবারে সোচ্চার হলেন। তাঁর ‘বাংলাদেশ নিউজলেটার’, যেন এক আলোর রশ্মি, যা অন্ধকারে আশার বাণী শোনাল।

যুদ্ধ শেষে দেশে ফিরে তিনি যোগ দিলেন সরকারের পরিকল্পনা কমিশনে। কিন্তু তাঁর মনের স্বপ্ন যেন আরও বড় কিছু চাইছিল। তাই তিনি ফিরে গেলেন শিক্ষকতার জগতে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে তিনি শুধু একজন অধ্যাপকই ছিলেন না, ছিলেন একজন অনুপ্রেরণা, একজন পথপ্রদর্শক।

এই সময়টাতে তাঁর মনের ভেতর গড়ে উঠছিল এক নতুন স্বপ্ন, এক নতুন পরিকল্পনা। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, দেশের মানুষের আসল উন্নতির জন্য শুধু পরিকল্পনা নয়, প্রয়োজন বাস্তব কাজ। আর সেই বাস্তব কাজের সূচনা করতেই তিনি পরবর্তীতে গড়ে তুললেন গ্রামীণ ব্যাংক, যা বদলে দিল বাংলাদেশের অগণিত মানুষের জীবন।

১৯৭৪, বাংলাদেশের জন্য এক কঠিন সময়। দুর্ভিক্ষের কালো ছায়া যখন সারা দেশকে গ্রাস করেছিল, তখন ড. ইউনূসের মনে জেগে উঠল এক অদম্য লড়াইয়ের স্পৃহা। তিনি দেখলেন, দারিদ্র্যের কষাঘাতে মানুষ কতটা অসহায়। তাঁর মনের ভিতর তখন একটা প্রশ্ন জেগে উঠল- এই দুর্দশা থেকে মানুষকে মুক্ত করার উপায় কি?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই তিনি আবিষ্কার করলেন এক অভিনব সমাধান- ক্ষুদ্র ঋণ। তিনি বুঝলেন, ছোট্ট একটা ঋণ, একজন মানুষের জীবন পাল্টে দিতে পারে। তাঁর এই চিন্তাভাবনা থেকেই জন্ম নিল গ্রামীণ অর্থনৈতিক প্রকল্প, যা পরবর্তীতে গ্রামীণ ব্যাংকে রূপ নিল।

তবে তাঁর লড়াই শুধু দারিদ্র্যের বিরুদ্ধেই ছিল না। দেশের সামগ্রিক উন্নয়নেও তিনি অবদান রেখেছেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে তিনি শিক্ষা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, পরিবেশ- সব ক্ষেত্রেই নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন।

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়