প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
সাত মাসের দ্বাদশ সংসদের চট্টগ্রামের সংসদ সদস্যদের (এমপি) মাথায় ঝুলছে একাধিক মামলার হুলিয়া। নৌকার মাঝি কিংবা নৌকাবিরোধী প্রার্থী কেউই বাদ যাননি আসামির তালিকা থেকে। তাদের মধ্যে দুই এমপি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জালে আটকা পড়লেও বাকি ১৪ জনই রয়েগেছেন অধরা। সাবেক এমপিদের মধ্যেও বেশ কয়েকজন গোপনে বিদেশে চলে গেছেন বলে নানা মাধ্যমে খবর বেরিয়েছে। বাকিরা দেশেই আছেন। কেউ কেউ আড়ালে থেকেই ব্যবসা-বাণিজ্য সামলাচ্ছেন। পুলিশ বলছে, যাদের বিদেশ যাবার তথ্য নেই তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
গত ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬ আসনের মধ্যে ১২টি আসনেই আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা জয় লাভ করেন। তিনটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হন আবদুচ ছালাম (চট্টগ্রাম-৮), এম এ মোতালেব (চট্টগ্রাম-১৫) ও মুজিবুর রহমান (চট্টগ্রাম-১৬)। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের ছেড়ে দেওয়া একটি আসনে লাঙল প্রতীক নিয়ে জয়ী হন জোট শরিক জাতীয় পার্টির প্রার্থী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। সূত্র দেশ রূপান্তর।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হামলা, হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রামের বাইরে বিভিন্ন এলাকায় হওয়া একাধিক মামলায় আসামি করা হয় দ্বাদশ সংসদের চট্টগ্রামের সব এমপিকে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মামলার আসামি হয়েছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। এক ডজনের বেশি মামলা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের সাবেক এমপিদের মধ্যে চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) থেকে নির্বাচিত এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী ও চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসন থেকে নির্বাচিত এম এ লতিফ একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তবে তাদের দুজনের কাউকেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করেনি। গত ১২ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে পালানোর সময় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) হাতে ধরা পড়েন ফজলে করিম চৌধুরী। অন্যদিকে গত ৯ আগস্ট নগরীর পূর্ব মাদারবাড়ি এলাকায় একটি বাড়িতে অবস্থানকালে এম এ লতিফকে ঘেরাও করে স্থানীয় জনতা। পরে সেনাবাহিনীর টিম গিয়ে সেখান থেকে তাকে আটক করে নিয়ে যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, গ্রেপ্তার এড়িয়ে থাকা ১৪ সাবেক এমপির মধ্যে অন্তত পাঁচজন গোপনে বিদেশ পালিয়ে গেছেন। তাদের মধ্যে ড. হাছান মাহমুদ রয়েছেন বেলজিয়ামে। গত ১৯ ডিসেম্বর জার্মানিতে আওয়ামী লীগের বিজয় দিবসের একটি সমাবেশের মঞ্চে দেখা গেছে তাকে। ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী রয়েছেন ভারতে। সাবেক ভূমিমন্ত্রী ও চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা) আসন থেকে নির্বাচিত সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ রয়েছেন লন্ডনে। চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকু-) আসন থেকে নির্বাচিত এস এম আল মামুন ব্যাংকক এবং চট্টগ্রাম-৯ (ডবলমুরিং) আসন থেকে নির্বাচিত মহিউদ্দিন বাচ্চু ভারতে অবস্থান করছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
অন্যদের মধ্যে চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) থেকে নির্বাচিত জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদকে ৫ আগস্ট বঙ্গভবনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বৈঠকে উপস্থিত দেখা গেলেও পরে আর কোথাও দেখা যায়নি। চট্টগ্রাম-১-এর (মিরসরাই) এমপি মাহবুবুর রহমান রুহেল, চট্টগ্রাম-২-এর (ফটিকছড়ি) খদিজাতুল আনোয়ার সনি, চট্টগ্রাম-৩-এর (সদ্বীপ) মাহফুজুর রহমান মিতা ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। আবার কেউ কেউ আড়ালে থেকে নিয়মিতভাবে নিজস্ব ব্যবসা-বাণিজ্য তদারকি করছেন।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) রাসেল বলেন, সাবেক এমপিদের মধ্যে বিভিন্ন মামলায় যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে, তারা সবাই গা ঢাকা দিয়েছেন। জেলা পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান চলমান রেখেছে। জেলা ডিবির টিমও এ বিষয়ে কাজ করছে।


