মঙ্গলবার, মে ২৬, ২০২৬
spot_img
Homeএই মুহুর্তেপ্রতিটি কন্যাশিশুর স্বপ্নপূরণে রাষ্ট্রকে সঙ্গী করব

প্রতিটি কন্যাশিশুর স্বপ্নপূরণে রাষ্ট্রকে সঙ্গী করব

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘প্রতিটি কন্যাশিশু যে স্বপ্ন দেখে, সেই স্বপ্নপূরণের পথে রাষ্ট্রকে আমরা তার সঙ্গী করব, প্রতিবন্ধক নয়। আসুন আমরা প্রতিটি কন্যাশিশুর স্বপ্ন দেখার, শেখার, নেতৃত্ব দেওয়ার এবং মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকারকে উদযাপন করি।’

গতকাল শনিবার আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী স্বাক্ষরিত এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণীতে তারেক রহমান বলেন, একজন কন্যাসন্তানের বাবা হিসেবে তিনি জানেন, মেয়েদের ক্ষমতায়ন কেবল নীতির বিষয় নয়, বরং এটি একটি ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতার বিষয়।

তাঁর ভাষায়, ‘আমাদের স্বপ্ন এমন একটি দেশ গড়া, যেখানে প্রতিটি মেয়ে সেই একই স্বাধীনতা, সুযোগ ও নিরাপত্তা পাবে, যা প্রতিটি অভিভাবক নিজের সন্তানের জন্য কামনা করেন।’

তিনি বলেন, বিএনপি সরকারের রয়েছে জীবন বদলে দেওয়ার ঐতিহ্য এবং সুযোগ পেলে আরো অনেক কিছু করার অঙ্গীকারও রয়েছে। উদাহরণ উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে তৈরি পোশাকশিল্পের বিকাশ ঘটে, যার মাধ্যমে লাখ লাখ নারী আনুষ্ঠানিক কর্মজীবনে প্রবেশ করেন। তিনি আয়, মর্যাদা ও স্বাধীনতা অর্জনের সুযোগ পান।

তাঁর নেতৃত্বেই গঠিত হয়েছিল ‘মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়’, যার লক্ষ্য ছিল নারী ও কন্যাশিশুদের জীবনের মানোন্নয়নকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া।

তারেক রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে মেয়েদের শিক্ষা একটি অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়, বিশেষ সুবিধা হিসেবে নয়। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত মেয়েদের জন্য শিক্ষা করা হয় সম্পূর্ণ বিনা খরচে। ‘শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য’ ও ‘শিক্ষার জন্য নগদ সহায়তা’ কর্মসূচির মাধ্যমে লাখ লাখ মেয়ে স্কুলে থাকতে পেরেছে।

এতে বদলে গেছে বহু পরিবারের ভাগ্য, গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী ও সচেতন নারী সমাজ।
তিনি আরো বলেন, ফিমেল সেকেন্ডারি স্কুল অ্যাসিস্ট্যান্স প্রজেক্টের মাধ্যমে দেশে প্রথমবারের মতো মাধ্যমিক শিক্ষায় লিঙ্গসমতা অর্জিত হয় এবং শিশু বিবাহের হার কমে আসে। এই প্রকল্পটি পরে বিশ্বব্যাপী মেয়েদের শিক্ষা ও ক্ষমতায়নের একটি সফল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পায় এবং বহু উন্নয়নশীল দেশে অনুসরণ করা হয়।

তারেক রহমান জানান, বিএনপির ভবিষ্যৎ নীতিমালায় নারীদের জন্য কয়েকটি নির্দিষ্ট অঙ্গীকার রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—

নারী গৃহপ্রধানদের নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু, যাতে সহায়তা পৌঁছায় পরিবারগুলোর প্রকৃত স্তম্ভের হাতে।

নারী উদ্যোক্তাদের জন্য এসএমই ঋণ, প্রশিক্ষণ ও অর্থ সহায়তা, যাতে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়।

মেয়েদের জন্য শক্তিশালী একাডেমিক ও কারিগরি শিক্ষা, যাতে শহর বা গ্রামের প্রত্যেক মেয়ে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পায়।

নীতিনির্ধারণে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত, রাজনীতি, প্রশাসন ও নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে নারীর উপস্থিতি বাড়ানো।

মেয়েদের মর্যাদা ও স্বাধীনতার সুরক্ষা, যাতে তারা ভয়হীনভাবে চলাফেরা করতে পারে, মত প্রকাশ করতে পারে এবং ডিজিটাল মাধ্যমে সক্রিয় থাকতে পারে।

পরিবার ও সামাজিক কল্যাণকে নীতির কেন্দ্রে রাখা, স্বাস্থ্য, গ্রামীণ উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে নারীদের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া।

তারেক রহমান বলেন, এই পদক্ষেপগুলো দেখিয়েছে—যখন সুশাসন কন্যাশিশুর মর্যাদাকে সম্মান করে এবং তাদের ভবিষ্যতে বিনিয়োগ করে, তখন অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়।

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়