প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র তিন দিন বাকি থাকলেও রাজধানীর পশুর হাটগুলো এখনো প্রত্যাশা অনুযায়ী জমে ওঠেনি। তীব্র গরমে কেনাবেচা ব্যাহত হওয়ায় পশু বিক্রি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে খামারিদের মধ্যে।
রোববার (২৪ মে) রাজধানীর তেজগাঁও, কমলাপুর, পোস্তগোলা ও ভাটারাসহ কয়েকটি পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রাকে ট্রাকে গরু আসছে। দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে পশুর সংখ্যাও।
তবে বিক্রেতারা বলছেন, গরমের কারণে মানুষ হাটে কম আসছেন। আবার অনেকে শুধু দরদাম করেই ফিরে যাচ্ছেন।
তীব্র গরমে পশুর পাশাপাশি ক্রেতা-বিক্রেতারাও হাঁপিয়ে উঠছেন। খোলা মাঠে সারিবদ্ধভাবে বাঁধা পশুগুলোকে গরম থেকে বাঁচাতে পাইপ দিয়ে পানি ঢালা হচ্ছে, কেউ তালপাখা দিয়ে বাতাস করছেন।
হাটজুড়ে বসানো অস্থায়ী চাপকলগুলোতেও পানি নিতে ভিড় করছেন রাখালেরা। কেউ বোতলে পানি ভরছেন, কেউ বালতিতে। পরে সেই পানি গরুর শরীরে ঢেলে দেওয়া হচ্ছে। কোনো কোনো খামারি গরুর পাশে ছোট চার্জার ফ্যান বসিয়েছেন। আবার অনেকে হাতে তালপাখা নিয়ে বাতাস করছেন। দুপুরের দিকে রোদের তাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পশুগুলোর অস্থিরতাও বাড়তে দেখা যায়।
রাজধানীর তেজগাঁও পশুর হাটে পাবনা থেকে গরু নিয়ে এসেছেন খামারি মিজানুর রহমান। তিনি টিবিএসকে বলেন, “আমাদের গরুগুলোকে ঘাস খাওয়ানোর সুযোগ কম থাকে, ফিড বেশি খাওয়ানো হয়। এ কারণে বেশি গরম পড়লে গরুর নানা সমস্যা দেখা দেয়। শরীর দ্রুত গরম হয়ে যায়, হাঁপাতে থাকে, এমনকি হিট স্ট্রোকও করে। তাই এখন সারাক্ষণ পানি দিতে হচ্ছে, বাতাস করতে হচ্ছে। একটু অসাবধান হলেই বড় সমস্যা হয়ে যেতে পারে।”
কমলাপুর হাটের ব্যবসায়ী আবু বকর বলেন, “গরম এত বেশি যে গরুগুলো ঠিকমতো দাঁড়িয়ে থাকতেও পারছে না। বারবার পানি দিতে হচ্ছে। আমরা নিজেরাও কষ্ট করছি, কিন্তু পশুগুলোর কষ্ট আরও বেশি।”
সাইফুল ইসলাম নামের আরেক খামারি বলেন, “দূরের জেলা থেকে গরু আনার পর এই গরমে পশুগুলো দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ছে। আগের মতো খাবারও খাচ্ছে না। সারাক্ষণ পানি ও বাতাসের ব্যবস্থা করতে হচ্ছে।”
এবার হাটে ওঠা গরুর মধ্যে দুই থেকে আড়াই মণ মাংস হবে—এমন গরুর দাম হাঁকা হচ্ছে ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। আড়াই থেকে চার মণ ওজনের গরুর দাম দেড় লাখ থেকে দুই লাখ টাকা। চার থেকে ছয় মণ ওজনের গরুর দাম ২ লাখ ২০ হাজার থেকে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। আর ছয় মণের বেশি ওজনের গরুর দাম তিন লাখ টাকার বেশি চাইছেন ব্যবসায়ীরা।
ভাটারা হাটে গরু কিনতে আসা আকরাম হোসেন বলেন, “এবার হাটে গরুর দাম অনেক বেশি। গতবার যে গরু দেড় লাখ টাকায় কিনেছি, এবার সেটি ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার নিচে ছাড়ছে না। এক বছরে এত বেশি দাম বেড়ে গেলে তো সমস্যা।”
এদিকে ক্রেতা সমাগম এখনো তুলনামূলক কম। যারা আসছেন, তাদের বাজেটের সঙ্গে বিক্রেতাদের চাওয়া দামের মিল না হওয়ায় অনেকেই না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন।
তবে খামারিদের দাবি, ভুসি, খৈল ও খড়সহ গোখাদ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে গত বছরের তুলনায় এবার কোরবানির পশুর দাম বেড়েছে। যদিও ঈদের দুই-একদিন আগে বিক্রি বাড়বে বলে আশা করছেন তারা।
এদিকে, তেজগাঁও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট মাঠে হাজারো গরুর ভিড়ের মধ্যে আলাদা নজর কাড়ছে একটি উট। উঁচু গ্রীবার কারণে অনেকে সেটিকে ঘিরে ছবি তুলছেন। “মরুভূমির জাহাজ”খ্যাত প্রাণীটি গরমের মধ্যেও দর্শনার্থীদের কৌতূহলের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর দেশে কোরবানির পশুর সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি। এর বিপরীতে প্রস্তুত রয়েছে ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি পশু।


