প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
ডিপো থেকে ফিলিং স্টেশন পর্যন্ত জ্বালানি তেলের পরিবহন বা সরবরাহ কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য দেশের প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে একজন করে ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
শনিবার (২৭ মার্চ) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক অনলাইন সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রেস উইং থেকে সব ফিলিং স্টেশনের জন্য ট্যাগ অফিসার নিয়োগের এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিটি ফুয়েল স্টেশনের তদারকির জন্য একজন করে সরকারি কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। ডিপো থেকে ঠিক কী পরিমাণ জ্বালানি উত্তোলন করা হচ্ছে এবং উত্তোলিত সেই তেল শেষপর্যন্ত নির্ধারিত ফিলিং স্টেশনে পৌঁছাচ্ছে কি না, সেটি তদারকি করবেন তারা। সরকারের পক্ষ থেকে আশঙ্কা করা হচ্ছে, জ্বালানি তেল ফিলিং স্টেশনে না গিয়ে অন্য কোথাও সরিয়ে ফেলা হচ্ছে।
ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) এই ট্যাগ অফিসারদের নিয়োগ দেবে। মহানগরীর বাইরের জেলা ও বিভাগীয় শহরের পেট্রোল পাম্পগুলোর জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকরা ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করবেন। অন্যদিকে উপজেলা পর্যায়ে এই নিয়োগের দায়িত্ব পালন করবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও)।
মাঠ পর্যায়ে তদারকি জোরদার করা, অনিয়ম প্রতিরোধ এবং দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ও বণ্টন নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
অননুমোদিতভাবে জ্বালানি তেলের মজুদ রোধ, বিপণনে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে দেশের ৯টি জেলার ১৯টি ডিপোতে বিজিবি মোতায়েন করেছে সরকার।
আজ শনিবার (২৮ মার্চ) বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলামের সই করা এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে এবং মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রেক্ষাপটে অননুমোদিতভাবে জ্বালানি তেল মজুদের অপচেষ্টা দেখা যাচ্ছে। এসব অপচেষ্টা প্রতিরোধ, জ্বালানি তেল বিপণনে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
ডিপোগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সদর দপ্তরের তত্ত্বাবধানে মোতায়েন কার্যক্রম সুপরিকল্পিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। ইউনিট সদর থেকে দূরবর্তী এলাকায় দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে নিরাপদ স্থানে অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করে বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
গত ২৫ মার্চ সকাল থেকে ঢাকা জেলায় ১টি, কুড়িগ্রামে ২টি, রংপুরে ৩টি, রাজশাহীতে ৩টি, সিলেটে ২টি, মৌলভীবাজারে ৩টি, কুমিল্লায় ৩টি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১টি এবং সুনামগঞ্জে ১টি ডিপোসহ মোট ৯টি জেলার ১৯টি ডিপোতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয় বার্তায়।
মোতায়েনকৃত সদস্যরা অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্পে একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে নিয়মিত তদারকি, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার কঠোর বাস্তবায়নে দায়িত্ব পালন করছেন। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার, অবৈধ জ্বালানি মজুদ ও বিক্রয় প্রতিরোধ এবং নাশকতা ঠেকাতে তাৎক্ষণিক ও কার্যকর ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।
দায়িত্বাধীন ডিপো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় রেখে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান নিশ্চিত করা হচ্ছে। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিজিবির দৃশ্যমান উপস্থিতির মাধ্যমে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং জনমনে আস্থা বৃদ্ধিতে কাজ করা হচ্ছে বলে জানানো হয়।
এছাড়া সীমান্ত দিয়ে জ্বালানি তেল পাচার প্রতিরোধে অতিরিক্ত টহল, নৌ টহল জোরদার, চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশি এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। আইসিপি ও এলসিপিগুলোতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানিতে ব্যবহৃত ট্রাক-লরিসহ বিভিন্ন যানবাহনে নিয়মিত তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।


