সোমবার, জুন ১, ২০২৬
spot_img
Homeচট্টগ্রামফটিকছড়িতে বিআরটিসি বাসের চাপায় বাবা-সন্তানের মর্মান্তিক মৃত্যু

ফটিকছড়িতে বিআরটিসি বাসের চাপায় বাবা-সন্তানের মর্মান্তিক মৃত্যু

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় সরকারি পরিবহন সংস্থা বিআরটিসি (BRTC) বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী এক বাবা ও তাঁর ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আজ সোমবার (১ জুন) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের আমতল এলাকায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর পরই ফটিকছড়ি থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘাতক বাসের চালককে আটক করতে সক্ষম হয়েছে।

এর আগে দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা ঘাতক বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং সাধারণ মানুষকে ঘটনাস্থলে আসতে বাধা সৃষ্টি করে। এমনকি ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে কয়েকজনের মোবাইল ফোনও ভেঙে ফেলে উত্তেজিত জনতা।

পরবর্তীতে পুলিশ ও যৌথ বাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং প্রায় ২ ঘণ্টা পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন—উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের ২নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর পাইন্দং গ্রামের আমতল সামাজিক এলাকার মোহাম্মদ শাহাজাহান (৪৫) এবং তাঁর ছেলে মোহাম্মদ আরিফ (২২)।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সকাল ৯টার দিকে ঘাতক বিআরটিসি বাসটি খাগড়াছড়ি থেকে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে চট্টগ্রামের দিকে আসছিল। পাইন্দং ইউনিয়নের আমতল এলাকায় পৌঁছালে বেপরোয়া গতির বাসটি প্রথমে সড়কে থাকা দুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে সজোরে চাপ দিয়ে পাশে ফেলে দেয়। এর পরপরই বাসটি সামনে থাকা মোটরসাইকেলটিকে পেছন থেকে প্রচণ্ড গতিতে ধাক্কা দেয়।

ধাক্কার তীব্রতায় মোটরসাইকেলটি দুমড়েমুচড়ে বাসের নিচে ঢুকে যায় এবং ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেলে থাকা বাবা ও ছেলে দুজনেরই মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে ফটিকছড়ি থানা পুলিশ এবং যৌথ বাহিনীর (সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী) সদস্যরা দ্রুত অতিরিক্ত ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাঁরা যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে বিক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরপর প্রশাসনের সহযোগিতায় বাসের আগুন নেভানো হয় এবং সড়ক থেকে পুড়ে যাওয়া বাস ও মোটরসাইকেলটি সরিয়ে নেওয়া হয়।

দুর্ঘটনার প্রায় ২ ঘণ্টা পর বেলা ১১টার দিকে মহাসড়কে পুনরায় যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। পুলিশ নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “পাইন্দংয়ের আমতল এলাকায় দুর্ঘটনায় দুজনের মৃত্যুর পর স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে বাসে আগুন দেয় এবং উত্তেজনা সৃষ্টি করে। পুলিশ ও যৌথ বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়