বুধবার, জুন ১৭, ২০২৬
spot_img
Homeএই মুহুর্তেচট্টগ্রামে শিশু আয়াত হত্যায় আসামি আবিরের মৃত্যুদণ্ড

চট্টগ্রামে শিশু আয়াত হত্যায় আসামি আবিরের মৃত্যুদণ্ড

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

বহুল আলোচিত শিশু আলিনা ইসলাম আয়াত অপহরণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি মো. আবিরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) চট্টগ্রাম মহানগরের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আলী আক্কাস এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় আসামি আবির আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ এবং নিহত শিশুর পরিবার।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, নগরের ইপিজেড থানাধীন নয়ারহাট ওয়াছমুন্সী বাড়ি এলাকার বাসিন্দা সোহেল রানার পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে আলিনা ইসলাম আয়াত ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে বাসার পাশের মক্তবে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়ে নিখোঁজ হয়।

পরে তদন্তে বেরিয়ে আসে, পরিবারের পরিচিত ও প্রতিবেশী মো. আবির আলী মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে আয়াতকে অপহরণ করেছিলেন। তবে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়ে তিনি শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।
এরপর লাশ খণ্ড-বিখণ্ড করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন। গ্রেপ্তারের পর আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেন।

তদন্ত চলাকালে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বটি, আয়াতের জুতা এবং বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করে। পরবর্তীতে আবিরের বাসা থেকে সংগ্রহ করা রক্তের নমুনার ডিএনএ পরীক্ষায় তা আয়াতের ডিএনএ’র সঙ্গে মিলে যায়। ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর আউটার রিং রোডের আকমল আলী ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে আয়াতের দুই পা এবং পরদিন খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করা হয়। তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের অক্টোবরে পিবিআই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি জালাল উদ্দিন বলেন, মামলায় ৩৩ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। আদালত পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছেন- ঘটনাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত, নিষ্ঠুর, নৃশংস ও সমাজে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, সুরতহাল প্রতিবেদন, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট, উদ্ধারকৃত আলামত এবং সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।

নিহত আয়াতের বাবা সোহেল রানা বলেন, ‘আমার মেয়েকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। আদালতের রায়ে আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি’।

মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কিশোরের বিরুদ্ধে শিশু আদালতে পৃথক বিচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়