প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
চট্টগ্রাম বন্দরে সদ্যসমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সামগ্রিক পরিচালন কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এ সময় কনটেইনার, কার্গো ও জাহাজ হ্যান্ডলিং—তিন সূচকেই প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে সমুদ্রবন্দরটি।
এছাড়া পরিচালন আয়ও বেড়েছে প্রায় ২৮ শতাংশ। পাশাপাশি কনটেইনারবাহী জাহাজের বন্দরে গড় অবস্থানকাল কমে আসায় পরিচালন দক্ষতা আরো শক্তিশালী হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) টার্মিনাল ম্যানেজারের কার্যালয় থেকে গতকাল প্রকাশিত তুলনামূলক এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছিল ৩২ লাখ ৯৬ হাজার টিইইউ (টোয়েন্টি-ফুট ইকুইভ্যালেন্ট ইউনিট), যা সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ লাখ ৩১ হাজার টিইইউতে। এ হিসেবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ লাখ ৩৫ হাজার টিইইউ অর্থাৎ ৭ দশমিক ১৩ শতাংশ।
কার্গো হ্যান্ডলিংয়েও একই ধারা লক্ষ করা গেছে। আগের অর্থবছরে ১৩ কোটি ৭ লাখ টন কার্গো হ্যান্ডলিং হলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে হয়েছে ১৩ কোটি ৮০ লাখ ৭২ হাজার টন। অর্থাৎ ৫ দশমিক ৬২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে এ খাতে।
জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রেও প্রবৃদ্ধি এসেছে। আগের অর্থবছরে ৪ হাজার ৭৭টি জাহাজ বন্দরে ভিড়েছিল, যা সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩৩৬টিতে। অর্থাৎ ২৫৯টি জাহাজ বেশি, প্রবৃদ্ধির হার ৬ দশমিক ৫ শতাংশ।
এদিকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বন্দরে কনটেইনারবাহী জাহাজের গড় অবস্থানকাল (টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম) ২ দশমিক ৫৮ দিন থেকে কমে সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৩৮ দিনে। এটি বন্দরের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে কনটেইনার ডোয়েল টাইম সামান্য বেড়েছে। আগের অর্থবছরে ৯ দশমিক ৩৯ দিন থেকে বেড়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে হয়েছে ৯ দশমিক ৫৫ দিন।
চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম মনিরুজ্জামান বলেন, ‘কনটেইনার, কার্গো ও জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ের পাশাপাশি আয়ও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। পাশাপাশি জাহাজের গড় অবস্থানকাল কমে আসায় বন্দরের কার্যক্ষমতা আরো উন্নত হয়েছে।’


