Friday, July 10, 2026
spot_img
Homeমুল পাতা‘প্রাণ আগে, ঘর পরে’ মানুষের নিরাপত্তাই সবার আগে : চট্টগ্রামের ডিসি

‘প্রাণ আগে, ঘর পরে’ মানুষের নিরাপত্তাই সবার আগে : চট্টগ্রামের ডিসি

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের আশঙ্কার মধ্যে বুধবার (৮ জুলাই) রাতে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকা ও আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। পরিদর্শনকালে তিনি আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষের হাতে শুকনো খাবার তুলে দেন এবং বারবার বলেন, ‘প্রাণ আগে, ঘর পরে।’

রাত প্রায় ৮টার দিকে কর্মকর্তাদের নিয়ে তিনি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পৌঁছান। কোথাও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন, কোথাও পাহাড়ের পাদদেশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। পরে লালখান বাজারসংলগ্ন পোড়া কলোনির ওয়াইডব্লিউসিএ কমিউনিটি স্কুল আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

ad-img

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত প্রায় চার দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য পাহাড়ধসে প্রাণহানি এড়াতে জেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক মাঠে কাজ করছে।

ad-img

এ সময় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকত, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, স্বাস্থ্য বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ad-img

আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত ১৬০ জনের মধ্যে রাতের খাবার, মুড়ি, চিড়া, গুড়, কেক, বিস্কুট, বিশুদ্ধ মিনারেল ওয়াটার ও ওরস্যালাইন বিতরণ করা হয়। জেলা প্রশাসক নারী, শিশু ও প্রবীণদের খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।

গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) তিনি আকবরশাহ এলাকার ১ নম্বর ঝিল, ২ নম্বর ঝিল, ৩ নম্বর ঝিল, বিজয়নগর ও শান্তিবাগ (পানির ট্যাংক এলাকা) পরিদর্শন করে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম তদারকি করেন।

আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, গত চার দিন ধরে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। বর্ষাকালে বৃষ্টি স্বাভাবিক হলেও এবার বৃষ্টিপাত গত প্রায় চার দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

তিনি বলেন, ‘সবার আগে আপনার জীবন, আপনার সন্তানের জীবন। আমরা জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই। পাহাড়ধসে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলে আবার তৈরি করা যাবে, কিন্তু একটি প্রাণ হারিয়ে গেলে তা আর ফিরে পাওয়া যাবে না।’

দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আশ্রয়কেন্দ্রে থাকার কারণে অনেকের কাজ বন্ধ রয়েছে, এতে সাময়িক কষ্ট হচ্ছে। তবে জীবন রক্ষার জন্য এই কষ্ট মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই।

তিনি বলেন, ‘এখানে থাকতে হয়তো কিছুটা কষ্ট হবে। কিন্তু নিরাপদে বাঁচতে এই কষ্ট আমাদের মেনে নিতে হবে। কেউ রাতের বেলা ঝুঁকি নিয়ে ঘরে ফিরবেন না। এই বৃষ্টিতে কখন পাহাড়ধস হবে, তা কেউ বলতে পারে না।’

ঘরবাড়ি নিয়ে উদ্বিগ্নদের আশ্বস্ত করে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রয়োজনে পুরুষ সদস্যদের জন্য ছাতার ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তারা গিয়ে বাড়ির অবস্থা দেখে আসতে পারেন। তবে নারী, শিশু ও বয়স্কদের কোনো অবস্থাতেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ফিরে না যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে। খাবারের কোনো সংকট হবে না। সবাই ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবিলা করলে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়া সম্ভব হবে।

দুর্যোগকালে গণমাধ্যমের ভূমিকাও তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, সাংবাদিকরা প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও মাঠে থেকে মানুষের দুর্ভোগ তুলে ধরছেন। এতে দ্রুত প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়া। দুর্যোগের সময় সবাই সবার পাশে দাঁড়াবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত ৩৩ হাজার ৬৭৩ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মারা গেছেন পাঁচজন এবং আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন।

ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর জন্য জেলার ৬২৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে বর্তমানে ১ হাজার ২২২ জন অবস্থান করছেন। ইতোমধ্যে ১ হাজার ২১০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে ২০০ মেট্রিক টন চাল এবং ৭ লাখ ৪১ হাজার টাকা মজুত রয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নির্দেশনা (এসওডি) অনুযায়ী জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে জরুরি সভাও সম্পন্ন হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, সোমবার রাত থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং করে মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে আহ্বান জানানো হচ্ছে। আগাম সতর্কতা, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যসেবা এবং সার্বক্ষণিক মাঠপর্যায়ের তদারকির মাধ্যমে সম্ভাব্য পাহাড়ধসে প্রাণহানি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনাই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।

এ ছাড়া সার্বক্ষণিক তদারকির জন্য নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু রাখা হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগরের চিহ্নিত ২৬টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়কে পাঁচটি জোনে ভাগ করে প্রতিটি জোনে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিশেষ টিম এবং প্রায় ১৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক দিন-রাত দায়িত্ব পালন করছেন।

এমএম/

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়