Homeএই মুহুর্তেকক্সবাজারে পর্যটকের মৃত্যুতে প্যারাসেইলিং পরিচালক গ্রেপ্তার

কক্সবাজারে পর্যটকের মৃত্যুতে প্যারাসেইলিং পরিচালক গ্রেপ্তার

প্রাইম ভিশন ডেস্ক

কক্সবাজারে পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় প্যারাসেইলিং প্রতিষ্ঠানের প্রধান মো. ফরিদকে (৪৫) ঢাকার মিরপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে র‌্যাব-১৫ কক্সবাজার ও র‌্যাব-৪ ঢাকার যৌথ অভিযানে মধ্য পীরেরবাগ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ফরিদের বাড়ি কক্সবাজার পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ বাহারছড়া এলাকায়। র‌্যাব জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল রাত সাড়ে ৯টার দিকে পীরেরবাগের আজাদ মিনি মার্কেট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ফরিদকে।

গত ১ আগস্ট দুপুরে কক্সবাজার সদরের দরিয়ানগর এলাকায় সৈকতে প্যারাসেইলিং করতে গিয়ে রশি ছিঁড়ে সাগরে ডুবে যান অক্ষর শৌভিক রায় (৩১)। পরে উদ্ধার করা হয় খুলনা থেকে যাওয়া এই যুবকের মরদেহ। এ ঘটনায় তার বোন মেধা মৃত্তিকা রায় সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। ‘ফ্লাই এয়ার সি স্পোর্টস প্যারাসেইলিং’ এর পরিচালক মো. ফরিদকে করা হয় মামলার প্রধান আসামি।

এজাহারে বলা হয়েছে, প্যারাসেইলিং পরিচালনায় নিরাপত্তাজনিত অবহেলা ছিল। দুর্ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দেরিতে উদ্ধারের পর সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে অক্ষরকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

র‌্যাবের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কক্সবাজার থেকে ঢাকায় পালিয়ে আত্মগোপনের কথা স্বীকার করেছেন ফরিদ। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থার জন্য তাকে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এসব জানিয়েছেন র‌্যাব-১৫ কক্সবাজারের সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) আ. ম. ফারুক।

অক্ষর শৌভিক রায়ের মৃত্যুর ঘটনা কক্সবাজারের পর্যটন খাতে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তোলে। অভিযোগ রয়েছে, বৈরী আবহাওয়ায় প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই প্যারাসেইলিং প্রতিষ্ঠানটি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল। দুর্ঘটনার পর প্রতিষ্ঠানটির মালিক আত্মগোপনে চলে যান এবং প্রশাসন প্যারাসেইলিংয়ের যন্ত্রপাতি জব্দ করে।

অক্ষরের ভগ্নিপতি আলিমুজ্জামান সিফাত বলেছিলেন, প্যারাসুটের দড়ি ছিঁড়ে যাওয়ার পর অক্ষর সাগরে পড়ে মারা যান। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে। তার ভাষ্য, প্রশাসনের পক্ষ থেকেই পরে বলা হয়েছে, অক্ষর যে প্যারাসেইলিংয়ে উঠেছিলেন সেটি অবৈধ ছিল। ‘যদি সেটি অবৈধই হয়ে থাকে, তাহলে সেটি কীভাবে পরিচালিত হচ্ছিল, সেই প্রশ্নের উত্তর প্রশাসনকে দিতে হবে।’

তিনি আরও বলেছেন, ‘মানুষ আনন্দ ও বিনোদনের জন্য কক্সবাজারে যায়। সেখানে বৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে ভেবে পর্যটকরা এসব সেবা গ্রহণ করেন। কিন্তু নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। সেই দায়িত্বে অবহেলার কারণেই এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। তাই কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও পর্যটন ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদেরও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।’

স্থানীয় সূত্র ও পর্যটনসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে একই প্রতিষ্ঠানের প্যারাসেইলিং থেকে ছিটকে সাগরে পড়ে, ঝাউবাগানে আটকে কিংবা বালুচরে আছড়ে পড়ে আহত হয়েছেন অন্তত ১৯ পর্যটক। এরপরও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ বা জবাবদিহি নিশ্চিত হয়নি।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়