রবিবার, এপ্রিল ১৯, ২০২৬
spot_img
Homeচট্টগ্রামখরচ ১০ হাজার কোটি, তাও ডুবে চাটগাঁ শহর

খরচ ১০ হাজার কোটি, তাও ডুবে চাটগাঁ শহর

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

চট্টগ্রামে ৯ হাজার ৮০০ কোটি টাকা খরচের পরও জলাবদ্ধতার ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাচ্ছে না নগরবাসী। ২০১৭ সাল থেকে এ নিয়ে কাজ শুরু করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক)।

৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও পরে কয়েক দফায় ব্যয় বাড়িয়ে এই প্রকল্পের খরচ দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৩৮৯ কোটি টাকায়। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ও পানি উন্নয়ন বোর্ড।

এরই মধ্যে প্রকল্পের প্রায় ৬৮ শতাংশ অর্থ খরচ হয়ে গেছে। কিন্তু মাঝারি কিংবা ভারি বৃষ্টিপাত হলেই নগরীর নিম্নাঞ্চল ডুবে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নগরীর সবকটি খাল-নালার কাজ শেষ হলেই জলাবদ্ধতা নিরসন সহনীয় পর্যায়ে আসবে।

সূত্র জানায়, জলাবদ্ধতা নিরসনে চারটি প্রকল্পের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৫ হাজার ৫৭ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্পে। কর্ণফুলী নদীর তীরে রাস্তা ও জলকপাট নির্মাণে চউক’র আরেকটি প্রকল্পে ব্যয় হয় ২ হাজার ৩২৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা। সিটি করপোরেশন বহদ্দারহাটের বাড়ইপাড়া থেকে বলিরহাট পর্যন্ত নতুন খাল খননের কাজে খরচ করেছে ১ হাজার ২৭০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ১৯৫ কোটি টাকা। জলাবদ্ধতা নিরসনে নগরীর ৩৬টি খালের সংস্কার করছে চউক। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হচ্ছে ৮ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা। আগামী বছরের জুনে এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে। প্রকল্পের অগ্রগতি এখন পর্যন্ত ৮৪ শতাংশ। এর মধ্যে ২৫টি খালের কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে। বাকিগুলোর মধ্যে ছয়টি খালের কাজ ৯০ শতাংশের বেশি শেষ হয়েছে। আর পাঁচটি খালের কাজ ৯০ শতাংশের নিচে। নগরীর কাতালগঞ্জ, পাঁচলাইশ ও মুরাদপুর এলাকা হিজড়া খাল ঘিরে। তবে আর্থিক সংকটসহ নানা কারণে মেগা প্রকল্পের অধীনে এ খালটির খনন ও সংস্কার কাজ শুরু করতে পারেনি চউক।

সোমবার সকাল ৯টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত ৬৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতে নগরীর কোনো কোনো সড়কে কোমরসমান পানি, আবার কোথাও হাঁটু পর্যন্ত পানি উঠে যায়। পানির কারণে যানবাহন না থাকায় সড়কে নৌকা দিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে নগরবাসীকে। কোথাও কোথাও বাসাবাড়িতে এবং ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানেও পানি প্রবেশ করে। জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েন এইচএসসি পরীক্ষার্থীসহ অফিসগামী ও কর্মজীবী মানুষ। এর আগে ৯ জুলাই সকাল ৯টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত ৩ ঘণ্টায় ৭০ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিতে তলিয়ে যায় নগরীর বেশ কিছু নিম্নাঞ্চল। একইভাবে ১৮ জুন সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ৩ ঘণ্টায় ৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিতেও ডুবেছিল নগরীর বিভিন্ন এলাকা। সেদিন সকালের অতি ভারি বৃষ্টিতে নগরীর চকবাজার, কাতালগঞ্জ, বাকলিয়া, হালিশহর, আগ্রাবাদ, জিইসি মোড়, তিন পোলের মাথা এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়