প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
শে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) প্রক্রিয়াকরণ ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে দুটি। এর মধ্যে একটি প্রায় তিন মাস ধরে বন্ধ। ফলে দৈনিক প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে, বেড়েছে ভোগান্তি। টার্মিনালটির মালিকানা সামিট গ্রুপের।
দেশে এমনিতেই গ্যাসের সংকট রয়েছে। এর মধ্যে এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ থাকার ফলে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে জ্বালানি বিভাগকে। সামিট গ্রুপ থেকে কয়েকবার ঘোষণা দিয়েও টার্মিনালটি সচল করতে পারেনি। এ অবস্থায় টার্মিনাল কবে চালু হবে, তা এক দিনের মধ্যে জানাতে সামিটকে কড়া চিঠি দিয়েছে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি (আরপিজিসিএল)।
চিঠিতে বলা হয়, সামিট গ্রুপের বিকল টার্মিনাল সচল করার যে প্রক্রিয়া, সেটা অদক্ষতার পরিচয়। টার্মিনালটি দীর্ঘসময় বিকল থাকায় দেশের অর্থনীতির ক্ষতি হচ্ছে। ফলে সামিটকে একদিনের মধ্যে জানাতে বলা হয়েছে, কবে নাগাদ টার্মিনাল মেরামত করে পুনঃস্থাপন করা যাবে। সামিটের পরিকল্পনা একদিনের মধ্যে জানাতে বলা হয়।
চিঠিতে আরও বলা হয়, টার্মিনালের মেরামতের কাজে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির অভাব লক্ষ করে যাচ্ছে, যা হতাশাজনক। এলএনজি টার্মিনাল বিকল হওয়ায় বিদ্যুৎ, সার এবং শিল্প খাতে গ্যাসের চাহিদা মেটানো যাচ্ছে না। এর ফলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
সর্বশেষ গ্রুপটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, আবহাওয়া ও সমুদ্র পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে আগস্টের শেষ নাগাদ ডিসকানেক্টেবল টারেট মুরিং (ডিটিএম) প্লাগ পুনঃস্থাপন ও পুনঃসংযোগ সম্পন্ন করা হবে। এরপর সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝিতে জাহাজ থেকে জাহাজে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জ্বালানি বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আমাদের সময়কে জানান, গত ২৬ মে সামিটের এলএনজি টার্মিনাল ঘূর্ণিঝড় রিমালের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে সেটাকে সিঙ্গাপুর নিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় মেরামত করতে। এরপর সামিট গ্রুপ থেকে জ্বালানি বিভাগকে কয়েকবার চালু করার কথা বললেও তা পারেনি।
তিনি বলেন, বিগত সরকারের কাছে সামিট অত্যন্ত প্রভাবশালী কোম্পানি হওয়ায় তারা যেভাবে বলত, আমাদের সে রকমই কাজ করতে হয়েছে। ফলে সামিটের বিরুদ্ধে যৌক্তিক পদক্ষেপও নিতে পারত না সরকার। সামিট যেভাবে চাইত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগকে সেভাবেই কাজ করতে হতো।
এই কর্মকর্তা বলেন, দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটি সামিটের। প্রায় তিন মাস ধরে বিকল থাকা অত্যন্ত অস্বস্তিকর। তবে পেট্রোবাংলাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সামিটকে চুক্তির বিভিন্ন ধারা ও উপধারা উল্লেখ করে চিঠি দিতে। যাতে খামখেয়ালি করার সুযোগ না পায়। এ কর্মকর্তা বলেন, প্রয়োজনে সামিটের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হবে।
বিষয়টি নিয়ে জ্বালানি বিভাগের সচিব মো. নুরুল আলম বলেন, পেট্রোবাংলাকে বলা হয়েছে সামিটকে চিঠি দিয়ে দ্রুত বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নিতে। তা না হলে চুক্তি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে জ্বালানি বিভাগ।
দেশে দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। দিনে সর্বোচ্চ সরবরাহ করা হয় ৩০০ থেকে ৩১০ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত। এর মধ্যে এলএনজি থেকে আসে ১১০ কোটি ঘনফুট। একটি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় এখন মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল থেকে দিনে এলএনজি সরবরাহ হচ্ছে ৬০ কোটি ঘনফুট। দিনে মোট গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে ২৬০ কোটি ঘনফুট। এতে শিল্পকারখানাসহ বিভিন্ন খাতে গ্যাসের সরবরাহ কমে গেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন কমায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে।


