প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে জাপানের ওপর দিয়ে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে উত্তর কোরিয়া। ২০১৭ সালের পর জাপানের ওপর দিয়ে উত্তর কোরিয়ার প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ এটি। মঙ্গলবারের এ ঘটনায় (স্থানীয় সময় সোমবার) জাপান সরকার একটি সতর্ক বার্তা জারি করে। এতে সবাইকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়। খবর বিবিসির।
মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রটি ৩ হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে হোক্কাইডো দ্বীপের কাছে প্রশান্ত মহাসাগরে পতিত হয়। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এদিকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এটিকে ‘হিংসাত্মক আচরণ’ বলে উল্লেখ করেছেন। এবং এ ঘটনার পর জাপান সরকার তার জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের একটি বৈঠক ডেকেছে।
উৎক্ষেপণটি জাপান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য পরিকল্পিত বলে মনে হচ্ছে, যারা মূলত উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনকে উপেক্ষা করে আসছে।
কোনো পূর্ব-সতর্কতা বা পরামর্শ ছাড়াই অন্য দেশের দিকে বা তার ওপর দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র চালানো আন্তর্জাতিক নিয়মের সম্পূর্ণ লঙ্ঘন।
এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও। উত্তর কোরিয়ার সিদ্ধান্তকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে বর্ণনা করেছেন পূর্ব এশিয়ার শীর্ষ মার্কিন কূটনীতিক ড্যানিয়েল ক্রিটেনব্রিঙ্ক।
এর আগে উত্তর কোরিয়া পূর্ব উপকূলীয় সাগরের দিকে দুটি স্বল্প পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানায়। গেল শুক্রবার পাঁচ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের নৌবাহিনী সাবমেরিন-ধ্বংসী এক ত্রিপক্ষীয় মহড়ায় অংশ নেয়, এর একদিন পর শনিবার উত্তর কোরিয়া পরীক্ষামূলকভাবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে বলে জানায় বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
এক বিবৃতিতে দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ জানায়, উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের উত্তরের সুনান থেকে দুটি স্বল্প পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। এগুলো ৬ মাখ গতিতে ৩০ কিলোমিটার উপর দিয়ে ৩৫০ কিলোমিটার দূরে গিয়ে পড়েছে।
জাপানের কোস্ট গার্ড জানায়, পিয়ংইয়ং অন্তত দুটি সম্ভাব্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে। সর্বোচ্চ ৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় ওঠার পর একটি ক্ষেপণাস্ত্র ৪০০ কিলোমিটার ও অপরটি ৩৫০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে বলে জাপানের প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী তোশিরো ইনো জানিয়েছেন।
ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার ঘটনায় জাপান কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েছে বলে ইনো জানান। ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা এড়ানোর জন্য ক্ষেপণাস্ত্র দুটি সম্ভবত ‘অনিয়মিত গতিপথ’ ধরে উড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগের সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়া সফর করেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। হ্যারিসের সফরের আগে-পরেও পরীক্ষামূলকভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে উত্তর কোরিয়া। চলতি বছর রেকর্ড গতিতে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাচ্ছে পিয়ংইয়ং।
দেশটি গণ্য করার মতো একটি পারমাণবিক শক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্র দেশগুলোর জন্য ক্রমাগত হুমকি হয়ে উঠছে বলে ধারণা পশ্চিমা বিশ্লেষকদের।
পিয়ংইয়ং ২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছিল।
যুদ্ধে ব্যবহার করার মতো অস্ত্র তৈরির চেষ্টা হিসেবে উত্তর কোরিয়া পরীক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া বৃদ্ধি করেছে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের। পাশাপাশি ইউক্রেইনের যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে চলা বিভ্রান্তি ও অন্যান্য সংকটের সুযোগে তারা তাদের পরীক্ষাগুলো ‘স্বাভাবিক করে তোলার’ চেষ্টা করছে বলে মনে করছেন তারা।


