শুক্রবার, জুন ১২, ২০২৬
spot_img
Homeএই মুহুর্তেএই সরকারকে হটাতে চাই : ড. মোশাররফ

এই সরকারকে হটাতে চাই : ড. মোশাররফ

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘এই সরকারকে হটাতে চাই; হটাতে না পারলে যত রকমের অন্যায়-অনাচার-অত্যাচার আছে, তা দূরীভূত করতে পারব না। গণতন্ত্র না থাকলে কোনো সেক্টরই সুন্দরভাবে চলতে পারে না। গণতন্ত্রকে হত্যা করে আওয়ামী লীগ প্রমাণ করেছে। তারা স্বাধীনতার পরে বাকশাল প্রতিষ্ঠা করে, এখন আবার করেছে। অতএব, এই বাংলাদেশকে উদ্ধার করতে হবে।’

আজ বৃহস্পতিবার বিকালে গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বড়দিন উপলক্ষে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন ড. মোশাররফ। অনুষ্ঠানে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার উপস্থিতিতে বাইবেল পাঠের পর খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সদস্যদের নিয়ে বড়দিনের কেক কাটেন বিএনপি নেতারা। পরে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়কে বড়দিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য দেন তারেক রহমান।

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আশা করি, আমরা বাংলাদেশের সব মানুষ, খ্রিষ্টান, হিন্দু, বৌদ্ধ, মুসলমান সকলে মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রিয় মাতৃভুমিকে উদ্ধার করব। জনগণের কাছে দেশের মালিকানা ফেরত দিতে পারব। আজকে আমাদের সামনে একটাই চ্যালেঞ্জ- তা হচ্ছে জনগণ রাষ্ট্রের মালিক, তাদের হাতে বাংলাদেশের মালিকানা ফেরত দেওয়া।’

বিএনপি ঘোষিত রাষ্ট্র মেরামতের ২৭ দফা রূপরেখা প্রসঙ্গ টেনে খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘১৬ নম্বর দফায় আছে- ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। এই নীতির ভিত্তিতে প্রত্যেক ধর্মাবলম্বী নিজ নিজ ধর্ম পালনের পূর্ণ অধিকার ভোগ করবে। আমাদের দলের গঠনতন্ত্রের ২ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা আছে ধর্মীয় বিশ্বাস এবং ধর্মপ্রিয়তা বাংলাদেশি জাতির এক মহান চিরঞ্জীব বৈশিষ্ট্য। আমরা সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।’

মতবিনিময় সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের যে ২৭ দফা দিয়েছেন, সেখানে সবার প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। আমরা যদি সবাই মিলে এই সরকারকে হটাতে পারি; তাহলে আপনাদের সবাইকে নিয়ে একযোগে রাষ্ট্রের সব ধরনের মেরামতের কাজ করা হবে। মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা গণতন্ত্র, দেশকে সেই গণতান্ত্রিক চেতনায় ফিরিয়ে আনা হবে।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘যে পর্যন্ত না দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসে, এ পর্যন্ত না মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সফল হবে, না ধর্ম বিশ্বাসের চেতনা সফল হবে। কোনো ধর্ম অত্যাচার-অন্যাচার সহ্য করে না। কোনো ধর্ম হত্যা, গুম, অন্যায় এবং জুলুমকে সহ্য করে না। কিন্তু এই সরকার যারা ক্ষমতায় আছে, তারা এসব করছে। যদি কেউ সত্যিকারের ধর্ম বিশ্বাসের অনুসারী হন, তাহলে তার দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায় এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। এ অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য আমাদের একযোগে লড়াই করতে হবে।’

দলটির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘যারা সেক্যুলাকারের কথা বলে, সবাইকে ইনক্লুসিভ রাজনীতির পথে আসার কথা বলে, তারা রাষ্ট্র থেকে ধর্মকে বাইরে রাখতে চায়। কিন্তু বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ- এখানে সবধর্ম এবং বর্ণের মানুষ অন্তর্ভূক্ত। অর্থাৎ বহুত্ববাদের গণতান্ত্রিক রাজনীতি। বিএনপির পক্ষ থেকে রাষ্ট্র মেরামতের যে রূপরেখা দেওয়া হয়েছে, সেখানেও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে রেইবো নেশনের কথা বলা হয়েছে। দেশে-বিদেশে বিএনপির পক্ষ থেকে স্পষ্ট ধারণা দেওয়া হয়েছে।’

বাংলাদেশ খ্রিষ্টান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যালবার্ট পি কস্টা বলেন, ‘ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কোনো ধর্মের মানুষ নিরাপদ নয়। এদেশে জঙ্গি বলতে কিছু ছিল না। কৃত্রিমভাবে বাইরের মদদে এসব সৃষ্টি করা হয়েছে; পশ্চিমা বিশ্বের কাছেও বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে গেছে।’

অ্যালবার্ট পি কস্টার সভাপতিত্বে এবং সুব্রত চৌধুরীর পরিচালনায় এতে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, বিএনপি নেতা অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, বিজন কান্তি সরকার, বাংলাদেশ খ্রিষ্টান অ্যাসোসিয়েশনের জেলা নেতাদের মধ্যে শীবল রিবেরু, শশধর দ্রং, জন জেদ্রা, মার্শেল এন চিরান, মৃগেন হাগিদক, যোয়েল আন্তণী চৌধুরী, জর্জ ওয়াশিংটন, পবিত্র প্রামানিক, মন্টু পিটার রোজারিও, অনিল লিও কস্তা, শ্যামল রঞ্জন ভৌমিক, নিতাই কুমার সাহা প্রমুখ।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়