প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
তিন মাস অন্তর অন্তর কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের দানবাক্সগুলো খোলা হয়। এবারও একই সময় পর খোলা হলো ঐতিহাসিক এ মসজিদের দানবাক্সগুলো। আটটি বাক্সে এবার দানের ২৩ বস্তা টাকা জমেছে। শনিবার (১৯ আগস্ট) সকাল ৭টায় দানবাক্সগুলো খোলা হয়। এখন চলছে টাকা গণনার কাজ।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক কাজী মহুয়া মমতাজের তত্ত্বাবধানে দানবাক্সগুলো খোলা হয়েছে। আটটি দানবাক্স খুলে ২৩ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে। এখন গণনার কাজ চলছে। গণনা শেষে টাকার পরিমাণ জানা যাবে।’
তিনি জানান, টাকা গণনা কাজে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এটিএম ফরহাদ চৌধুরী, রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর শেখ জাবের আহমেদ, সিনিয়র সহাকারী কমিশনার (ভূমি) নাশিতা–তুল ইসলাম, তানিয়া আক্তার, নাবিলা ফেরদৌস, মাহমুদা বেগম সাথী, ফাতেমা–তুজ–জোহরা, মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি খলিলুর রহমান, রূপালী ব্যাংকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) রফিকুল ইসলাম, মাদ্রাসার ১৫০ জন ছাত্র, ব্যাংকের ৫০ জন স্টাফ, মসজিদ কমিটির ৩৪ জন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১০ জন সদস্য অংশ নিয়েছেন।
এছাড়া পরিদর্শনে এসেছেন জেলা প্রশাসক ও মসজিদ কমপ্লক্সের সভাপতি মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এটিএম ফরহাদ চৌধুরী, রুপালী ব্যাংকের ডিজিএম মনির উদ্দিন ভূঞা প্রমুখ।
তিন মাস পর পর কিশোরগঞ্জের এ মসজিদের দানবাক্সগুলো খোলা হয়। এবার খোলা হয়েছে তিন মাস ১৩ দিন পর। প্রতিবারই দানবাক্স খোলার পর ঐতিহাসিক মসজিদটি আলোচনায় আসে। বস্তা বস্তা টাকা গণনা দেখতে ভিড় জমান আশপাশ এলাকার মানুষজন। কেউ কেউ আসেন দূর দূরান্ত থেকে। এবারও হয়েছে তাই।
জেলা শহরের হারুয়া এলাকায় নরসুন্দা নদীর তীরে ৩ একরেরও বেশি জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত পাগলা মসজিদ কমপ্লেক্স। এর দানবাক্সগুলোতে নগদ টাকা ও বৈদেশিক মুদ্রা ছাড়াও ভক্তরা দান করেন স্বর্ণালঙ্কার। এছাড়া বাক্স খুললে মেলে আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ জানানো নানা চিরকুটও। যেখানে ‘আমার প্রিয়জনকে ফিরিয়ে দাও’, ‘হে আল্লাহ, আট বছরের দাম্পত্য জীবনে আজও সন্তানের মুখ দেখলাম না’, ‘হে গাফুরুর রাহীম, আমার ছেলের চাকরির ব্যবস্থা করে দাও’ এমন প্রার্থনা সংবলিত অসংখ্য চিরকুট মেলে। দীর্ঘকাল ধরে এভাবে কেউ প্রিয়জনের রোগমুক্তি কামনা করে, কেউ বা অন্যায়ের বিচার চেয়ে দানবাক্সে চিরকুট ফেলে আসছেন মানুষজন।
এছাড়াও মসজিদে নিয়মিত হাঁস–মুরগি, গরু–ছাগলসহ বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র দান করেন অসংখ্য মানুষ।
এর আগে গত ৬ মে দানবাক্সগুলো খোলা হয়েছিল। ১৯টি বস্তায় তখন রেকর্ড পাঁচ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৮৯ টাকা এবং বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া গিয়েছিল।


