প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
দেশে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ১০ থেকে ২০ টাকা। এই মূল্যবৃদ্ধির মধ্যেই এলো পেঁয়াজ রপ্তানিতে ভারতের ৪০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার খবর। শনিবার (১৯ আগস্ট) দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ শুল্ক আরোপের কথা জানায়। তবে এতে বাংলাদেশের বাজারে কোনো ধরনের প্রভাব ফেলবে না বলে জানিয়েছেন কৃষি সচিব ওয়াহিদা আক্তার। অন্যদিকে, দেশে মসলাজাতীয় পণ্যটির দাম বেড়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক।
ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আগামী সেপ্টেম্বর মাসে পেঁয়াজের দাম বাড়তে পারে এমন সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে রপ্তানি শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এটি চলবে চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। তাতে আরও বলা হয়, দেশে পেঁয়াজের পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও এই বছর গ্রীষ্মের অত্যাধিক তাপের কারণে ভালো মানের পেঁয়াজ কম উৎপাদন হয়েছে।
এদিকে, পেঁয়াজের পাশাপাশি অন্যান্য সবজির উচ্চ মূল্যস্ফীতিও পণ্যটির দাম বাড়ার জন্য দায়ী বলে জানিয়েছেন দেশটির ব্যবসায়ীরা। ভারতের বার্ষিক খুচরা মূল্যস্ফীতি জুলাই মাসে ৭ দশমিক ৪৪ শতাংশে এসে ঠেকেছে, যা গত ১৫ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। আর জুন মাসে সেটি ছিল ৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ।
ভারত পেঁয়াজে রপ্তানিতে ৪০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা বাংলাদেশে কোনো ধরনের প্রভাব পড়বে কি না জানতে চাইলে কৃষি সচিব বলেন, আমাদের যথেষ্ট পেঁয়াজ মজুদ আছে। কৃষকরা পর্যায়ক্রমে তা বাজারে ছাড়ছেন। তা ছাড়া ৫ জুন থেকে এখন পর্যন্ত ১২-১৩ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সেখানে এ পর্যন্ত ৩ লাখ ৪৬ হাজার টন আমদানি হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় ১৩৩টি সংরক্ষণাগার তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে ৩ লাখ টন পেঁয়াজ সংরক্ষণের সক্ষমতা আছে।’
তিনি বলেন, দাম বৃদ্ধির কারণে কেউ যেন অতিরিক্ত পেঁয়াজ কিনে না রাখে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। কেননা এসব কারণে দাম বেড়ে যায়।
শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রিপন কুমার মন্ডল বলেন, ‘আমরা ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানি করে থাকি। সেক্ষেত্রে ভারতে ৪০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করায় আমাদের বাজারে প্রভাব পড়বে। সেজন্য আগে থেকেই বিকল্প বাজার খুঁজতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘ভারত থেকে যে ভালো মানের পেঁয়াজ আমদানি করা হয় তা ৩০-৩৫ টাকা কেজিতে আনা হয়। সেখানে অন্যান্য খরচ মিলে দেশে দাম বেড়ে যায়। এক্ষেত্রে সরকার ১০ শতাংশ ট্যারিফটি তুলে দিতে পারে। তাতে বাজারে দর কম থাকবে। তা ছাড়া সবাইকে সচেতন হতে হবে। দাম বেড়ে গেলেই কিনে মজুদ করতে হবে এমন চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।‘


