সোমবার, মে ১১, ২০২৬
spot_img
Homeএই মুহুর্তেআওয়ামী লীগের ৮২ শতাংশ প্রার্থীই কোটিপতি

আওয়ামী লীগের ৮২ শতাংশ প্রার্থীই কোটিপতি

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের মধ্যে ৫৭ শতাংশ প্রার্থীই ব্যবসায়ী। বিগত ১৫ বছরের ব্যবধানে ব্যবসায়ী প্রার্থীদের অংশগ্রহণের হার বেড়েছে ২১ শতাংশ। শুধু ব্যবসায়ী প্রার্থী নয়; বেড়েছে বছরে ১ কোটি টাকা আয় করেন এমন প্রার্থীর সংখ্যা। এবার নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ১৬৪ প্রার্থী বছরে কোটি টাকা আয় করেন। তবে কোটি টাকার কম আয় করেন এমন প্রার্থীর সংখ্যা ৬৫ দশমিক ৩০ শতাংশ। এ ছাড়াও এবার প্রায় ২৭ ভাগ প্রার্থী কোটিপতি (অস্থাবর সম্পদ মূল্যের ভিত্তিতে)। শত কোটিপতি প্রার্থী সংখ্যায় ১৮। সর্বোচ্চ কোটিপতির প্রদর্শিত সম্পদমূল্য ১ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা।

মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) রাজধানীর ধানমন্ডির ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) কার্যালয়ে টিআইবির আয়োজনে ‘নির্বাচনী হলফনামার তথ্যচিত্র: জনগণকে কী বার্তা দিচ্ছে’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানানো হয়।

এ সময় নবম, দশম, একাদশ ও‌ দ্বাদশ‌ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনে দেওয়া প্রার্থীদের হলফনামার বিশ্লেষণচিত্র তুলে ধরেন গবেষণা দলের প্রধান মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন।

তিনি জানান, দ্বাদশ নির্বাচনে ১ হাজার ৮৯৬ জন অংশগ্রহণ করছেন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ১৮ শতাংশ। যার সংখ্যা ৩৪৭ জন। আর দলীয় প্রার্থী ৮২ শতাংশ। বিগত চার নির্বাচনের তুলনায় এবার স্বতন্ত্র প্রার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। নবম সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিল ১৪০ জন, দশমে ১০৫ জন, একাদশে ১৩৪ জন।

আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা খুবই কম। এবার নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৫ দশমিক ১০ শতাংশ। পুরুষ ৯৪ দশমিক ৯০ শতাংশ।

১৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ প্রার্থী স্বশিক্ষিত

নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ১৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ প্রার্থীই স্বশিক্ষিত বলে উঠে এসেছে হলফনামা বিশ্লেষণে। প্রার্থীদের মধ্যে প্রায় ৫৭ শতাংশ প্রার্থী স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। এর মধ্যে স্নাতক সবচেয়ে বেশি ২৯ দশমিক ৪১ শতাংশ, স্নাতকোত্তর ২৭ দশমিক ৫৭ শতাংশ। আর উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছেন এমন প্রার্থীর সংখ্যা ১১ শতাংশ এবং মাধ্যমিক পাস করেছেন ৯ শতাংশের কিছু বেশি।

৫৭ শতাংশ প্রার্থী ব্যবসায়ী

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মধ্যে ৫৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ প্রার্থীর মূল পেশা ব্যবসায়ী। আইন ও কৃষিকাজকে পেশা হিসেবে দেখিয়েছেন যথাক্রমে ৯ দশমিক ১৭ এবং ৭ দশমিক ৮১ শতাংশ প্রার্থী। এরপরেই রয়েছেন চাকরিজীবী ৫ দশমিক ১৬ শতাংশ, শিক্ষক ৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ। রাজনীতিকে পেশা হিসেবে দেখিয়েছেন ২ দশমিক ৮৬ শতাংশ প্রার্থী। অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ২ দশমিক ৭১ শতাংশ, চিকিৎসক ২ দশমিক ১৯ শতাংশ, সাংবাদিক শূন্য দশমিক ৮৩ শতাংশ, গৃহস্থালি শূন্য দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং অন্যান্য ৬ দশমিক ৩০ শতাংশ।

আওয়ামী লীগের ৮২ শতাংশ প্রার্থীই কোটিপতি

আওয়ামী লীগে নবম নির্বাচনে মাত্র ২৭ ভাগের কিছু বেশি প্রার্থী ছিলেন কোটিপতি। ১৫ বছরের ব্যবধানে কোটিপতি প্রার্থীর সংখ্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২ ভাগে। এ ছাড়াও স্বতন্ত্র নির্বাচন করা প্রার্থীদের প্রায় ৪৭ ভাগই কোটিপতি।

এতে আরও জানানো হয়, দেশের আইন (ল্যান্ড রিফর্ম অ্যাক্ট: ২০২৩) একজন ব্যক্তির ভূমির মালিকানা পাবার সর্বোচ্চ সীমা (কৃষি জমির ক্ষেত্রে ৬০ বিঘা এবং অ-কৃষি জমিসহ যা ১০০ বিঘা পর্যন্ত যেতে পারে) বেঁধে দিলেও অনেক প্রার্থীর নামেই বড় আকারের ভূমির মালিকানা রয়েছে।

দ্বাদশ নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রায় ২৭ ভাগেরই ঋণ বা দায় আছে। যার মোট পরিমাণ প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার বেশি।

হলফনামার তুলনামূলক হিসাব বলছে, একাদশ সংসদের সদস্যদের কারও কারও আয় সর্বোচ্চ ২ হাজার শতাংশের বেশি বেড়েছে। পাঁচ বছরে এমপিদের আয় বেড়েছে গড়ে ২২৩৮ শতাংশ আর ১৫ বছরে এই হার ৭১১৬ শতাংশ। এ ছাড়াও পাঁচ বছরে এমপিদের নির্ভরশীলদের আয় বেড়েছে ২৪০৯ শতাংশ আর ১৫ বছরে এই হার ২৪০৯ শতাংশ।

এমপিদের সর্বোচ্চ সম্পদ বৃদ্ধির হার

পাঁচ বছরে এমপিদের সম্পদ বেড়েছে ৫৪৭০ শতাংশ আর ১৫ বছরে এই হার ২৪৫২১৩ শতাংশ। পাঁচ বছরে এমপিদের নির্ভরশীলদের সম্পদ বেড়েছে ৩৮৩০৪ শতাংশ।

মন্ত্রী/ প্রতিমন্ত্রীদের পাঁচ বছরে আয় বেড়েছে ২১৩৪ শতাংশ। আর পাঁচ বছরে সম্পদ বেড়েছে ১০৬৩ শতাংশ এবং ১৫ বছরে বেড়েছে ক্ষেত্রে ৬৩৫০ শতাংশ।

নির্বাচনী হলফনামার বিষয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘এবারের নির্বাচনের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বড় আকারে অংশগ্রহণ। সংখ্যার বিচারে যা গেল চার নির্বাচনের চেয়ে সবচেয়ে বেশি। যদিও এর বড় অংশই ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের মনোনয়নের বাইরে থাকা বা বিদ্রোহী প্রার্থী। কোনো দলই তিনশ আসনে প্রার্থী দেয়নি, তবে শতভাগ আসনেই কমপক্ষে এক বা অনেক ক্ষেত্রে একাধিক প্রার্থী হয় ক্ষমতাসীন দলের সদস্য বা সমর্থনপুষ্ট।

সংসদ সদস্যদের অস্বাভাবিক সম্পদ বৃদ্ধির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান সুলতানা কামাল বলেন, ‘আমাদের দেশের ভূমিহীন মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। দারিদ্র্যের স্তরও খুব বেশি বাড়াতে পারিনি। আমরা আসলে দুইটা সমাজ তৈরি করছি। যার মধ্যে একটা সমাজ অনেক সম্পদশালী, আরেকটা সমাজ দিন এনে দিন খায় অবস্থার মধ্যে আছে। অনেক সময় সেটাও জুটছে না। এরকম একটা পরিস্থিতি দেশে বিরাজ করছে। মন্ত্রী এমপিদের যে হারে সম্পদ বাড়ছে সেটা দেখে অনেক সময় নিজের কাছেই অবাস্তব মনে হয়। কিন্তু বাংলাদেশে এখন সম্পদের বৈষম্য থাকাটাই নিউ-নরমাল হয়ে গেছে। কিন্তু এটা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ভাবধারার বিষয় ছিল না। মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল সাম্যের জন্য।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়