বুধবার, মে ১৩, ২০২৬
spot_img
Homeএই মুহুর্তেগরমে হিট স্ট্রোক করলে কী করবেন?

গরমে হিট স্ট্রোক করলে কী করবেন?

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

প্রচণ্ড গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জারি করা হয়েছে হিট অ্যালার্ট। বিনা প্রয়োজনে ঘরের বাইরে বের হতে নিষেধ করা হচ্ছে। তবু জীবন আর জীবিকার তাগিদে বাইরে বের হতেই হয়। ঘরেও যে শান্তি তেমনটা নয়। রান্না করতে চুলার সামনে গেলেই যেন গায়ে ফোসকা পড়ছে।

মাত্রাতিরিক্ত গরমে বাড়ছে হিট স্ট্রোকের প্রবণতা। ইতোমধ্যে কয়েকটি জেলায় হিট স্ট্রোক করে প্রাণ হারিয়েছেন কিছু মানুষ। অনেকেই বুঝে উঠতে পারেন না এমনটা হলে কী করবেন? কিংবা কোন উপায়ে এই সমস্যা প্রতিরোধ করা যায়।

হিট স্ট্রোক কী?

প্রচণ্ড গরম আবহাওয়ায় যদি শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায় এবং শরীরের তাপমাত্রা ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট ছাড়িয়ে যায় তখন তাকে হিট স্ট্রোক বলে।

হিট স্ট্রোক এর কারণ কী

স্বাভাবিক অবস্থায় রক্ত দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। কোনো কারণে যদি শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে ত্বকের রক্তনালী প্রসারিত হয় এবং অতিরিক্ত তাপ পরিবেশে ছড়িয়ে দেয়। প্রয়োজনে ঘামের মাধ্যমেও শরীরের তাপ কমে যায়। কিন্তু প্রচণ্ড গরম ও আর্দ্র পরিবেশে বেশি সময় অবস্থান বা পরিশ্রম করলে তাপ নিয়ন্ত্রণ আর সম্ভব হয় না। ফলে শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত বিপদসীমা ছাড়িয়ে যায় এবং হিট স্ট্রোক দেখা দেয়।

হিট স্ট্রোক কেন হয়?

কড়া রোদ ও তীব্র দাবদাহে বেশি সময় ধরে থাকলে হিট স্ট্রোক হয়। এছাড়াও অতিরিক্ত গরমে কায়িক পরিশ্রম, ভারি কাজ, ব্যায়াম করলেও এই সমস্যা হয়ে থাকে। পর্যাপ্ত পানি বা তরল পানীয় পান করলে, শরীর ডিহাইড্রেড হয়ে গেলে, মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপান করলেও হিট স্ট্রোক হতে পারে। অনেকসময় গরমে বেশি ভারি পোশাক পরলেও এই জটিলতায় পড়তে পারেন।

 

হিট স্ট্রোক এর লক্ষণ

হিট স্ট্রোকের কিছু প্রাথমিক লক্ষণ হলো

মাথা ঝিমঝিম করা
শরীর ভীষণ দুর্বল হয়ে যাওয়া
বমি বমি ভাব ও খিচুনি
মতিভ্রম
মেজাজ খুব দ্রুত পরিবর্তিত হওয়া
অবসাদগ্রস্ততা
এছাড়াও হিট স্ট্রোক করলে দেহের তাপমাত্রা দ্রুত ১০৫ ডিগ্রিº ফারেনহাইট ছাড়িয়ে যায়। ঘাম বন্ধ হয়ে ত্বক শুষ্ক ও লালচে হয়ে পড়ে। নিশ্বাস দ্রুত হয়ে যায়। কমে যায় প্রস্রাবের পরিমাণ। রোগী শকে চলে যায়। এমনকি অজ্ঞানও হতে পারে।

হিট স্ট্রোক করলে করনীয়

কেউ হিট স্ট্রোক করলে দ্রুত তাকে কিছু প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া উচিত। বিশেষত হিট স্ট্রোকের আগে যখন হিট ক্র্যাম্প বা হিট এক্সহসশন দেখা দেয়, তখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারলে হিট স্ট্রোক প্রতিরোধ সম্ভব।

নিজে হিট স্ট্রোক করবেন মনে হলে করণীয়

দ্রুত শীতল কোনো স্থানে চলে যান। সম্ভব হলে ফ্যান বা এসি ছেড়ে দিন। রাস্তায় থাকলে কোনো শপিংমল বা

শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত দোকানে আশ্রয় নিন

ভেজা কাপড় দিয়ে পুরো শরীর মুছে ফেলুন। সম্ভব হলে গোসল করে ফেলুন

প্রচুর পানি ও খাবার স্যালাইন পান করুন। এই অবস্থায় চা বা কফি পান করবেন না। তাহলে শরীর আরও পানিশূন্য হয়ে পড়বে

যদি যদি হিট স্ট্রোক করেই ফেলে তাহলে রোগীকে অবশ্যই দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। ঘরে চিকিৎসা করার কোনো সুযোগ নেই। প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে যা করতে পারেন-

রোগীকে দ্রুত শীতল স্থানে নিয়ে যান

শরীরে কাপড় খুলে দিন বা বাঁধন হালকা করুন

শরীর পানিতে ভিজিয়ে দিয়ে বাতাস করতে থাকুন, এতে দেহের তাপমাত্রা কমবে

সম্ভব হলে কাঁধে, বগলে আর কুচকিতে বরফ দিন

রোগীর যদি জ্ঞান থাকে তাহলে তাকে খাবার স্যালাইন দিন

দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করুন

হিট স্ট্রোকে অজ্ঞান রোগীর শ্বাসপ্রশ্বাস এবং নাড়ি চলছে কি না সেদিকে সবসময় নজর রাখুন। প্রয়োজন হলে কৃত্রিমভাবে নিশ্বাস ও নাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা করতে হতে পারে।

হিট স্ট্রোক প্রতিরোধে যতটা সম্ভব রোদ এড়িয়ে চলুন। পর্যাপ্ত পানি পান করুন। বাইরে বের হলে পানি, ছাতা, সানগ্লাস, রুমাল ইত্যাদি সঙ্গে রাখুন। সরাসরি রোদের তাপে বেশি সময় থাকবেন না।

হিট স্ট্রোক সামান্য স্বাস্থ্য সমস্যা মনে হলেও এর কারণে জীবন বিপদাপন্ন হতে পারে। তাই সতর্ক থাকুন।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়