প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর ফোন চুরির ঘটনায় নয়জনকে গ্রেফতারের পর চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। চক্রটি বিভিন্ন সভা সেমিনারকে টার্গেট করতো। এরপর ভিড়ের মাঝে সুযোগ বুঝে ফোন চুরি করতো। পরে এসব চোরাই ফোন পাঠানো হতো চট্টগ্রামের রিয়াজ উদ্দিন বাজারে। সেখান থেকে ফোনগুলো চলে যেতো ভারত, দুবাই ও মালয়েশিয়ায়। এভাবে দেশের চোরাই ফোনগুলোকে দীর্ঘদিন থেকে বিদেশে পাচার করে আসছিল চক্রটি।
সম্প্রতি রাজধানীর কাফরুলের হাইটেক মেডিকেল কেয়ারের পেছন থেকে জাকির হোসেন (৪০), রাজিব খাঁন মুন্না (২২), মাসুম শরীফ (৪১), মো. আল আমিন মিয়া (২০), রাসেল (৩৮), মো. আনোয়ার হোসেন সোহেল (২৭), মো. বিল্লাল হোসেন (৩৭), মো. খোকন আলীকে (৩৬) ও জিয়াউল মোল্লা জিয়া (৪৮) গ্রেফতার করা হয়।
এসময় তাদের কাছ থেকে ৬৩টি মোবাইল উদ্ধার করা হয়।
বুধবার (৫ জুন) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।
তিনি বলেন, তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক সভা সমাবেশ, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন অনুষ্ঠান, হাট-বাজার, মসজিদ (নামাজের সময়), জানাযা নামাজ অথবা লোক সমাগম হয় এমন স্থানে উপস্থিত হয়ে দামি মোবাইল ব্যবহারকারীদের টার্গেট করে তাদের পকেট থেকে মোবাইল চুরি করতো। চোরেরা তাদের চোরাইকৃত মোবাইল ফোনগুলো গ্রেফতারকৃত জাকির হোসেন, রাসেল, খোকন আলী, বিল্লাল হোসেনসহ অজ্ঞাত ব্যক্তিদের কাছে বিক্রি করতো।
তিনি আরও বলেন, গ্রেফতারকৃত জাকির হোসেন তার ক্রয়কৃত মোবাইল ফোনগুলো কুরিয়ারযোগে চট্টগ্রামের রিয়াজ উদ্দিন বাজারের মোবাইল ব্যবসায়ী নজরুল ও কামরুজ্জমান হীরুদের কাছে পাঠিয়ে দিতো। পরে তারা অন্যদের সহযোগিতায় আইফোনসহ দামি মোবাইলগুলো ভারত, দুবাই মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পাঠিয়ে দিতো। এছাড়াও গ্রেফতারকৃত খোকন আলী ও বিল্লাল হোসেন মোবাইল সার্ভিসিংয়ের আড়ালে চোরাই মোবাইল কিনে লক খুলে এবং মূল আইএমইআই পরিবর্তন করে অধিক দামে পুনরায় লোকাল মার্কেটে বিক্রয় করে দিতো।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- ডিবি সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার তারেক আহমেদ, এডিসি ফজলুর রহমান ও ওয়েব বেইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের টিম ইনচার্জ এডিসি জনাব আশরাফউল্লাহ।


