প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কারফিউ উঠে যাওয়ার বিষয়ে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।
তিনি বলেন, ‘কারফিউ শিথিলের সময় বাড়ানো হচ্ছে, শিগগিরই জনজীবন আগের মতো হয়ে যাবে। চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার জট, অতিরিক্ত মাশুল আদায়, এনবিআরের কিছু বিষয়ে অসুবিধা এবং ব্যাংকের সুদহার ছাড় কিংবা বিলম্বে কিস্তি জমা দেওয়ার সুযোগ চেয়েছেন ব্যবসায়ীরা।’
রবিবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ভবনে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান সালমান এফ রহমান। মতবিনিময় সভায় চলমান পরিস্থিতিতে বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন পরামর্শ দেন তারা।
সভায় উপস্থিত ছিলেনÑ তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মাহবুবুল আলমসহ দেশের শীর্ষ শিল্প গ্রুপের প্রধান ও বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ীরা।
সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ব্যবসায়ীদের সমস্যাগুলো শুনতে আজকের মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সভায় তাদের কাছে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে চাওয়া হয়েছে। লিখিত আকারে খাতসংশ্লিষ্টদের ক্ষতির পরিমাণ জানাতে বলা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা অল্প সময়ের মাঝেই সকল খাতের ক্ষতির পরিমাণ লিখিতভাবে জানাবেন।’ তাদের তথ্য পাওয়ার পর বিশ্লেষণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
সালমান এফ রহমান বলেন, ‘ঢাকার বাইরে খুব বেশি ক্ষতি হয়নি। ঢাকা ও ঢাকার আশপাশের স্থান অর্থাৎ বৃহত্তর ঢাকার ব্যবসায়ীদের ওপর সাম্প্রতিক এই পরিস্থিতির প্রভাব বেশি। অন্য জেলাগুলোতে এর তেমন প্রভাব পড়েনি। তবুও ব্যবসায়ীরা লিখিতভাবে জানানোর পর আমরা সঠিকভাবে বলতে পারব।’
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনায় মোট পাঁচটি সমস্যা চিহ্নিত হয়েছে জানিয়ে সালমান এফ রহমান বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার জট, অতিরিক্ত মাশুল আদায়, এনবিআরের সঙ্গে কিছু বিষয়ে অসুবিধা ও ব্যাংকের সুদহার ছাড় কিংবা বিলম্বে কিস্তি জমা দেওয়ার সুযোগ চেয়েছেন ব্যবসায়ীরা।’
এ ছাড়া ইন্টারনেট ও বিদ্যুৎ-জ্বালানিতে সমস্যার কথা জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বাজেটে অনেক কিছুই এসেছে যাতে ব্যবসায়ীদের সমস্যা হতে পারে। সেটা সমাধান করা যেতে পারে। এসব সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে বৈঠক করা হবে বলে জানান এই উপদেষ্টা।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘ইন্টারনেটের জেনারেল সিস্টেমটা যদি নষ্ট হয়ে যায়, কোনো কারণে বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে ব্যবসায়ীদের জন্য স্ট্যান্ডবাই সিস্টেম করা যায় কি না, এমন পরামর্শ ব্যবসায়ীরা দিয়েছেন। যাতে ব্যবসাটা চলতে পারে। আগামীতে উদ্ভূত পরিস্থিতি এড়াতে ব্যবসায়ীরা আলাদা ইন্টারনেট চেয়েছেন। কারণ ইন্টারনেট ছাড়া এখন কোনো ব্যবসা সম্ভব না। এটা নিয়েও আলোচনা করা হবে।’
বৈদেশিক বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কি নাÑ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গুজব ও মিথ্যা কথা সোশ্যাল মিডিয়া-বাইরের মিডিয়ায় প্রচার হয়েছে। বাইরে আমাদের ইমেজ নিয়ে সমস্যা হয়েছে। এখন এটার পুনরুদ্ধারকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এজন্য প্রথমে আমাদের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। প্রধানমন্ত্রী যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ধীরে ধীরে আমরা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছি। সব স্বাভাবিক হলে ইমেজ ড্যামেজ অনেকটা রিকভার হবে।’
ব্যবসায়ীরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা এই পরিস্থিতি ওভারকাম করতে পারবেন। তারা সরকারকে সবধরনের সহায়তা করবেন।’ ব্যবসায়ীরা যেহেতু সরকারের পাশে থাকার কথা বলছেন, সরকারও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে থাকবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।
ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ‘বিজেএমইএর হিসেবে তাদের ৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। বিকেএমইও বলেছে তাদেরও ক্ষতি হয়েছে। তবে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনই বলা সম্ভব না। ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে ইতোমধ্যে আমাদের বিভিন্ন সংগঠন কাজ করছে। সরকার আমাদের কাছে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে চেয়েছে, আমরা সেভাবেই ক্ষতির হিসাব লিখিত আকারে জমা দেব।’
বিদেশি বায়ারদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আসলে যেভাবে বলা হচ্ছে বিদেশি বায়াররা অর্ডার ক্যান্সেল করছে, এ রকম কোনো তথ্য কিন্তু বিজিএমই, বিকেএমইএ আমাদের দেয়নি। আমার মনে হয় এটা রিউমার। সাপ্লাই চেইনে কোনো সমস্যা নেই। কিছুটা সমস্যা হয়েছে, তবে এখন কোনো সমস্যা নেই।’


