Monday, June 29, 2026
spot_img
Homeএই মুহুর্তেনাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত দিয়ে ঢুকছে মিয়ানমারের গরু

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত দিয়ে ঢুকছে মিয়ানমারের গরু

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

একসময় দেশে কোরবানির ঈদে পশুর চোরাচালান ছিল সাধারণ চিত্র। গত কয়েক বছর ধরে সীমান্ত দিয়ে দেশে পশু চোরাচালানের হার অনেকটাই কমেছে। যদিও বৈধ আমদানির পাশাপাশি মিয়ানমার থেকে কোরবানির ঈদ সামনে রেখে পশুর চোরাচালান অব্যাহত ছিল। এ বছর মিয়ানমারের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হওয়ায় টেকনাফ দিয়ে পশু চোরাচালান হচ্ছে না। তবে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি দিয়ে মিয়ানমার থেকে চোরাই গরু-মহিষের প্রবেশ বেড়েছে। এসব পশু বাংলাদেশে আসার পর স্থানীয়দের চোরাইকৃত পশুর মালিক সাজানো হয়। এরপর সেগুলো বাজারে বিক্রি করে চোরাকারবারি চক্র।

নিয়ম অনুযায়ী, স্থল বা নদীপথে দেশে গবাদিপশু আমদানি করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেয়া বাধ্যতামূলক। একই সঙ্গে রফতানিকারক দেশের অনুমতি নেয়াও বাধ্যতামূলক। এছাড়া আমদানি করা পশুকে কোয়ারেন্টাইনে রাখতে হয় অন্তত তিন-সাতদিন। এজন্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের বা ব্যক্তির নিজস্ব ও মানসম্মত কোয়ারেন্টাইন স্টেশন থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু চোরাই পথে আসা পশুর ক্ষেত্রে এসবের বালাই নেই। এতে স্থানীয় পশু পালনকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দেশীয় পশু ও মানবস্বাস্থ্যের ক্ষতির আশঙ্কাও থাকে।

সম্প্রতি বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি দিয়ে কক্সবাজারের রামু উপজেলায় চোরাই পশুর চালান আসছে সবচেয়ে বেশি। মূলত মিয়ানমার ও ভারতের অংশ থেকে বিভিন্ন সাইজের গরু ও মহিষ সীমান্তপথ দিয়ে অবৈধভাবে ঢুকছে। বাংলাদেশে আসার পরই এসব পশুকে বিভিন্ন অস্থায়ী খামারে রেখে দেশীয় গরু হিসেবে সাজানো হয়। এরপর স্থানীয়দের মালিক দেখিয়ে রামু উপজেলার একাধিক হাটে তোলা হয় এসব পশু। আবার কক্সবাজারের স্থানীয় জাতের গরু ঘোষণা দিয়ে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয় এসব গরু-মহিষ।

স্থানীয় একাধিক গরু খামারি ও ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, পশু চোরাচালান রুটগুলোর মধ্য রয়েছে নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের ফুলতলী পয়েন্ট থেকে পাহাড়ি পথে বামহাতির

ছড়া-দোছড়ি-মাঝির কাটা হয়ে জোয়ারিয়ানালা সড়ক। সেখান থেকে সড়কপথে ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাচার করা হয়। এছাড়া ফুলতলী-ভালুকখাইয়া সড়ক হয়ে পাহাড়ি পথ ব্যবহার করে চেলিরতাল-বালুরতাল-রোহিঙ্গা টিলা-বক্কর টিলা-কালা চাঁদের পথ (কালা চাঁদের বাড়ির সামনের পথ) দিয়েও বিপুল পরিমাণ মিয়ানমার ও ভারতের গরু-মহিষ আনা হয়। অন্যদিকে ভালুকখাইয়া হয়ে পাহাড়ি পথে তুলাতলী-কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের হাজীপাড়া হয়ে গর্জনিয়া বাজার পর্যন্ত হাঁটিয়ে গরু-মহিষ আনা হয়।

তবে সীমান্তপথে মিয়ানমার বা অন্য কোনো দেশ থেকে গরু চোরাকারবারের বিষয়টি সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে পারেননি নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি  বলেন, ‘সীমান্তে চোরাচালানের বিষয়ে বিজিবি সবচেয়ে ভালো বলতে পারবে। তাছাড়া উপজেলার নিয়মিত আইন-শৃঙ্খলা সভায় চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে আলোচনা ও নির্দেশনা দেয়া হয়। কোরবানির ঈদ উপলক্ষে চোরাই পথে গরু দেশে প্রবেশের অভিযোগ পেলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী উদ্যোগ নেবে।’

নাইক্ষ্যংছড়ি ১১ বিজিবি ব্যাটালিয়ন কমান্ডার রেজাউল করিম  বলেন, ‘সীমান্তকেন্দ্রিক অনানুষ্ঠানিক বাণিজ্য প্রতিরোধে বিজিবি তৎপর রয়েছে। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে টহল, চোরাচালান প্রতিরোধী কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে। বিজিবির তৎপরতায় নাইক্ষ্যংছড়ি দিয়ে ঈদ উপলক্ষে অবৈধভাবে পশু দেশে নিয়ে আসার বেশকিছু অপরাধ আমরা প্রতিহত করেছি। এর পরও সীমান্ত এলাকার নানান গ্রুপ এ ধরনের বাণিজ্যে যুক্ত হওয়ায় শতভাগ হয়তো নির্মূল করা যাচ্ছে না।’ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কোরবানির ঈদের আগে পশুসহ বিভিন্ন পণ্যের অবৈধ বাণিজ্য বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

 

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়