প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি আরো জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে পড়বে কিনা, সে বিষয়ে কার্যত অনিশ্চয়তা বজায় রেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা সীমিত বা নিঃশেষ করে দেয়ার ব্যাপারে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বারবার তার অঙ্গীকার ব্যক্ত করলেও যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ছাড়া তা সম্ভব নয় বলেই মনে হচ্ছে। কারণ, ইরানের ভূ-গর্ভস্থ ফোর্দো পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস করতে সক্ষম এমন কোনো বোমা নেই ইসরায়েলের কাছে। তবে সেরকম বোমা আছে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে।
বিশেষত, যুক্তরাষ্ট্রের গোপন অস্ত্রাগারের অন্যতম প্রধান উপাদান, ৩০ হাজার পাউন্ড ওজনের বাংকার বিধ্বংসী বোমা বহনে সক্ষম বি-২ বোমারু বিমানের মোতায়েন সংক্রান্ত কোনো নতুন তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এই বোমাগুলো ৬০ মিটার গভীর পাথরের মধ্যে ঢুকে বিস্ফোরণ ঘটানো এবং ৬ মিটার পুরু বাংকার ধ্বংস করতে সক্ষম। অন্যদিকে, ফোর্দো পারমাণবিক স্থাপনার মূল কক্ষগুলো মাটির নিচে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ মিটার (প্রায় ২৬০ থেকে ৩০০ ফুট) গভীরে অবস্থিত। তাই লক্ষ্য অর্জনে একাধিক বোমা ব্যবহার করা প্রয়োজন হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের বি-২ বোমারু বিমানের পরিসর প্রায় ৬ হাজার মাইল। তবে এগুলো সাধারণত কিছু নির্দিষ্ট ঘাঁটি থেকে চালানো হয়, যেমন—মিসৌরির হোয়াইটম্যান, ইংল্যান্ডের ফেয়ারফোর্ড এবং সবচেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে ভারত মহাসাগরের দ্বীপ দিয়েগো গার্সিয়া। গত অক্টোবরে হোয়াইটম্যান ঘাঁটি থেকে উড়ে হুতিদের পাঁচটি অস্ত্রাগারে হামলা চালিয়েছিল বি-২ বোমারু বিমান। তবে ফোর্দো থেকে দিয়েগো গার্সিয়ার দূরত্ব এক দিকে প্রায় ৩,২০০ মাইল। ফলে বোমাবর্ষণের পর ফিরে আসার পথে বিমানের জ্বালানি পূরণ দরকার হবে।
ফোর্দো ধ্বংসে সম্ভাব্য একমাত্র অস্ত্র হলো জিবিইউ-৫৭/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স পেনেট্রেটর, যা কেবল বি-২ বিমানেই বহনযোগ্য। পারমাণবিক বোমার বাইরে এটিই যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ভারী বোমা। ২০১০ এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এ ধরনের কেবল ২০টি বোমা ছিল বলে ধারণা করা হতো। তবে সাম্প্রতিক অনুমান অনুযায়ী এই সংখ্যা বেড়েছে।
ইসরায়েল শুক্রবার ইরানের ওপর হামলা শুরুর পর দেশটির আকাশসীমায় কার্যত আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করলেও ফোর্দোতে হামলা করেছিল কেবল প্রথম দিনেই। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা আইএইএ সোমবার জানায়, ফোর্দোর সমৃদ্ধিকরণ কেন্দ্রে কোনো ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ তারা পায়নি।
রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের বিমান বিশ্লেষক জাস্টিন ব্রঙ্ক বলেন, ফোর্দোর মতো একটি স্থাপনা ধ্বংস করতে বহুবার আঘাত প্রয়োজন হবে। তার মতে, প্রথম বোমার তৈরি গর্তের ভেতর দ্বিতীয় বোমার বিস্ফোরণ ঘটাতে হবে। হামলা করতে হবে এমন নিখুঁতভাবে।
একটি বি-২ বিমান দুটি বাংকার বিধ্বংসী বোমা বহন করতে পারলেও ফোর্দোর মতো স্থাপনাকে নিশ্চিহ্ন করতে একাধিক বোমারু বিমান দরকার হতে পারে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।
চলতি বছরের মে মাসে পাওয়া স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যায়, দিয়েগো গার্সিয়ায় ছয়টি বি-২ বোমারু বিমান মোতায়েন রয়েছে—যা যুক্তরাষ্ট্রের মোট ১৯টি বিমানের অর্ধেকেরও বেশি।
২০১৯ সালে নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এক দশক আগে পেন্টাগন ফোর্দোর একটি অনুরূপ মডেল তৈরি করে সেখানে ৩০ হাজার পাউন্ড ওজনের বোমা দিয়ে পরীক্ষামূলক হামলা চালায়। পরে ওবামা প্রশাসনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিয়ন প্যানেটা ইসরায়েলি নেতা এহুদ বারাককে সেই গোপন ভিডিও দেখান। প্রতিবেদনে বলা হয়, বোমাটি মরুভূমিতে নির্মিত স্থাপনাটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছিল।


