প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
চট্টগ্রাম শহরের প্রেক্ষাগৃহ : চট্টগ্রামে একমসয় ৩৯টি সিনেমা হল ছিল। এর মধ্যে নগরীতে ২৯টি, নগরীর বাইরে ছিল আরও ১০টি সিনেমা হল। এখন অবশিষ্ট আছে শুধুমাত্র ২টি।
নগরীর সিনেমা হলগুলো : লায়ন (সদরঘাট), রুঙ্গম (কোতোয়ালি), সিনেমা প্যালেস কেসিদে রোড), খুরশীদ মহল (লালদিঘী), উজালা (স্টেশন রোড), আলমাস (চট্টেশ্বরী), দিনার (চট্টেশ্বরী), জলসা (নিউমার্কেট), গুলজার (চকবাজার), নূপূর (স্টেশন রোড), মেলোডি (স্টেশন রোড), বনানী (আগ্রাবাদ), সানাই (বারিক বিল্ডিং), উপহার (আগ্রাবাদ), রিদম (আগ্রাবাদ), অলংকার (পাহাড়তলী), আকাশ (অলংকার), ঝুমুর (কাজির দেউড়ি), কর্ণফুলী (মোহরা), পূরবী (পাথরঘাটা), গুলশান (ঝাউতলা), রেলওয়ে নেভি হল (টাইগার পাস), গ্যারিসন (সেনানিবাস) পতেঙ্গা (নেভি হল), শাহীন (পতেঙ্গা বিমান বাহিনী), বিডিআর হল (হালিশহর), সাগরিকা (নেভি ফ্লিটক্লাব), ক্যান্টনমেন্ট (নতুন পাড়া), চাঁদনী (অক্সিজেন), সংগীত (্আতুরার ডিপো)।
শহরের বাইরে হলগুলো : গ্যারিসন (বিএমএ, ভাটিয়ারি), পরাগ (বাড়বকুণ্ড), রূপালি (চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়), ঝংকার (নাজিরহাট), বনশ্রী (পেপার মিল, রাঙ্গুনিয়া), বনলতা (রাঙ্গুনিয়া), বিডিআর (বাইতুল ইজ্জত, সাতকানিয়া), সবুজ (পটিয়া) ও ছন্দা (পটিয়া)।
কমলবাবু থিয়েটার থেকে লায়ন : চট্টগ্রামের প্রথম সিনেমা হল লায়ন এর অবস্থান ছিল সদরঘাটে হোটেল শাহজাহানের বিপরীতে। লায়ন প্রথমে কোন সিনেমা হল ছিল না। এটা চট্টগ্রামের এক জমিদার পরিবারের অধীনে কমলবাবু থিয়েটার নামে একটা অডিটোরিয়াম ছিল। ওই অডিটোরিয়ামে বাইরের বিশেষ কেউ এলে অনুষ্ঠান হতো। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকেও এই কমলবাবুর থিয়েটারে সংবর্ধনা দেয়া হয়। উদয় শংকরও ওই থিয়েটারে নাচের অনুষ্ঠান করে গেছেন। কমলবাবুর থিয়েটার পরে হাত বদল হয়ে আরেক জমিদারের কাছে যায়। তিনি তার বাবার নামে এটির নামকরণ করেন ‘বিশ্বম্ভর থিয়েটার’।
১৯৪৭-এর দেশভাগের পর ঢাকার চলচ্চিত্র প্রদর্শক আব্দুল কাদের সদ্দারের কাছে এই হল বিক্রি করে দেন। ওই সময় তাদের ঢাকায় আরেকটি সিনেমা হল ছিল। যার নাম ছিল লায়ন। ঢাকা সদরঘাটের ইসলামপুর এলাকায় এই হলটি এখনও চালু আছে। কিন্তু আগের পরিসর থেকে কিছুটা ছোট করে, নাম পরিবর্তন করে ‘লায়ন সিনেমাস’ নামে চলছে। সেই লায়নের নামেই বিশ্বম্ভর থিয়েটার হয়ে যায় ‘লায়ন সিনেমা হল’। এই লায়ন সিনেমা হল হয় ১৯২৬ সালে। লায়ন সিনেমা হল হওয়ার পর এটি অডিটোরিয়াম থেকে পূর্ণাঙ্গ সিনেমা হলে রূপ নেয়। এটি ১০-১২ বছর আগে বন্ধ হয়ে যায়। এভাবে একে একে প্রায় সিনেমা হল বন্ধ হয়ে গেছে। এখন অবশিষ্ট আছে মাত্র ২টি হল। কেনো বন্ধ হলো তা জানতে পড়তে হবে আগামী পর্ব।
সংশ্লিষ্টরা যা বলছেন : চট্টগ্রাম ফিল্ম ইনস্টিটিউটের সভাপতি শৈবাল চৌধুরী বলেন, ‘চট্টগ্রামে একসময় ৩৯টি সিনেমা হল ছিল। এরমধ্যে নগরীতে ২৯টি ও নগরীর বাইরে ছিল আরও ১০টি সিনেমা হল। এখন অবশিষ্ট আছে শুধু ২টি। নগরীর কাজির দেউড়ি এলাকার ঝুমুর (যা পরবর্তীতে নাম পাল্টে হয় সুগন্ধা) এবং কেসিদে রোডের সিনেমা প্যালেস এখনও চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে।’
লায়ন সিনেমা হল নিয়ে সদরঘাট এলাকার শুভ হেয়ার ড্রেসারের মালিক পিন্টু আক্ষেপের সুরে বলেন, ‘মনে হচ্ছে এইতো সেদিন সিনেমা দেখার জন্য কতো কতো লাইন। টিকিট না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে অনেকে। অনেকে তার পরের শো’র জন্য অপেক্ষা করছে।’


