প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
ছয় লেনের টোলভিত্তিক অ্যাকসেস কন্ট্রোল হাইওয়ে এবং দুই পাশে দুই লেনের সার্ভিস রোডসহ ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ককে ১০ লেনে উন্নীত করতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬২ হাজার কোটি টাকা। সরকার এখন এই বিশাল ফান্ড সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে। এক্ষেত্রে পাবলিক–প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি), বহুপাক্ষিক ঋণ এবং বৈদেশিক বিনিয়োগের বিভিন্ন মডেল পরীক্ষা–নিরীক্ষা করা হচ্ছে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের প্রাথমিক নকশা ও সম্ভাব্যতা যাচাই করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।
দেশের প্রধান অর্থনৈতিক করিডর হিসেবে বিবেচিত ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানবাহনের চাপ প্রতিদিন বাড়ছে। দেশের মোট আমদানি–রপ্তানি পণ্যের প্রায় ৮০ শতাংশ পরিবাহিত হয় এই সড়কে। চট্টগ্রাম বন্দরের সাথে ঢাকাসহ অন্যান্য অঞ্চলের সুষ্ঠু যোগাযোগ এই সড়কের উপর নির্ভরশীল। এই মহাসড়ককে দেশের লাইফ লাইন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০১৯ সালে এই সড়ক দিয়ে দৈনিক যানবাহন চলাচলের সংখ্যা ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। ২০২৪ সালে তা বেড়ে ৪৬ হাজার ছাড়িয়েছে। ২০৩০ সালে এই সংখ্যা ৭০–৮০ হাজারে পৌঁছাতে পারে। শিল্পকারখানার উৎপাদন, কাঁচামাল পরিবহন, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ এবং রপ্তানি প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে মহাসড়কটিকে ১০ লেনে উন্নীত করা হচ্ছে। প্রকল্পটিকে আধুনিক ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে প্রকল্পটিকে দেখছে পরিকল্পনাকারীরা।
২০১৬ সালে চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ শেষ হতে ব্যয় হয়েছিল সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি। এবার ব্যয় ধরা হয়েছে সেই অংকের প্রায় ১৬ গুণ। প্রধানত জমি উন্নয়ন, উড়াল ইন্টারচেঞ্জ ও মাল্টি–লেভেল ক্রসিংয়ের মতো আধুনিক অবকাঠামো অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় খরচ এত বেশি হবে বলে সওজ সূত্র জানিয়েছে।
ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের প্রায় ২৫০ কিলোমিটার অংশের ডান পাশে রাস্তা সম্প্রসারণ করার মতো অন্তত ৯০ শতাংশ জমির মালিকানা সওজের থাকলেও ভূমি উন্নয়ন, পুনর্বাসন, সেতু নির্মাণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক টোল সিস্টেম, নজরদারি ক্যামেরা, সড়ক নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য, মালবাহী যানবাহনের স্টেশন এবং জরুরি লেন যোগ হওয়ায় ব্যয় কমানোর সুযোগ খুব একটা নেই বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান। প্রকল্পে কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ, ফেনী, নরসিংদীসহ কয়েকটি জায়গায় ছোট–বড় প্রায় ২৮টি সেতু ও কালভার্ট পুনর্নির্মাণ করতে হবে।
এডিবির নকশায় বলা হয়েছে, এটি হবে পূর্ণাঙ্গ শুল্ক মহাসড়ক। অর্থাৎ ব্যবহারকারীকে টোল দিয়ে প্রবেশ করতে হবে এবং সার্ভিস রোড হয়ে সাধারণ যানবাহন বিচ্ছিন্নভাবে চলাচল করবে। মহাসড়কের কোথাও থাকবে না এলোমেলো ইউটার্ন বা সরাসরি প্রবেশপথ। থাকবে ছয়টি মাল্টি–লেভেল ফ্লাইওভার ক্রসিং, ২০টির বেশি উড়াল ইন্টারচেঞ্জ, তিন মিটার প্রশস্ত জরুরি লেন এবং আধুনিক মাল্টি–লেয়ার মনিটরিং প্ল্যাটফর্ম। ভয়াবহ যানজটের স্থান কাঁচপুর, সাইনবোর্ড, মেঘনা ও ভৈরব সেতু এলাকাকে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুতগতির করিডর তৈরি করা হবে। সওজ ইতিমধ্যে মহাসড়কের যানবাহন চলাচল, পণ্য পরিবহন, দুর্ঘটনা ও গড় গতি নিয়ে একটি বেসলাইন জরিপ করেছে, যেখানে দেখা গেছে যানজটের কারণে প্রতিদিন প্রায় ৮৫ কোটি টাকার সমপরিমাণ শ্রমঘণ্টা ও জ্বালানি অপচয় হচ্ছে।


