Tuesday, June 23, 2026
spot_img
Homeএই মুহুর্তেমমতাজিয়া দরবার শরিফ: সৌদির সঙ্গে মিল রেখে দুই শতাধিক গ্রামে ঈদ উদ্‌যাপন

মমতাজিয়া দরবার শরিফ: সৌদির সঙ্গে মিল রেখে দুই শতাধিক গ্রামে ঈদ উদ্‌যাপন

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান জাহাঁগিরিয়া শাহ সুফি মমতাজিয়া দরবার শরিফের অনুসারীরা সৌদির সঙ্গে মিল রেখে আজ শুক্রবার (২০ মার্চ) পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে থাকা অনুসারীরা দুই শতাধিক গ্রামে ঈদ উদ্‌যাপন করেন। সকাল ৯টায় দরবার শরিফের প্রধান মাঠ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় ঈদের জামাত। এতে ইমামতি করেন সৈয়দ মোহাম্মদ আলী শাহ। নামাজের আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘চাঁদ দেখা-সংক্রান্ত বিষয়ে কোরআন, সুন্নাহ, ফিকহ ও আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের সমন্বিত নির্দেশনা অনুসরণ না করায় দেশে রোজা ও ঈদ পালনে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।’

মোহাম্মদ আলী দাবি করেন, ‘পৃথিবীর যেকোনো স্থানে নতুন চাঁদ দেখা নিশ্চিত হলে তার ভিত্তিতেই সমগ্র বিশ্বে একই দিনে চান্দ্র মাস শুরু হওয়া উচিত। এতে রোজা, ঈদ ও কোরবানিসহ সব ধর্মীয় আমল একযোগে পালন করা সম্ভব হবে।’

দরবারের বড় শাহজাদা মাওলানা আহসান আলী বলেন, শরিয়তের দৃষ্টিতে দেশভেদে আলাদা দিনে চান্দ্র মাস শুরু করা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি কোরআনের সুরা আল-বাকারার ১৮৯ নম্বর আয়াত উদ্ধৃত করে বলেন, নতুন চাঁদ সমগ্র মানবজাতির জন্য মাস গণনার সূচক।

এ বিষয়ে তিনি হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘রোজা, ঈদ, কোরবানি—সবই মুসলিম উম্মাহকে একই দিনে পালন করতে হবে।’ তাঁর ভাষ্য, বর্তমান যুগে দ্রুত যোগাযোগব্যবস্থার কারণে বিশ্বব্যাপী একই দিনে ধর্মীয় অনুশীলন করা সম্ভব।

দরবারের আরেক শাহজাদা মাওলানা মতি মিয়া মনছুর জানান, তাঁদের অনুসারীরা প্রায় আড়াই শ বছর ধরে বিশ্বের যেকোনো দেশে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ঈদসহ সব ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করে আসছেন। বৃহস্পতিবার তাঁদের ৩০ রোজা পূর্ণ হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দরবার শরিফ সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম জেলার যেসব জায়গায় ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হয়, সেগুলো হলো—চন্দনাইশের পশ্চিম এলাহাবাদ, কাঞ্চননগর, মাইজপাড়া, জুনিঘোনা, আব্বাসপাড়া, দিঘিরপাড়া, কাঞ্চননগর স্টেশন, কেন্দুয়ারপাড়া, মাঝেরপাড়া, দক্ষিণ কাঞ্চননগর, সৈয়দাবাদ, খুনিয়ারপাড়া, হাশিমপুর, কেশুয়া, সাতবাড়িয়া, মোহাম্মদপুর, হারালা, বাইনজুড়ি, বরকল, বরমা, চৌধুরীপাড়া, কসাইপাড়া, ফকিরপাড়া, পটিয়ার মল্লাপাড়া, হাইদগাঁও, শ্রীমাই, কাগজিপাড়া, বিনানীহারা, শান্তিরহাট, কালারপুল, শিকলবাহা, চরকানাই, বাঁশখালীর জলদি, কালিপুর, গুনাগড়ি, গন্ডামারার মিঞ্জিরিতলা,সনুয়া, সাধনপুর, আনোয়ারার তৈলার দ্বীপ, বাথুয়া, বারখাইন, বোয়ালখালীর চরণদ্বীপ, খরনদ্বীপ, লোহাগাড়ার আমিরাবাদ, চুনতি, বরহাতিয়া, পুটিবিলা, উত্তর সুখছড়ি, আদুনগর, সাতকানিয়ার মির্জাখিল, বাংলাবাজার, মইশামুড়া, খোয়াছপাড়া, বাজালিয়া, কাঞ্চনা, গাঠিয়াডাঙ্গা, পুরাণগর, মলেয়াবাদ, রাঙ্গুনিয়ার পদুয়া, খুরুশিয়া গ্রাম। সীতাকুণ্ড, সন্দ্বীপ, মিরসরাই, হাটহাজারী, উখিয়া, বান্দরবান, আলীকদম এলাকায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বরিশাল অঞ্চলের যেসব গ্রামে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তার মধ্যে শাহ সুফি মমতাজিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, তাজকাঠি শাহ সুফি মমতাজিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ (২৩ নং ওয়ার্ড হাজীবাড়ি বরিশাল), আরজ আলী খান জামে মসজিদ, মৃধা বাড়ি, চৌধুরী বাড়ি, মুন্সি বাড়ি, জিয়া সড়ক, উত্তম নগর, দুয়ারী বাড়ি মাধব পাশা, সিকদার বাড়ি বাবুগঞ্জ, কেদারপুর বাবুগঞ্জ। এ ছাড়া আরও যেখানে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে—তালুকদার চর মেহেন্দিগঞ্জ, চর কেউটিয়া মেহেন্দিগঞ্জ, চাষি পতাং ডৌয়াতলা বাজার বরিশাল।

নারায়াণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা ডিসির মাঠে শুক্রবার ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

প্রতিবছরের মতো পটুয়াখালীর ৩৫ গ্রামে শুক্রবার ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়েছে; যেমন বাউফল, বগা, শাপলাখালী, দ্বিপাশা, কায়না, মদনপুরা, শাবুপুরা, ধাউরা ভাঙ্গা, গলাচিপা, গাবুয়া, নিশানবাড়িয়া, লালুয়া, রাংগাবালি, পশুরীবুনিয়া, ফুলখালী, সেনের-হাওলা, চরযমুনা, নিজহাওলা ও কোড়ালিয়া।

এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলায় পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে; যেমন দিনাজপুর, বোয়ালমারী, জামালপুর, কুড়িগ্রাম, মাদারীপুর, মৌলভীবাজার, ময়মনসিংহ, শেরপুর, সাতক্ষীরাসহ দেশের আরও কয়েকটি জেলায় দরবারের অনুসারীরা শুক্রবার ঈদের নামাজ আদায় করেন।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়