বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৬-এ স্বতন্ত্র ‘আবৃত্তি বিভাগ’ যুক্ত করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে আবৃত্তিশিল্পীদের পক্ষ থেকে বিষয়টি তুলে ধরা হলে তিনি এ আশ্বাস দেন।
এ সময় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমান, জাতীয় জাদুঘরের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান স্থপতি মেরিনা তাবসসুম, মহাপরিচালক তানজিম ওয়াহাবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং ‘বাংলাদেশ আবৃত্তিশিল্প রক্ষা কণ্ঠ’-এর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
একইসাথে উপস্থিত ছিলেন বাংলাভিশন টেলিভিশনের ব্যুরো প্রধান নাসির উদ্দিন তোতা, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সাজ্জাদ হোসেন, সিনিয়র রিপোর্টার প্রনবেশ চক্রবর্তী, সৈয়দ তাম্মিম মাহমুদ, রবিউল হোসেন এবং পিয়াল ঘোষসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীরা।
বাংলাদেশ আবৃত্তিশিল্প রক্ষা কণ্ঠের অন্যতম সংগঠক নাজমুল আলিম সাদেকী জানান, শিল্পকলা একাডেমির নতুন অধ্যাদেশে আবৃত্তি বিভাগ না রাখার বিষয়টি মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হলে তিনি তা গুরুত্বসহকারে শোনেন। পরে স্বতন্ত্র আবৃত্তি বিভাগ যুক্ত করার দাবি জানালে মন্ত্রী সম্মতি দিয়ে বলেন, “ঠিক আছে, যুক্ত হবে।” এ সময় সংশোধনের দাবিতে প্রস্তুত করা লিখিত বক্তব্যও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তিনি আরও বলেন, এটি আবৃত্তিশিল্পীদের জন্য আশার খবর। তবে অধ্যাদেশটি জাতীয় সংসদে পাস হওয়ার আগেই এতে স্বতন্ত্র আবৃত্তি বিভাগ যুক্ত করার দাবিতে সবাইকে সক্রিয় থাকার আহ্বান জানান তিনি। আবৃত্তিপ্রেমীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই দাবি বাস্তবায়ন সম্ভব এবং এজন্য সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতনতা ও প্রচার চালিয়ে যেতে হবে।
এর আগে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে ৬ মার্চ ‘বাংলাদেশ আবৃত্তিশিল্প রক্ষা কণ্ঠ সংগঠন’-এর ব্যানারে আবৃত্তিশিল্পীরা বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি-তে স্বতন্ত্র ‘আবৃত্তি বিভাগ’ অন্তর্ভুক্তির দাবিতে প্রতিবাদী আবৃত্তি ও সংবাদ সম্মেলন করেন। তারা বলেন, ২০২৬ সালের সংশোধিত অধ্যাদেশে বিভাগ সংখ্যা বাড়ানো হলেও আবৃত্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পমাধ্যমকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য হতাশাজনক।
বক্তারা জানান, নতুন অধ্যাদেশে সংগীত ও নৃত্যকে আলাদা বিভাগ করা হলেও ‘আবৃত্তি’ শব্দটির উল্লেখই নেই। অথচ আবৃত্তি কেবল কবিতা পাঠ নয়, এটি একটি স্বতন্ত্র বাচিক শিল্প—যা ভাষা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক চেতনা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতা সংগ্রামসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটেও আবৃত্তির অবদান তুলে ধরা হয়।
তারা আরও বলেন, দেশে বর্তমানে পাঁচ শতাধিক আবৃত্তি সংগঠন সক্রিয় রয়েছে এবং ডিজিটাল যুগে এই শিল্পের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। তাই অধ্যাদেশ পুনর্বিবেচনা করে স্বতন্ত্র আবৃত্তি বিভাগ চালুর দাবি জানিয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।


