প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সরকারের সব উদ্যোগ বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন বদ্ধপরিকর। সরকারের নির্বাচনী ইশতাহার বাস্তবায়নের কাজ এরই মধ্যে শুরু হয়েছে এবং জেলা প্রশাসকরা তা নিষ্ঠার সঙ্গে বাস্তবায়ন করছেন। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ‘‘ফ্যামিলি কার্ড’’, কৃষকদের জন্য ‘‘কৃষক কার্ড’‘, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খাল খনন কর্মসূচি, পরিবেশ উন্নয়নে বৃক্ষরোপণ এবং ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করা হয়েছে।’
জ্বালানি সংকট নিয়ে তিনি বলেন, ‘বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় অবৈধ মজুদদারির বিরুদ্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে জ্বালানি তেলের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন কাজ করছে। সাপ্তাহিক গণশুনানি সাধারণ মানুষ ও প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। জনগণের প্রতি সহমর্মিতা বজায় রেখে আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করে কাজ করতে জেলা প্রশাসকরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে স্বল্প সময়ে জনগণের প্রত্যাশিত সেবা প্রদান সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে সততা, নিষ্ঠা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।’
এর আগে গতকাল সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জেলা প্রশাসকদের মুক্ত আলোচনায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম দেশে ইট উৎপাদনে ব্যবহৃত উর্বর মাটির বিকল্প হিসেবে খাল খননের মাটি ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘বছরে প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ ইট উৎপাদনে প্রয়োজন হয় প্রায় ১৩ কোটি টন মাটি, যা প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের মাধ্যমেই সংগ্রহ করা সম্ভব। খাল খননের মাটি ইটভাটায় ব্যবহার করা গেলে উর্বর টপসয়েল সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে এবং কৃষিজমির ক্ষতি কমবে।’
আবাদি জমি রক্ষায় জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বসতভিটার জন্য কৃষিজমি নষ্ট না করে উল্লম্বভাবে (উঁচু ভবন) গৃহনির্মাণে গুরুত্ব দেয়া উচিত। এছাড়া পতিত জমি চাষাবাদের আওতায় আনা এবং গৃহনির্মাণে কৃষিজমি ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে প্রণোদনা দেয়া দরকার।’
ওসমানী মিলনায়তনে আয়োজিত ডিসি সম্মেলনে অংশ নিয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, ‘পাঁচ বছরের মধ্যে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। এরই মধ্যে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কাজ নেয়া করা হয়েছে, যা পাঁচ বছরে শেষ করা হবে। এ বিষয়ে আমরা ডিসিদের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেছি। এছাড়া নদীভাঙন হলে দ্রুত কী ব্যবস্থা নিতে হবে, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘দীর্ঘদিন খাল খনন কর্মসূচি বন্ধ ছিল। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যেভাবে খাল খনন কর্মসূচির উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তা একটি বিপ্লব ছিল। আজ নতুনভাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তা নতুন আঙ্গিকে শুরু করেছেন। খাল হচ্ছে জনগণের সম্পত্তি। খাল যেদিক দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, সেটা বড় করতে যাওয়ার সময় যদি কোনো দখলদার পড়ে, তাকে সরে যেতে হবে। কেউ ইচ্ছা করলে আবার এসে খাল দখল করতে পারবে না। তার পরেও এমন কিছু ঘটলে ডিসিরা আইনগত ব্যবস্থা নেবেন। খালের প্রবাহ ঠিক রেখে আমরা যখন কাজ করতে যাব, ওর মধ্যে কোনো দোকান পড়লে তা ভেঙে ফেলা হবে। কেউ যদি মাছের ঘের বানিয়ে খাল আবদ্ধ রাখে, তাহলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, ‘অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জাতীয় মহাসড়কগুলোকে পর্যায়ক্রমে সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা হবে। এরপর আঞ্চলিক মহাসড়কগুলোকে এই পর্যায়ক্রমে আনতে আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি। অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ঈদুল ফিতরের সময় দুই/তিনটি দুর্ঘটনা একটু বড় ঘটেছে। একটা হচ্ছে আরিচাতে বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে, বগুড়ায় গাড়ির সিলিন্ডার বাস্ট হয়ে চারজন মারা গিয়েছিল, রেলের একটা দুর্ঘটনা ঘটেছে কুমিল্লায়। ১২ জন মারা গিয়েছিল ক্রসিংয়ের সিগন্যাল না থাকার কারণে। তবে আমরা মোটামুটিভাবে সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। দুর্ভাগ্যজনক, আমরা হয়তো সেফটিটা এনশিওর করতে পারিনি, এবার আমরা যেটা চাচ্ছি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জাতীয় মহাসড়কগুলোকে সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসতে।’
তিনি বলেন, ‘রাস্তা প্রশস্ত করার চাহিদা বাংলাদেশে আছে। এ দুই মাসে মেম্বার অব পার্লামেন্টের যে ডিও দিয়েছে তাতে ৩ লাখ কোটি টাকা লাগবে এ রাস্তা সম্প্রসারণ করতে। বাজেটে পাবেন আপনি সর্বোচ্চ হয়তো ৪০ হাজার কোটি টাকা। এটা আমার ধারণা। এ বাজেটে কী পাব জানি না। এখন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আমাদের একটা সিলেক্ট করে কাজ করতে হবে। আমরা সেই জায়গায় স্বচ্ছতার সঙ্গে, নিরপেক্ষভাবে, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছি।’
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, ‘টানা বর্ষণে হাওর অঞ্চল ও বিশেষ করে কয়েকটি জেলায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টি এবং উজানের পানি আসার কারণে কোনো কোনো জেলায় দেখা যাচ্ছে যে ৪০ ভাগ ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ৬০ ভাগ ফসল পানির নিচে ডুবে গেছে। আমরা যেহেতু ডিজাস্টার নিয়ে কাজ করি, দুর্যোগ হলে আমরা সেখানে কাজ করতে যাচ্ছি। আমরা সেখানে একটি তালিকা তৈরি করার চেষ্টা করেছি, ছয়টি জেলায়। প্রায় এক লাখ পরিবারকে আমরা চিহ্নিত করেছি কমবেশি কোনো কোনো জেলায়। আগামী তিন মাস তাদের আর্থিক সহায়তা দেব এবং কিছু খাদ্য সহায়তা দেয়া হবে সেই অঞ্চলে।’
ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কর্মদক্ষ করে তুলতে কাজ করতে চাই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। ডিসি সম্মেলন শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘কোনো সরকারের নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনাররা। গত দুই মাসে সরকারের ঘোষিত ম্যানিফেস্টো প্রতিটি সেক্টরে কার্যকর করা শুরু হয়েছে।’
উপদেষ্টা বলেন, ‘দেশের জনসংখ্যার একটি বিশাল অংশ তরুণ। তাদের প্রাধান্য দিয়ে দেশে ও দেশের বাইরে কীভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যায়, এ বিষয়গুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি। আমরা লার্নিং উইথ হ্যাপিনেসের মাধ্যমে এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সুনাগরিকের গুণাবলি অর্জন করে। বন্ধ কারখানা খোলা, বিদেশী বিনিয়োগ বৃদ্ধি, অদক্ষ শ্রমিককে দক্ষ করে তোলাসহ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কর্মদক্ষ করে তুলতে কাজ করতে চাই।’
দেশের হাওরাঞ্চলে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা শুরুতে সাড়ে ৭ হাজার করে টাকা পাবেন। তাদের তিন মাসব্যাপী সহায়তা দেবে সরকার। ক্ষতি বিবেচনায় সহায়তা আরো বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। গতকাল ডিসি সম্মেলনে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘হাওর এলাকায় যেসব কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল, অন্যান্য তহবিল এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তহবিল থেকে একটা অর্থ সহায়তা দেয়ার চিন্তা করা হচ্ছে। এখন যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে সেটা পুষিয়ে দেয়া সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। আগামী তিন মাস তাদের সহায়তা দেয়া হবে। শুরুতে আমরা সাড়ে ৭ হাজার টাকা করে দেব। পরে ক্ষতি বিবেচনায় এ সহায়তা বাড়তেও পারে। এর জন্য একটা কমিটি করা হচ্ছে এবং মাঠপর্যায়ে তালিকা করা হচ্ছে।’


