প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
দীর্ঘদিন পর ২৭তম বিসিএসের আরও ৯৬ জন প্রার্থীকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। আজ বুধবার (১৩ মে) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বরের সুপারিশের ভিত্তিতে এসব প্রার্থীকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের বিভিন্ন ক্যাডারের প্রবেশ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী ২২ হাজার থেকে ৫৩ হাজার ৬০ টাকা বেতনক্রমে চাকরিতে যোগ দেবেন।
নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে সহকারী কমিশনার পদে ৪৮ জন, পুলিশ ক্যাডারে সহকারী পুলিশ সুপার পদে ১৩ জন, কর ক্যাডারে সহকারী কর কমিশনার পদে চারজন, স্বাস্থ্য ক্যাডারে সহকারী সার্জন পদে চারজন এবং পররাষ্ট্র ক্যাডারে সহকারী সচিব পদে দুজন রয়েছেন।
এ ছাড়া নিরীক্ষা ও হিসাব, আনসার, শুল্ক ও আবগারি, সমবায়, খাদ্য, পরিবার পরিকল্পনা, তথ্য, রেলওয়ে পরিবহন ও বাণিজ্যিক, কৃষি, সাধারণ শিক্ষা, বন, সড়ক ও জনপথ এবং গণপূর্ত ক্যাডারেও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, নিয়োগপ্রাপ্তদের বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিপিএটিসি) বা সরকার নির্ধারিত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ নিতে হবে। পাশাপাশি দুই বছর শিক্ষানবিশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। প্রশিক্ষণ ও বিভাগীয় পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন এবং শিক্ষানবিশকাল সন্তোষজনকভাবে শেষ হলে চাকরি স্থায়ী করা হবে।
চাকরিতে যোগদানের সময় ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে বন্ড সম্পাদন করতে হবে। এতে উল্লেখ থাকবে, শিক্ষানবিশকাল বা পরবর্তী তিন বছরের মধ্যে চাকরি ছাড়লে প্রশিক্ষণ বাবদ সরকারের ব্যয় করা অর্থ ফেরত দিতে হবে।
এ ছাড়া সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ অনুযায়ী যোগদানের সময় স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির ঘোষণা দিতে হবে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জ্যেষ্ঠতা রক্ষার্থে তাদের ব্যাচের প্রথম নিয়োগ প্রজ্ঞাপনের তারিখ থেকে ভূতাপেক্ষিকভাবে নিয়োগ কার্যকর হবে। তবে এ কারণে তারা কোনো বকেয়া আর্থিক সুবিধা পাবেন না। জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করা হবে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের আলোকে।
নিয়োগপ্রাপ্তদের আগামী ১৮ মে ২০২৬-এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগ নির্ধারিত কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২০০৫ সালে ২৭তম বিসিএস পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগে প্রথম মৌখিক পরীক্ষার ফল বাতিল করে দ্বিতীয়বার মৌখিক পরীক্ষা নেয়। এতে প্রথম মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১ হাজার ১৩৭ জন প্রার্থী বাদ পড়েন। পরে তারা আইনি লড়াই শুরু করেন।


