মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২০, ২০২৬
spot_img
Homeএই মুহুর্তে কারাগারে হাজী সেলিম

 কারাগারে হাজী সেলিম

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিম আত্মসমর্পন করার পর তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ রোববার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৭ এর বিচারক শহিদুল ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

দুপুরের পর বিকাল সোয়া ৩ টায় আদালতে হাজী সেলিম স্বশরীরে আত্মসমর্পণ করেন। এরপর ৩ টা ২০ মিনিটে বিচারক এজলাসে ওঠেন। পরে শুনানি হয়। শুনানির সময় হাজী সেলিম আসামির কাঠগড়ায় ওঠেন।

এর আগে দুপুরের আগেই আবেদন করেন হাজী সেলিম। আত্মসমর্পণসহ জামিন চান তিনি। একই সঙ্গে আরও দুটি আবেদন করা হয়। একটি হচ্ছে উন্নত চিকিৎসার জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া ও হাজী সেলিমের কারাগারে প্রথম শ্রেণীর মর্যাদা দেওয়ার আবেদন।

শুনানি শেষে আদালত জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেন। অন্য দুটি আবেদনের বিষয়ে উল্লেখ করেন কারা বিধি অনুযায়ী হাজী সেলিমকে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করবে। অন্যদিক তাকে প্রথম শ্রেণির কয়েদীর মর্যাদা দিতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় ২০০৮ সালের ২৭ এপ্রিল তাঁকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেন বিশেষ জজ আদালত-৭। ২০০৯ সালের ২৫ অক্টোবর এ রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন হাজী সেলিম। আপীল শুনানি শেষে গত বছর ৯ মার্চ বিচারিক আদালতের দেওয়া ১৩ বছরের কারাদণ্ড কমিয়ে ১০ বছর বহাল রেখে রায় দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তাঁকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন হাইকোর্ট। জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জুনের দায়ী এই সাজা দেওয়া হয়। তবে তথ্য গোপনের অভিযোগে বিচারিক আদালতে তাঁর যে তিন বছরের সাজা হয়েছিল তা বাতিল করা হয়।

বিচারপতি মো. মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। ওইদিন রায়ে বলা হয় রায় প্রকাশের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে হাজী সেলিমকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে।

তবে আত্মসমর্পণ না করেই বিদেশ ঘুরে এসেছেন হাজী সেলিম, যা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। দুদক আইনজীবী বলেন, আদালতের অনুমতি না নিয়ে দণ্ডিত আসামির বিদেশ যাওয়া বেআইনি। গত বছরের ৯ মার্চ হাইকোর্টের ওই রায়ে বিচারকের স্বাক্ষরের পর তা এ বছর ৯ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করা হয়। এরপর হাজী সেলিম আপিল বিভাগে হাইকোর্টের রায় স্থগিত করার আবেদন করলে গত ২৫ এপ্রিল আপিল বিভাগ তা আবেদন খারিজ করেন। রায় প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে তাঁকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই হিসেবে ২৫ মের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে।

২০০৭ সালের ২৪ অক্টোবর হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে লালবাগ থানায় ১৪ কোটি ৬৫ লাখ ৬২ হাজার ৫০৩ টাকার অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন ও আট কোটি ৭০ লাখ ৯ হাজার ৭৫৮ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করার অভিযোগে মামলা করে দুদক। এ মামলায় ২০০৮ সালের ২৭ এপ্রিল তাঁকে দুই ধারায় ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেন বিচারিক আদালত। ২০০৯ সালের ২৫ অক্টোবর এ রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন হাজী সেলিম। ২০১১ সালের ২ জানুয়ারি হাইকোর্ট এক রায়ে তাঁর সাজা বাতিল করেন।

পরবর্তীতে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে দুদক। ওই আপিলের শুনানি শেষে ২০১৫ সালের ১২ জানুয়ারি হাইকোর্টের রায় বাতিল করে পুনরায় হাইকোর্টে শুনানির নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়