বৃহস্পতিবার, মে ২১, ২০২৬
spot_img
Homeএই মুহুর্তেরামিসা হত্যাকাণ্ড : সোহেলকে নিয়ে ভয়ংকর তথ্য দিলেন স্ত্রী স্বপ্না

রামিসা হত্যাকাণ্ড : সোহেলকে নিয়ে ভয়ংকর তথ্য দিলেন স্ত্রী স্বপ্না

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী শিশু রামিসা আক্তারকে (৭) নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় সোহেল রানাকে (৩০) গ্রেপ্তাররের পর তার স্ত্রী স্বপ্নাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। স্বপ্নার বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, জাকির হোসেন বিকৃত যৌনরুচি সম্পন্ন একজন লোক এবং তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্ন সময় নির্যাতন করতেন।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে পল্লবীর একটি ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে শিশু রামিসার মাথাবিহীন শরীর এবং পরে বাথরুম থেকে তার খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত রামিসা স্থানীয় পপুলার স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর পুলিশ ওই ফ্ল্যাট থেকেই স্বপ্নাকে আটক করে।

তবে জাকিরকে আটকের আগেই তিনি পালিয়ে যান। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের একটি দোকান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি একজন রিকশা মেকানিক।
পুলিশ জানিয়েছে, জাকিরের বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে।

নির্যাতন বা রক্তক্ষরণের বিষয়টি জানাজানি হয়ে যাওয়ার ভয়েই শিশু রামিসাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। পরে আলামত গোপন ও মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে শিশুটির মাথা ও হাত কেটে ফেলা হয়।
এর আগে, সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, শিশুটির সঙ্গে কোনো বিকৃত যৌন আচরণ বা ধর্ষণ করা হয়েছে। রক্তক্ষরণ বা বিষয়টি টের পেয়ে যাওয়ার ভয়েই শিশুটিকে মেরে ফেলে ডেড বডিটা গুম করার পরিকল্পনা করা হয়।’ তবে ধর্ষণের বিষয়টি ময়নাতদন্ত ও কেমিক্যাল রিপোর্টের পর পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

পুলিশ জানায়, নিহত রামিসার পরিবার ওই ভবনে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বসবাস করলেও অভিযুক্ত দম্পতি মাত্র দুই মাস আগে উল্টো দিকের ফ্ল্যাটে ভাড়া আসে। ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খুঁজতে গিয়ে তার মা ওই ফ্ল্যাটের দরজার সামনে রামিসার স্যান্ডেল দেখতে পেয়ে দরজায় নক করছিলেন, তবে তখন ভেতর হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হচ্ছিল।

এদিকে পুলিশের দাবি, মূল আসামি সোহেল যেন পালাতে পারেন, সেই সুযোগ করে দিতেই দীর্ঘসময় দরজা খোলেননি স্ত্রী স্বপ্না। সোহেল জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর দরজা খোলেন তিনি। তিনি নিজে এই হত্যাকাণ্ডের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে।

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়