রবিবার, জুন ১৪, ২০২৬
spot_img
Homeএই মুহুর্তেপেটানোর ভিডিও ভাইরাল, ১১ দিনেও গ্রেফতার হয়নি অপরাধীরা

পেটানোর ভিডিও ভাইরাল, ১১ দিনেও গ্রেফতার হয়নি অপরাধীরা

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

কক্সবাজারের খুরুশকুলে এক তরুণীকে (১৪) ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় তিন বখাটের হাতে বেধড়ক মারধরের শিকার হয়েছেন তার ভাই।এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিলে ১১ দিনেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ।

বোনের ইজ্জত রক্ষায় ওই ভাইয়ের প্রাণপণ চেষ্টা এবং বেধড়ক মার খাওয়ার ভিডিওটি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তবে পুলিশের সন্দেহ তারা ভাইবোন নয়।

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয় বখাটেরা ফিল্মিস্টাইলে ওই তরুণীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় তরুণীকে রক্ষায় এগিয়ে আসেন তার ভাই। বখাটেদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে ওই তরুণীকে রক্ষা করতে পারলেও বেধড়ক মারধরের শিকার হয়েছেন ওই যুবক।

তিনি জানান, বোনের ইজ্জত রক্ষা করতে গিয়ে স্থানীয় বখাটেদের হাতে বেধড়ক মারধরের শিকার হয়েছেন তিনি।

তবে সদর থানা পুলিশের দাবি, তারা আসলে ভাইবোন নয়। তবে তাদের একে অপরের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক থাকতে পারে।

এদিকে ঘটনাটি কক্সবাজার সদরের খুরুশকুল আশ্রয়ণ প্রকল্পের বেড়িবাঁধে গত ৩১ মে বিকালে এ ঘটনাটি ঘটলেও তা সামাজিকমাধ্যমে ভাইরাল হয় শনিবার রাতে। এর পরই নড়েচড়ে বসেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

শনিবার মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে তিনজনের মধ্যে অভিযুক্ত দুই বখাটেকে আটক করেছে পুলিশ।

ভুক্তভোগী যুবক বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঝিনুক বিল্ডিংয়ে আমরা থাকি। সেখান থেকে আমার বোন মামাবাড়ি শহরের সমিতিপাড়ায় বেড়াতে গিয়েছিল। ৩১ মে বোন বাড়ি ফেরার পথে খুরুশকুল মনুপাড়ার আরমান, জামাল ও রায়হানসহ ৬-৭ জন আমার বোনকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। পরে আমার বোন কয়েকবার ফিরে আসতে চাইলে তারা বারবার পথ আটকাচ্ছিল, তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। আমি কিছুটা দূর থেকে এসব দেখে দৌড়ে আসি। জিজ্ঞেস করার সঙ্গে সঙ্গে তারা আমার বোনকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে। তখন আমি বোনকে জড়িয়ে ধরি। এ সময় তার গায়ে কেন হাত দিয়েছে জানতে চাইলে তারা আমাকেও মারধর শুরু করে।

ভুক্তভোগী যুবক আরও বলেন, ঘটনার পর পরই সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে এ বিষয়ে সদর থানায় অভিযোগ করি। কিন্তু ঘটনার ১১ দিন পার হয়ে গেলেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তাই বখাটেরা আমাকে উপর্যুপরি হুমকি দিয়ে আসছে। এ কারণে শনিবার রাতে ভিডিও ছড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করি।

তবে পুলিশ বলছে ভিন্ন কথা। কক্সবাজার সদর থানার ওসি (তদন্ত) মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, ভুক্তভোগী যুবক সেদিন পুরো ঘটনা গোপন করে শুধু মোবাইল ছিনতাইয়ের একটা অভিযোগ দেন। এ কারণে পুলিশ তাৎক্ষণিক আসল ঘটনা জানতে পারেনি। গতকাল ভাইরাল ভিডিওর সঙ্গে অভিযোগের কোনো মিল নেই।

তিনি বলেন, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটা দেখে গতরাতে অভিযুক্ত খুরুশকুল মনুপাড়া এলাকা নুরুল আলমের ছেলে রায়হান (২০) ও কুলিয়াপাড়া এলাকার নুরুন্নবীর ছেলে আরমানকে (২০) আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সেলিম উদ্দিন আরও বলেন, ভাইবোন হিসেবে ভিডিও প্রচার হলেও মূলত তারা ভাইবোন নয়। হয়তো তাদের দুজনের মধ্যে সম্পর্ক থাকতে পারে।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়