Homeমুল পাতাঅধ্যক্ষ সামাদের ১২ দফা ইশতেহার ঘোষণা

অধ্যক্ষ সামাদের ১২ দফা ইশতেহার ঘোষণা

চট্টগ্রাম—৮ আসন উপনির্বাচন

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

চট্টগ্রাম—৮ আসন উপনির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট (মোমবাতি)। আজ (১৭ এপ্রিল) সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ইশতেহার ঘোষণা করেন ফ্রন্টের মহাসচিব ও প্রার্থী জননেতা অধ্যক্ষ আল্লামা স.উ.ম আবদুস সামাদ। ইশতেহারের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়— ‘সর্বজনীন উন্নয়ন—কল্যাণ ও ন্যায়—নীতিভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা কায়েমের দৃঢ় প্রত্যয়’।

ইশতেহার ঘোষণার সময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে ইসলামী ফ্রন্ট প্রার্থী সামাদ বলেন, আমরা মনে করছি এ উপনির্বাচন সরকারের সর্বশেষ নির্বাচন। আমরা অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে সরকারের সদিচ্ছার প্রমাণ দেখতে চাই। আমরা দুঃখের সাথে পরিলক্ষিত করতেছি যে, নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার ক্ষেত্রে সমূহ আশঙ্কা রয়েছে।

পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য সাংবাদিকদের মোটর সাইকেল ব্যবহারের জন্য অনুমতি দেয়া হচ্ছে না। আমরা নির্বাচনে সংবাদ সংগ্রহের জন্য কার্ডধারী সাংবাদিকদের মোটরসাইকেল ব্যবহারের সুযোগ দানের দাবী জানাচ্ছি।

প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা যদি মোটর সাইকেল ব্যবহার করতে না পারে তাহলে নির্বাচনী নিউজ বা তথ্য সংগ্রহ করবেন কিভাবে? আমরা গাইবান্ধা—৫ উপ—নির্বাচনের মতো চট্টগ্রাম—৮ উপ—নির্বাচনের প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি টিভি ক্যামেরা স্থাপন করার জন্য বারবার নির্বাচন কমিশনকে দাবী জানিয়েছি। নির্বাচন কমিশন এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।

ইভিএমে ভোট হলে বুথের মধ্যে ভূত দেখার নজির আছে। সিসি টিভি ক্যামেরা স্থাপন করলে বুথের মধ্যে ভূত ঢুকলে তা ধরা পড়বে। অন্যদিকে আমাদের নেতা—কর্মীদেরকে বিভিন্ন স্থানে হুমকি দেয়া হচ্ছে। বোয়ালখালী পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডসহ চট্টগ্রাম নগরের নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে আমাদের নেতা—কমীর্দের প্রচারণায় সন্ত্রাসীরা বাঁধা দিচ্ছে।

ভোট কেন্দ্রে না যাওয়ার হুমকি দিচ্ছে। জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া ও আল—আমিন বারিয়া কামিল মাদ্রাসাসহ নির্বাচনী এলাকার মাদ্রাসাসমূহ থেকে এখনো প্রিজাইডিং ও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার নিযুক্ত করা হয়নি।

প্রত্যেকটি জাতীয় নির্বাচনে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে কয়েকশ মাদ্রাসা শিক্ষককে প্রিজাইডিং ও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব দেয়া হয়। অথচ এবার এসব মাদ্রাসা শিক্ষকদের বাদ দিয়ে নির্বাচনী এলাকার বাইরের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কুচক্রি মহলের নির্ধারিত ব্যক্তিদের নির্বাচনী দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে। এসব কারণে আমরা সুষ্ঠু ভোট হবে কিনা আশঙ্কা করতেছি।

সরকারের যদি সদিচ্ছা থাকে ও নির্বাচন কমিশন যদি স্বাধীনভাবে কাজ করে ভোট সুষ্ঠু হবে বলে আমরা মনে করি। তবে জনগণ নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে।

আমরা আশা করব জনগণকে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ দেয়া হলে আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের পূর্বে এ উপ—নির্বাচন একটি নজির সৃষ্টি করবে। দলীয় সরকারের অধিনে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কিনা সে ব্যাপারে জনগণ সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

আমরা বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম—৮ (বোয়ালখালী—চান্দগাঁও—পাঁচলাইশ—বায়েজিদ আংশিক) আসনের সর্বজনীন উন্নয়ন—কল্যাণ ও ন্যায়—নীতিভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা কায়েমের দৃঢ় প্রত্যয়ে—১২ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করছি।
দফাসমূহ:

১। কালুরঘাট সেতু শুধু বোয়ালখালীর দুঃখ নয়, পুরো চট্টগ্রামবাসীর দুঃখ। নির্বাচিত হলে কালুরঘাট সেতুর নির্মাণ কাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নে চেষ্টা করা হবে।

২। বোয়ালখালী উপজেলা হাসপাতালকে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীত করতে পদক্ষেপ নেয়া হবে।

৩। চট্টগ্রাম—৮ আসনের মহানগরীর অংশে জলাবদ্ধতা সমস্যায় নাকাল সাধারণ জনগণ। জলাবদ্ধতা নিরসনে গৃহীত মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর সাথে সমন্বয় করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

৪। চট্টগ্রাম শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং সরকারি খাসজমিতে খেলার মাঠ তৈরিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে।

৫। অসহায়, এতিম ও পথশিশুদের জন্য আবাসিক স্কুল প্রতিষ্ঠাসহ প্রতিবন্ধীদের জন্য স্কুল প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগ নেয়া হবে। জনবহুল সবগুলো ইউনিয়নে প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে আরো একাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় পদক্ষেপ নেয়া হবে। বোয়ালখালীতে বিশেষায়িত ১টি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট গড়ে তোলা হবে।

৬। কালুরঘাট সেতু থেকে রাঙ্গুনিয়া পর্যন্ত নদীর ধারে ধারে পর্যটন ও শিশু বিকাশ কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। ৭। চাল, ডাল, তেল ইত্যাদি নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির মূল্য সহনশীল পর্যায়ে রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

৮। বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধি, সুশীল সমাজ, সাংবাদিক, শিক্ষক, আইনজীবী, সামাজিক—সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবীসহ সমাজ প্রতিনিধিদের নিয়ে পরামর্শের ভিত্তিতে এলাকার সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও নিরসনে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

৯। জনগণের জন্য বরাদ্দ টাকা জনগণের মাঝে বন্টন হবে। এ বিষয়ে শতভাগ নিশ্চয়তা প্রদান করা হচ্ছে।

১০। অসহায়, দুস্থ, এতিম, গরিব বিধবা মহিলা, কন্যাদায়গ্রস্থ পরিবার ও ছিন্নমুল জনগণের জন্য দুঃস্থ তহবিল গঠন করা হবে। পিছিয়ে পড়া গ্রামীণ মহিলাদের স্বাবলম্বী করার জন্য ফ্রি কুটির শিল্প প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। নারী শিক্ষার উন্নয়নে অনুন্নত এলাকায় মহিলা কলেজ ও মহিলা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা হবে।

১১। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদকের ভয়াবহতা, যৌতুকপ্রথা, নারী নির্যাতন, বাল্য বিবাহ, কিশোর গ্যাং এর দৌরাত্ন্য ও ইভটিজিং বন্ধে সামাজিক—রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠনগুলোর সাথে সমন্বয় করে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন ভিত্তিক সেল গঠন করে অপরাধগুলো নিমূর্লে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানো হবে।

১২। বোয়ালখালীর পশ্চিমাংশ—কালুরঘাট হতে ট্যাঙ্ঘর হয়ে মিলিটারিপুল পর্যন্ত বেড়িবাঁধ নির্মাণে উদ্যোগ নেয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রেসিডিয়াম সদস্য পীরে তরিকত সৈয়্যদ মোহাম্মদ মছিহুদ্দৌলা, এডভোকেট আবু নাছের তালুকদার, এম সোলায়মান ফরিদ, যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ আবদুর রহিম, ইঞ্জিনিয়ার আমান উল্লাহ আমান, রেজাউল করিম তালুকদার, সহকারী দপ্তর সচিব ফরিদুল ইসলাম, প্রচার সচিব মাস্টার আবুল হোসেন, সমাজ কল্যাণ অধ্যাপক সৈয়দ মোখতার উদ্দিন, চট্টগ্রাম মহানগর নির্বাচনী সমন্বয়ক আব্দুননবী, সদস্য সচিব নাছির উদ্দীন মাহমুদ, আহলে সুন্নাত নেতা জসিম উদ্দিন মাহমুদ, বেলাল আলমদার, এম মহিউল আলম চৌধুরী, বোয়ালখালী নির্বাচনী সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর আলম, কাজী মহিউদ্দিন, জামাল উদ্দিন খোকন, আলমগীর বঈদী, যুবনেতা নাজিম উদ্দিন খান, ফোরকান কাদেরী, ছাত্রসেনা সেক্রেটারি আবদুল্লাহ আলজাবের, কাজী আরাফাত প্রমুখ।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়