Friday, June 26, 2026
spot_img
Homeমুল পাতাচট্টগ্রামে নালায় বাঁধ, সড়কে পানি, ভোগান্তি

চট্টগ্রামে নালায় বাঁধ, সড়কে পানি, ভোগান্তি

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

কয়েকদিনের তাপ প্রবাহের পর মঙ্গলবার ভোররাতে চট্টগ্রামে হালকা বৃষ্টি নামে। ভ্যাপসা গরমে ভোররাতের বৃষ্টি ভেজা শীতল হাওয়া মানুষের মাঝে স্বস্তি দিয়েছে। কিন্তু সকালে বাসা থেকে বের হতে গিয়ে মানুষ পড়েছেন বিপাকে। তাদের একজন জামালখানের শরীফ কলোনীর বাসিন্দা  মো. সুমন।

তিনি বলেন, ‘সকালে প্রাতঃভ্রমণে বের হতে গিয়ে দেখি বাসার সামনে হাঁটু পানি জমে আছে। তাই আর বের হতে পারিনি। এমনিতে বর্ষায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। বৈশাখে কখনো এমন জলাবদ্ধতা দেখিনি। তবে সংস্কার কাজের কারণে প্রায় সময় সড়কে পানি জমে থাকে।’

জামালখান বাইলেনের বাসিন্দা নিপুল কুমার দে বলেন, ‘উন্নয়নের যন্ত্রণা নিয়ে বছরের প্রথম দিনের শুরু।’ এখানকার কর্মজীবী লোকজন অতিরিক্ত ভাড়া গুনে ভ্যানে ও রিকশায় পথ পাড়ি দিয়েছেন। সকালে একইভাবে আন্দরকিল্লা পেশাগত কাজে যেতে গিয়ে বেকায়দায় পড়েন নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘সকালে আন্দরকিল্লা যেতে বাসা থেকে বের হই। রহমতগঞ্জ বাংলা কলেজ এলাকায় গিয়ে দেখি পানি জমে আছে। পরে বিকল্প পথে আন্দরকিল্লা গিয়েছি।’

নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে ৮ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। প্রকল্পটির আওতায় নগরের জামালখান খালে সংস্কার কাজ চলছে।

নগরের নূর আহমদ সড়কের বিমান অফিস এলাকা থেকে উৎপত্তি খালটি মিলিত হয়েছে নগরের চাক্তাইখালে। সংস্কার কাজের খালটিতে বাঁধ দেওয়া হয়েছে। খালের বিভিন্ন অংশে সম্প্রসারণ ও প্রতিরোধ দেওয়াল নির্মাণের কাজ চলছে। এতে বৃষ্টির পানি উপচে পড়ে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।

জলাবদ্ধতা নিরসনে সবচেয়ে বড় প্রকল্পটির পরিচালক সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফেরদৌস আহমেদ বলেন, ‘সংস্কার কাজের জন্য জামালখান খালে বাঁধ দেওয়া হয়েছে। খালের পানি একটি পাইপ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টি হওয়ায় পানি জমেছে। তবে বর্ষার আগে বাঁধ খুলে দিলে আর পানি উঠবে না। এছাড়া আমাদের কাছে বিকল্প কোন পথ নেই। তাই মানুষের একটু ভোগান্তি হচ্ছে। কাজ শেষ হলে এই ভোগান্তি লাঘব হয়ে যাবে।’

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে সাড়ে ১৪ হাজার কোটি টাকার কাজ চলছে। এর +মধ্যে ৮ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ প্রকল্প ও দুই হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘কর্ণফুলী নদীর তীর বরাবর কালুরঘাট সেতু হতে চাক্তাই খাল পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে চউক। ১ হাজার ৬২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘চট্টগ্রাম মহানগরীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ, জলমগ্নতা/জলাবদ্ধতা নিরসন ও নিষ্কাশন উন্নয়ন’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ১ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরের বাড়ইপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত খাল খনন করছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। চউকের ৮ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্পটির পূর্ত কাজ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়