প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
একজন ছাত্রের কাছ থেকে ২১ বছরের চাকরি জীবনে এই ধরণের বেয়াদবীপূর্ণ আচরণ কখনও পাইনি বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ইফতেখার আলম মাসউদ। তিনি বলেন, আমি এই ধরনের বেয়দবীকে নূন্যতম ছাড় দেই না। এই সমস্ত বেয়াদবদের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নাই। গণমাধ্যমের এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রসঙ্গত, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগে চলমান অচলাবস্থা ২৩ দিন অতিক্রম করেছে। শিক্ষার্থীদের ক্লাস, পরীক্ষা ও একাডেমিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ। এ দীর্ঘস্থায়ী সংকট নিরসনে রাকসুর প্রতিনিধিদল বারবার উপাচার্য প্রফেসর ড. সালেহ হাসান নকীবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দ্রুত সমাধানের অনুরোধ জানায়। উপাচার্য বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে গত বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট বিভাগের চেয়ারম্যান অপসারণের নির্দেশে স্বাক্ষর করেন এবং ফাইলটি রেজিস্ট্রার দপ্তরে প্রেরণ করেন।
প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী, রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে একই দিনে চিঠি ইস্যু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দেখা যায়, রবিবার দুপুর পর্যন্ত রেজিস্ট্রার দপ্তর সেই চিঠি ইস্যু করেনি। এতে বিভাগটির ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা আরো একদিন একাডেমিক ক্ষতির মুখে পড়ে।
বিষয়টি জানতে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক ও সিনেট সদস্য সালাহউদ্দিন আম্মার রেজিস্ট্রার দপ্তরে উপস্থিত হলে, দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান— রেজিস্ট্রার রাজনৈতিক প্রোগ্রামে ব্যস্ত আছেন এবং পরে আসতে বলেছেন।
এরপরেই রাকসুর জিএস রেজিস্ট্রার অফিসে ঢুকলে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
এই বিষয়ে রেজিস্ট্রার ইফতেখার আলম মাসউদ বলেন, এটা ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি ছাত্রদের সংশিষ্ট বিষয়। এটাকে নিয়ে এক ধরনের আবেগ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। আমি ওখানে কোনো রাজনৈতিক বৈঠকে ছিলাম না। আমার শুভানুধ্যায়ীরা এসেছিলেন পূর্ব অনুমতি নিয়ে।
তাদের সঙ্গে আমি পাঁচ মিনিটও বসিনি। একাধিক শিক্ষকও ওয়েট করছিলেন বাইরে। যেটা স্বাভাবিক, এক গ্রুপ না গেলে আরেক গ্রুপ ওয়েট করে।
ইফতেখার আলম বলেন, আমি মিটিং থেকে ওখানে ঢুকেছি। এর ভেতরেই শুনলাম ক্লিনিক্যাল সাইকোলজির শিক্ষার্থীরা আসছে। সঙ্গে রাকসুর জিএস আছে। আমি বললাম, ওদেরকে একটু ওয়েট করতে বলো। কিন্তু দুই মিনিটও হয়নি, সে ঢুকে গেছে ওদেরসহ। আমি খুব বিরক্ত হই, আমার রুমে যদি কোনো সিস্টেম ফলো না করে।
রেজিস্ট্রার আরো বলেন, এ বিষয়ে দাপ্তরিক যতটুকু কাজ, ফাইল প্রসেসে যতটুকু সময়, সেটা একদিন সময় লাগে। সেটা সেদিনই ইস্যু করা হয়েছে। আামি বলেছি এটা তোমাদের কাজ না। এ বিষয়ে তোমাদের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেছি। যারা ভুক্তভোগী— ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের পনেরো-বিশ জন ছাত্র ছিল। একজনও অভিযোগ করেনি। তারা বরং পরবর্তীতে সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাকে নিয়ে ভালোই লিখেছে দেখলাম। কিন্তু এই একটা ছেলেই, যে আগেও আমাদের একজন শিক্ষকের সঙ্গে এমন করেছে। সে কেন যেন মনে করছে বেয়াদবিটাই তার একটা ক্রেডিট। সে স্পষ্টভাবে শান্ত হয়ে যাওয়া বিষয়কে অযাচিত অভিযোগ করছে।


