প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেছেন, কিচেন কেবিনেটের সদস্যরা প্রতি মঙ্গলবার বসে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা করতেন। তবে কারা এই বৈঠকে থাকবেন তা নির্ধারিত ছিল। সব সরকারেই এ ধরনের ইনার গ্রুপ থাকে, যদিও এ বিষয়ে কোনো গেজেট জারি করা হয়নি।
মঙ্গলবার (২ জুন) সাংবাদিক সোহরাব হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ‘চরচা সংলাপে’ তিনি এসব কথা বলেন।
আলী ইমাম মজুমদার বলেন, আমরা শপথ নিয়েছিলাম সংবিধান অনুযায়ী কাজ করব। সেখানে বলা আছে প্রজাতন্ত্রের কাজ কীভাবে হবে এবং রাষ্ট্রপতি তা বিধি দ্বারা নির্ধারণ করবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কাকে কোথায় বদলি করা হবে, তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়তো প্রধান উপদেষ্টা দেবেন, কিন্তু এমন কাউকে নিয়োগ দেওয়া হলো যাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিচালনার কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না।
তিনি উল্লেখ করেন, আমি জনপ্রশাসনের দায়িত্বে ছিলাম না। প্রধান উপদেষ্টা আমাকে ১২ আগস্ট ডেকে পাঠিয়ে ওই দিন থেকেই কাজ শুরু করতে বলেন। উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠনের পর আমাকে উপদেষ্টা করা হবে বলে জানান। এবারের সরকার পরিবর্তনের একটি বিশেষ প্রেক্ষাপট আছে। আমরা সমালোচনা করলেও এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিতে হবে-রাষ্ট্রের ক্ষমতা কাঠামো ভেঙে পড়েছিল। পুলিশ কাজ ছেড়ে চলে এসেছিল, অনেক থানা পুড়িয়ে দেওয়া হয়, ব্যাপক হতাহত হয়। অনেক সচিব পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন, কেউ বিদেশে, কেউ দেশের ভেতরে আত্মগোপনে ছিলেন।
সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, আমি প্রধান উপদেষ্টার অধীনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজ নিষ্পত্তিতে তাকে সহযোগিতা করতাম। তার অফিসে আমার অবস্থান ছিল মাত্র ৮৯ দিন। শুরুর দিকে তিনি আমাকে একটি মন্ত্রণালয় দেওয়ার কথা বললেও পরে ভূমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
‘অন্তর্বর্তী সরকার গঠন ও পরিচালনা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং,’ বলেন আলী ইমাম মজুমদার। রাজনৈতিক সরকারে দলপ্রধানই সরকারপ্রধান হন এবং তিনি এক ঘরানার লোক দিয়ে সরকার গঠন করেন। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারে বিভিন্ন ডিসিপ্লিন থেকে মানুষ নিয়ে আসা হয়, যা ভীষণ কঠিন এবং ভয়াবহ চ্যালেঞ্জিং।


