Homeমুল পাতামাতারবাড়ীতে প্রধানমন্ত্রী, বাহারছড়ায় সমাবেশ ঘিরে মানুষের ঢল

মাতারবাড়ীতে প্রধানমন্ত্রী, বাহারছড়ায় সমাবেশ ঘিরে মানুষের ঢল

প্রাইম ভিশন ডেস্ক

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলারমাতারবাড়ীতে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি সেখানে পৌঁছান। এর আগে সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে করে মহেশখালীর উদ্দেশে রওনা হন তিনি।

মাতারবাড়ীতে প্রধানমন্ত্রী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প ও মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন। এরপর হেলিকপ্টারে করে বন্যাকবলিত বাঁশখালী ও হাটহাজারী এলাকায় যাবেন এবং সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে নতুন ঘর হস্তান্তর করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বাঁশখালীর বাহারছড়া এলাকায় তার কর্মসূচি ঘিরে সকাল থেকেই মানুষের উপস্থিতি বাড়ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাহারছড়া সমুদ্রসৈকতের বিস্তীর্ণ এলাকায় সমাবেশের জন্য চেয়ার পাতা হয়েছে। বিভিন্ন বয়সী মানুষ দলবদ্ধভাবে সেখানে আসছেন। অনেকের হাতে দলীয় পতাকা ও ব্যানার। সমাবেশস্থলের বিভিন্ন প্রবেশপথে মানুষের চাপ বাড়ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও বিভিন্ন পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

দুপুর ১২টায় সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ সমাবেশস্থলের দিকে আসতে শুরু করেন। নারী-পুরুষের পাশাপাশি বিভিন্ন বয়সী মানুষও এতে অংশ নিতে আসছেন। নির্ধারিত সময়ের আগেই অনেকে সমাবেশস্থলের সামনের দিকে জায়গা নিয়ে বসেছেন।

সমাবেশে আসা স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাঁশখালীর উন্নয়ন নিয়ে তাদের নানা প্রত্যাশা রয়েছে। এর মধ্যে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, সড়ক প্রশস্তকরণ, উপকূলীয় সুরক্ষা ও পর্যটন খাতের উন্নয়ন অন্যতম।

স্থানীয় বাসিন্দারা বাঁশখালী সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এতে বাঁশখালীর সঙ্গে চট্টগ্রাম নগর ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের যোগাযোগ সহজ হবে। একই সঙ্গে পটিয়া-আনোয়ারা-বাঁশখালী (পিএবি) আঞ্চলিক সড়কের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের দাবিও রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, দক্ষিণ চট্টগ্রামের যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।

উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের অন্যতম প্রধান দাবি পশ্চিম বাঁশখালী উপকূলীয় বেড়িবাঁধের টেকসই সংস্কার। তাদের মতে, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড় ও অতিবৃষ্টির সময় উপকূলের মানুষের নিরাপত্তায় বাঁধটির ঝুঁকিপূর্ণ অংশ সংস্কারের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় স্থানে তা উঁচু করা জরুরি।

বাহারছড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বাঁশখালীর যোগাযোগব্যবস্থা, উপকূলীয় সুরক্ষা, সড়ক উন্নয়ন, পর্যটন সম্ভাবনা ও স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে তিনি আশা করছেন।

প্রধানমন্ত্রীর আজকের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বেলা সাড়ে ১২টায় মহেশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নের পশ্চিম বাঁশখালী উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া। এরপর দুপুর ২টায় ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলম বাবুনগর মাদ্রাসায় আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন তিনি।

বিকেল সোয়া ৩টায় হাটহাজারীর আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে হাটহাজারী ডাকবাংলোয় যাত্রাবিরতি করবেন। বিকেল ৫টায় হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউ হোটেল মিলনায়তনে সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সব কর্মসূচি শেষে রাত সাড়ে ৯টায় হযরত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমানে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, ঢাকা থেকে মহেশখালী পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে যাবেন। এরপর ফটিকছড়ি থেকে সড়কপথে চট্টগ্রামে যাবেন তিনি। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাহারছড়া এলাকার বিভিন্ন প্রবেশপথে মানুষের চাপ আরও বাড়ছে।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়