Homeমুল পাতাফুসফুস, স্তন ও কোলন ক্যানসার শনাক্তে যে ৫ পরীক্ষা জরুরি

ফুসফুস, স্তন ও কোলন ক্যানসার শনাক্তে যে ৫ পরীক্ষা জরুরি

প্রাইম ভিশন ডেস্ক

অনেক রোগ শরীরে নীরবে বিকশিত হতে থাকে। দৃশ্যমান উপসর্গ দেখা দেওয়ার অনেক আগেই কোনো কোনো রোগ শরীরে বাসা বাঁধতে শুরু করে। যখন লক্ষণ প্রকাশ পায়, ততদিনে রোগটি অনেকটা এগিয়ে যেতে পারে। এ কারণে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রতিরোধমূলক স্ক্রিনিং রোগ শনাক্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ ধরা পড়লে সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হয় এবং জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি কমানো যেতে পারে।

কোলনোস্কপি বা সিগময়েডোস্কপি

কোলনোস্কপি ও সিগময়েডোস্কপি এমন এন্ডোস্কোপিক পরীক্ষা, যার মাধ্যমে অন্ত্র ও কোলনের ভেতরের অংশ সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা যায়। এসব পরীক্ষায় ক্যানসার ও ক্যানসারের আগের পর্যায়ের অস্বাভাবিক কোষ বা ক্ষত শনাক্ত করা সম্ভব।

চিকিৎসকদের মতে, এসব পরীক্ষার বড় সুবিধা হলো—ক্যানসারে রূপ নেওয়ার আগেই পলিপের মতো অস্বাভাবিক বৃদ্ধি অপসারণ করা যায়। তার দাবি, এ ধরনের এন্ডোস্কোপিক স্ক্রিনিং কোলন ক্যানসারে মৃত্যুর হার প্রায় ২৫ শতাংশ কমাতে পারে।

ম্যামোগ্রাম

ম্যামোগ্রাফিতে স্বল্পমাত্রার এক্স-রে ব্যবহার করে স্তনের বিস্তারিত ছবি নেওয়া হয়। উপসর্গ দেখা দেওয়ার আগেই স্তন ক্যানসারের সম্ভাব্য লক্ষণ বা অস্বাভাবিকতা শনাক্ত করতে এটি গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকরা জানান, ম্যামোগ্রাফি স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি প্রায় ২০ শতাংশ এবং এ রোগে মৃত্যুর হার প্রায় ২২ শতাংশ কমাতে পারে।

প্যাপ স্মিয়ার

জরায়ুমুখের ক্যানসার শনাক্ত ও প্রতিরোধে প্যাপ স্মিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। এতে জরায়ুমুখের কোষে অস্বাভাবিক পরিবর্তন হয়েছে কি না, তা শনাক্ত করা যায়। ক্যানসারে রূপ নেওয়ার বহু বছর আগেই এসব পরিবর্তন ধরা পড়তে পারে। চিকিৎসকরা বলেন, নিয়মিত স্ক্রিনিং চালু হওয়ার পর জরায়ুমুখের ক্যানসারে মৃত্যুর হার ৭০ শতাংশের বেশি কমেছে।

বর্তমান ও সাবেক ধূমপায়ীদের জন্য লো-ডোজ বুকের সিটি স্ক্যানের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এতে ফুসফুসের বিস্তারিত ছবি পাওয়া যায় এবং উপসর্গ দেখা দেওয়ার আগেই ফুসফুস ক্যানসারের সম্ভাব্য অস্বাভাবিকতা শনাক্ত করা সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা জানান, এই পরীক্ষার মাধ্যমে ফুসফুস ক্যানসারে মৃত্যুর হার প্রায় ২০ শতাংশ কমানো যেতে পারে।

পুরুষদের অ্যাবডোমিনাল আল্ট্রাসাউন্ড

পুরুষদের ক্ষেত্রে পেটের আল্ট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে পেটের ভেতরের বিভিন্ন অঙ্গ ও প্রধান রক্তনালির অবস্থা দেখা যায়। বিশেষ করে অ্যাবডোমিনাল অ্যাওর্টিক অ্যানিউরিজম বা পেটের প্রধান ধমনির অস্বাভাবিক ফুলে যাওয়া শনাক্তে এটি কার্যকর হতে পারে। চিকিৎসকরা বলেন, এ ধরনের স্ক্রিনিং অ্যানিউরিজম ফেটে মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ৩৩ শতাংশ কমাতে পারে।

তারা আরও বলেন, এসব পরীক্ষা করালেই যে একজন সম্পূর্ণ সুস্থ—এমন নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না। প্রয়োজনে আরও পরীক্ষা লাগতে পারে। তবে সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে রোগ হওয়ার পর প্রতিক্রিয়া দেখানোর চেয়ে আগেভাগে সতর্ক হওয়া অনেক বেশি কার্যকর।

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়