Homeমুল পাতাচট্টগ্রামে পুলিশের কর্মকর্তা পরিচয়ে মামলার বাদীদের টার্গেট করে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ১

চট্টগ্রামে পুলিশের কর্মকর্তা পরিচয়ে মামলার বাদীদের টার্গেট করে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ১

প্রাইম ভিশন ডেস্ক

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), সিআইডি ও ডিবি কর্মকর্তা পরিচয়ে মামলার বাদীদের টার্গেট করে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ করে আসছিল একটি সংঘবদ্ধ চক্র।

চট্টগ্রামের বিভিন্ন আদালত থেকে মামলার বাদীদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করত চক্রটির সদস্যরা। এ ঘটনায় চক্রটির মূলহোতা মো. মোজাম্মেল হক কবিরকে (৫০) মামলা দায়েরের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই চট্টগ্রাম জেলা।

শনিবার সকাল ১১টার দিকে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার এম. কে. এইচ. জাহাঙ্গীর হোসেন এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, চক্রটির সদস্যরা নিজেদের পিবিআই, সিআইডি কিংবা ডিবির তদন্ত কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে মামলার বাদীদের সঙ্গে যোগাযোগ করত।

মামলায় বাদীর পক্ষে রিপোর্ট দেওয়ার কথা বলে তাদের বিশ্বাস অর্জনের পর গাড়ি ভাড়া ও তদন্তের খরচের কথা বলে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে নিত।

পিবিআই জানায়, দীর্ঘদিন ধরে এভাবে প্রতারণা করে আসছিল চক্রটি। আদালত থেকে মামলার বাদীদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহের পাশাপাশি তারা সংশ্লিষ্ট মামলার অভিযোগের বিবরণও জেনে নিত। ফলে ভুক্তভোগীদের কাছে নিজেদের প্রকৃত তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে পারত তারা।

এ ধরনের প্রতারণার বিষয় পিবিআইয়ের প্রকৃত তদন্ত কর্মকর্তাদের নজরে আসার পর প্রতারকদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তৎপরতা শুরু হয়। তবে প্রতারকরা অন্যের নামে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করায় তাদের পরিচয় শনাক্তে জটিলতা তৈরি হচ্ছিল।

সর্বশেষ পিবিআই চট্টগ্রামের এসআই মো. আবু সুফিয়ান তার তদন্তাধীন একটি মামলার বাদীর কাছ থেকে তদন্তের নামে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা নেওয়ার ঘটনায় নিজেই বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা প্রতারকদের বিরুদ্ধে রাউজান থানায় মামলা করেন।

২৩ সেপ্টেম্বর মামলাটি দায়েরের পর পিবিআই তদন্তের দায়িত্ব নেয়। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রবি চন্দ্র দাশের নেতৃত্বে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রতারকদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।

পরে নোয়াখালীর সুধারাম থানার গৌরীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোজাম্মেল হক কবিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত বিভিন্ন ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে।

পিবিআইয়ের তথ্যমতে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোজাম্মেল প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। একই সঙ্গে চক্রের অন্য সদস্যদের সম্পর্কেও তথ্য দিয়েছেন তিনি।

পিবিআই জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রতারণার শিকার অন্যান্য মামলার বাদীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও ঘটনা উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি চক্রটির অপরাপর সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এ ঘটনায় প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ, অন্যের পরিচয় ধারণ করে প্রতারণা, সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে। বিশ্বাসভঙ্গ করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও মামলায় রয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়