প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
শরিক দলগুলোর জন্য আওয়ামী লীগের সাতটি আসন ছাড়ের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু।
তিনি বলেন, ‘আসন ভাগাভাগিতে আমরা সন্তুষ্ট না। তাই আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করে পুনর্বিবেচনার জন্য ফেরত পাঠিয়েছি।’
বৃহস্পতিবার (১৪ ডিসেম্বর) রাতে তিনি গণমাধ্যমকে এসব কথা বলেন।
হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘১৪ দলীয় জোটের সমন্বয়ক আমির হোসেন আমু ভাই প্রাথমিকভাবে সাতটি আসনের নাম প্রস্তাব করেছেন। আমরা ওনাকে বিনয়ের সঙ্গে আসন আরও বৃদ্ধির জন্য বলেছি এবং এটা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে আমরা বিনয়ের সঙ্গে ফিরিয়ে পাঠিয়েছি।’
চারটি কারণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছি, প্রথমত- আসন সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করতে হবে। দ্বিতীয়ত- জোটের সব শরিকদের নিয়ে চাহিদা অনুযায়ী আসন বণ্টন করার জন্য বলেছি। তৃতীয়ত- আমাদেরকে যেসব আসনে ছাড় দেওয়া হবে সে আসনগুলোতে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী উঠিয়ে নিতে হবে। চতুর্থত- মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সহকারে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার জন্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে বৈঠক করতে হবে।’
বর্তমানে জাসদের তিন জন এমপি রয়েছেন। ঘোষিত তালিকায় সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকলেও জাসদ সাধারণ সম্পাদক ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য শিরনী আখতারের পরিবর্তে এবার দলটির আরেক নেতা মোশাররফ হোসেনকে লক্ষ্মীপুর-৪ আসন থেকে জোটের প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জোটের শরিক দলগুলোকে সাত আসন ছাড়ের সিদ্ধান্তের কথা জানান জোটের মুখপাত্র ও সমন্বয়ক আমির হোসেন আমু। তিনি সাত আসন আপাতত ঠিক করার কথা জানিয়েছেন। আলোচনা চলবে বলেও জানান তিনি।
১৪ দলীয় জোটের মধ্যে এবার আসন পাচ্ছে তিনটি দল। বাকীরা জোটের শরীক হলেও এবার আসন জোটেনি। একাদশ জাতীয় সংসদে এমপি থাকলেও এবার ছিটকে পড়েছেন তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারি। তিনি দশম ও একাদশ সংসদে চট্টগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।
যে ৭টি আসন শরিকদের ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে তার মধ্যে রাজশাহী-২ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছিলেন মোহাম্মদ আলী। এ ছাড়া বগুড়া ৪- হেলাল উদ্দিন কবিরাজ, লক্ষ্মীপুর-৪ ফরিদুন্নাহার লাইলি, পিরোজপুর-২ কানাই লাল বিশ্বাস, সাতক্ষীরা-১ ফিরোজ আহমেদ স্বপন এবং বরিশাল-৩ সরদার মো. খালেদ হোসেন মনোনয়ন পেয়েছিলেন।
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমার শেষ তারিখ ৩০ নভেম্বর। মনোনয়ন পত্র যাচাই-বাছাই ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৭ ডিসেম্বর। প্রতীক বরাদ্দ ১৮ ডিসেম্বর। এ দিন থেকেই প্রার্থীরা প্রচার শুরু করতে পারবেন। নির্বাচনী প্রচার শেষ হবে ৫ জানুয়ারি সকালে।


