প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) ৫০ সদস্য পালিয়ে বান্দরবনে আশ্রয় নিয়েছেন। দেশটির বিদ্রোহী দল আরাকান আর্মির সঙ্গে সংঘর্ষের মধ্যে সীমান্ত পেরিয়ে ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রুতে অবস্থিত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ফাঁড়িতে আশ্রয় নেন তারা।
আজ, রবিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিজিবির হেডকোয়ার্টার থেকে তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন তুমব্রু বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডিং অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম চৌধুরী। বিকেলে তুমব্রু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।’
বিজিবির পক্ষে কত সদস্য পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন তা এ পর্যন্ত নিশ্চিত করা হয়নি।
তবে সূত্র জানিয়েছে, এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৫০ জন আশ্রয় নিয়েছে। গুলিবিদ্ধসহ আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
বিজিবির এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, আজ (রবিবার) সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটের দিকে বিজিপি সদস্যরা বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
তিনি বলেন, ‘পদ্ধতি অনুযায়ী আমরা তাদের নিরস্ত্র করেছি। তারা এখন আমাদের হেফাজতে আছে। পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্য আমরা সরকার ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। আমরা সীমান্তে সতর্ক আছি।’
বিজিবির কক্সবাজার ৩৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ আল আশরোকি মিয়ানমারের বিজিপির কত সদস্য পালিয়ে এসেছেন তা নিশ্চিত করেননি।
তিনি বলেন, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপির সঙ্গে রাত থেকে তুমুল যুদ্ধের মধ্যে কয়েকজন বিজিপি সদস্য প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ করেছে। এদের বিজিবির ঘুমধুম সীমান্ত বিওপিতে রাখা হয়েছে। বিজিপি সদস্যদের অস্ত্র ও গুলি বিজিবির কাছে জমা রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে ঘুমধুম সীমান্তে বিজিবির পক্ষে প্রেস বিফ্রিং করার কথা থাকলেও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (সাড়ে ৪টা) প্রেস বিফ্রিং করা সম্ভব হয়নি।
বিজিবি সূত্র জানিয়েছে, এ মূহুর্তে সীমান্তের কাছাকাছি তুমুল লড়াই চলছে। সেখানে গোলা-বারুদ বিস্ফোরণের শব্দে কাঁপছে সীমান্ত এলাকা। তাই প্রেস বিফ্রিং বিলম্ব হচ্ছে।
বান্দরবানের জেলা প্রশাসক শাহ মোজাহিদ উদ্দিন বলেন, মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কিছু সদস্য পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার ব্যাপারে শোনা যাচ্ছে। বিজিবি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
গতকাল, শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) থেকে সীমান্ত শিবির দখলকে কেন্দ্র করে বিদ্রোহী দলগুলো মিয়ানমারের সামরিক জান্তা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। ক্রমাগত গুলি, মর্টার শেল ও রকেট বিস্ফোরিত হচ্ছে। গুলিতে এক বাংলাদেশি আহত হয়েছেন।
বাংলাদেশি সীমান্তের এক বাসিন্দা বলেন, “সকাল ৮টা থেকে প্রচণ্ড গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। অনেক ভয়ে আছি। কী হবে জানি না।”
এদিকে ঘুমধুম সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারে চলছে মুহুর্মুহু মর্টার শেল ও গুলিবর্ষণ। এতে সীমান্তে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। তুমব্রু সীমান্তের কাছে দুই গ্রামের প্রায় তিন হাজার বাংলাদেশি অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন।
গতকাল (শনিবার) রাত থেকে রোববার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত থেমে থেমে ছোড়া হচ্ছে মর্টার শেল, গোলাগুলি চলছে। তুমব্রু সীমান্তে বাংলাদেশি দুই বাড়িতে মর্টার শেলের বিস্ফোরিত অংশসহ গুলি এসে পড়েছে।


