বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৩০, ২০২৬
spot_img
Homeসংবাদচট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে ষড়যন্ত্র প্রতিহতের ঘোষণা

চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে ষড়যন্ত্র প্রতিহতের ঘোষণা

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।

তারা বলছেন, স্বৈরাচার সরকারের আমলে চট্টগ্রাম বন্দরসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। এখনো সেই ষড়যন্ত্র চলছে। গণ-অভ্যুত্থানকারী ছাত্র-জনতা বন্দর নিয়ে সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে। প্রয়োজনে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। বন্দরকে রক্ষায় অন্তর্বর্তী সরকারের সহযোগিতাও চান নেতারা।

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশে এ অভিযোগ করেছেন রাজনৈতিক দলের নেতারা। আয়োজক ছিল ‘দেশ বাঁচাও, বন্দর বাঁচাও আন্দোলন’ নামের একটি সংগঠন।

অন্তর্বর্তী সরকারের নৌপরিবহন উপদেষ্টাকে আগামী ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের তৎপরতা চলছে। নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশি দুবাইভিত্তিক কোম্পানিকে দেওয়ার যে তৎপরতা দেখা যাচ্ছে, তা আপনি স্থগিত করবেন। স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দর কোনোভাবেই বিদেশিদের হাতে তুলে দিতে পারি না। আপনারা এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না, যা সরকারকে বিতর্কিত করবে।’

নৌপরিবহন উপদেষ্টার উদ্দেশে গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর বলেন, এখনো দেশীয় কোম্পানি বন্দর পরিচালনা করছে, সেখানে নতুন করে কেন বিদেশি কোম্পানিকে নিয়ে আসতে হবে। দেশের ও জাতীয় স্বার্থে বন্দরকে বিদেশি কোম্পানির হাতে বন্ধক দেওয়ার অপতৎপরতা বন্ধ করুন। অনতিবিলম্বে চট্টগ্রাম বন্দরের বিষয়ে আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে আপনাদের সিদ্ধান্ত জানাবেন। অন্যথায় দেশের জনগণ আবারও রাজপথে নামবে।’

এবি পার্টির সদস্যসচিব মুজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর আমাদের জাতীয় সম্পদ। আমাদের যদি দক্ষতা ও যোগ্যতা না থাকে তা হলে ধীরে ধীরে তা বাড়াতে হবে। বন্দর বিদেশিদের হাতে গেলে আমাদের হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান নষ্ট হবে। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দর নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র চলতে দেওয়া যাবে না। সব ষড়যন্ত্রকে প্রতিহত করতে হবে।’

শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের পরেও বর্তমান সরকার চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য আলোচনা করছে। দেশের হাজার মানুষের কর্মসংস্থান নষ্ট করে নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল যদি বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়, তা হলে চট্টগ্রামের একটা অঙ্গহানি হবে। বিদেশি অপারেটরের পরিবর্তে দেশীয় অপারেটরদের বন্দর পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি করে দিন।’

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা, গণফোরামের কো-চেয়ারম্যান সিনিয়র অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী প্রমুখ।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়