সোমবার, মে ২৫, ২০২৬
spot_img
Homeসংবাদযুদ্ধ বন্ধে ইরানের সঙ্গে চুক্তি ‘প্রায় চূড়ান্ত’, খুলবে হরমুজ, শিগগিরই ঘোষণা: ট্রাম্প

যুদ্ধ বন্ধে ইরানের সঙ্গে চুক্তি ‘প্রায় চূড়ান্ত’, খুলবে হরমুজ, শিগগিরই ঘোষণা: ট্রাম্প

প্রাইম ভিশন ডেস্ক »

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বৃহত্তর চুক্তির বিষয়গুলো ‘অধিকাংশই চূড়ান্ত হয়েছে’। চুক্তির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে। ‘খুব শিগগিরই’ চুক্তির ঘোষণা আসবে বলেও জানান বর্তমানে ‘চূড়ান্ত বিষয়গুলো’ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে।

আরব ও মুসলিম বিশ্বের একাধিক রাষ্ট্রপ্রধান এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে পৃথক ফোনালাপের পরই ট্রাম্প এই মন্তব্য করলেন। ইরানের সঙ্গে প্রস্তাবিত দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক (এমওউ) স্বাক্ষরে হোয়াইট হাউস যে প্রস্তুত, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্য তারই জোরালো ইঙ্গিত।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, চুক্তির বিষয়গুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চূড়ান্ত করা হয়েছে। ‘এটি এখন যুক্তরাষ্ট্র, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ও আরও কয়েকটি দেশের মধ্যে চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।’

তবে ট্রাম্পের দাবির বিরোধিতা করে ইরানের রাষ্ট্র-সমর্থিত ফারস নিউজ এজেন্সি বলেছে, দুই দেশের মধ্যে বিনিময় হওয়া প্রস্তাবের সর্বশেষ সংস্করণ অনুসারে, হরমুজ প্রণালি ইরানের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে।

এ বিষয়ে অবগত একজন ব্যক্তি সিএনএনকে বলেছেন, সমঝোতা স্মারকের সর্বশেষ যে সংস্করণগুলো ট্রাম্প চূড়ান্ত করার কাছাকাছি রয়েছেন, তা ইরানের সাথে শত্রুতার অবসান ঘটাবে। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালি পর্যায়ক্রমে খুলে দেওয়া হবে এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ তুলে নেওয়া হবে।

অন্যদিকে আলোচনার বিষয়ে অবগত একজন মার্কিন কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে জানান, চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত। তবে বেশ কিছু বিষয়ের ‘শব্দচয়ন’ নিয়ে এখনও কিছুটা মতপার্থক্য রয়ে গেছে।

ফারস নিউজ এজেন্সি বলেছে, হরমুজ খুলে দেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের দাবিগুলো ‘সত্য নয়’ এবং ‘বাস্তবতার সাথে সাংঘর্ষিক’।

সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, ইরান যদিও হরমুজ দিয়ে যাতায়াতকারী ‘জাহাজের সংখ্যা যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে; তবে এর মানে কোনোভাবেই যুদ্ধের আগে যেমন “অবাধ যাতায়াত” ছিল, তেমনটা নয়।’

অবশ্য এর আগেও যুদ্ধের বিভিন্ন পর্যায়ে ট্রাম্প ও তার উপদেষ্টারা বেশ কয়েকবার চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছেন বলে মনে করেছিলেন। যদিও বাস্তবে তা শেষপর্যন্ত রূপ পায়নি।

সূত্রমতে, প্রস্তাবিত এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো যুদ্ধ বন্ধ করা, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ধাপে ধাপে খুলে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ অন্যান্য বিতর্কিত ইস্যুতে অন্তত ৩০ দিনের বিস্তারিত আলোচনা প্রক্রিয়া শুরু করা।

তবে এই চুক্তি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের নিজের দলেই টানাপড়েন শুরু হয়েছে। রিপাবলিকান পার্টির বেশ কিছু কট্টরপন্থি নেতা ইতিমধ্যেই এ সমঝোতার বিরোধিতা করে বিবৃতি দিয়েছেন।

নেতানিয়াহুও এ চুক্তির বিষয়ে অত্যন্ত সন্দিহান। তিনি চুক্তি না করে ইরানে নতুন করে হামলা চালাতে ট্রাম্পকে আহ্বান জানিয়েছেন। যদিও ট্রাম্প বলেছেন, শনিবার নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার ফোনালাপ ‘খুব ভালো’ হয়েছে।

নেতানিয়াহু ছাড়াও সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কাতার, মিশর, তুরস্ক ও পাকিস্তানের শীর্ষনেতাদের সঙ্গেও কথা বলেছেন ট্রাম্প।

আলোচনার বিষয়ে অবগত দুটি সূত্র জানিয়েছে, ওই অঞ্চলের নেতারা ট্রাম্পকে চুক্তিটি সই করতে অনুরোধ জানিয়েছেন। একটি আঞ্চলিক সূত্র বলেছে, ‘সবার একই বার্তা ছিল: সমগ্র অঞ্চলের স্বার্থে দয়া করে এই যুদ্ধ বন্ধ করুন।’

ওই সূত্রের দাবি, মধ্যস্থতাকারীরা আশা করছেন, রোববারের মধ্যেই এই এক পাতার কাঠামোগত চুক্তিটি চূড়ান্ত করে ঘোষণা যাবে। সেটি হলে ঘোষণার কয়েক দিনের মধ্যেই বিস্তারিত চুক্তি নিয়ে মূল পর্বের আলোচনা শুরু হবে।

পরিস্থিতি পর্যালোচনায় ওহাইয়ো-তে থাকা মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও ওয়েস্ট পয়েন্টে থাকা প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে জরুরি ভিত্তিতে ওয়াশিংটনে ডেকে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে শনিবার ট্রাম্প অ্যাক্সিওসকে বলেছিলেন, ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনা করতে তিনি তার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। যুদ্ধ আবার শুরু হবে কি না, সে বিষয়ে রোববারের মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, ‘ভালো’ চুক্তি হওয়া বা ইরানকে ‘গুঁড়িয়ে দেওয়ার’ সম্ভাবনা ‘ফিফটি-ফিফটি’। তবে সমাজমাধ্যমে তার শেষ বার্তা থেকে স্পষ্ট যে, চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা এখন নাটকীয়ভাবে বেড়ে গেছে।

এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় অন্যতম প্রধান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় রয়েছেন পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। তেহরানে শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক ও চুক্তি চূড়ান্ত করার মরিয়া চেষ্টার পর শনিবারই তিনি ইরান ছাড়েন।

চুক্তি এখনও চূড়ান্ত না হলেও পাকিস্তান বলেছে, ‘চূড়ান্ত সমঝোতার লক্ষ্যে আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি হয়েছে।’

ইরান ও পাকিস্তানের এই আলোচনা থেকেই চুক্তির সাম্প্রতিক খসড়াটি তৈরি হয়েছে। আঞ্চলিক সূত্রের দাবি, পাকিস্তান মধ্যস্থতায় নেতৃত্ব দিলেও গত এক সপ্তাহে কাতারের সমর্থন এবং সৌদি আরব, মিশর ও তুরস্কের সক্রিয় তৎপরতার ফলেই দুই পক্ষের দূরত্ব অনেকটাই কমিয়ে আনা গেছে।

অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক সইয়ের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে ইরান ও আমেরিকা।

ইরানের মুখপাত্র বলেন, ওই এমওইউতে হরমুজ প্রণালি ধাপে ধাপে খুলে দেওয়া, মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানের বিদেশে আটকে থাকা অর্থ মুক্ত করার বিষয়গুলোও রয়েছে। এরপর বিস্তারিত ও স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে ৩০ থেকে ৬০ দিনের আলোচনা প্রক্রিয়া চলবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

পাঠক প্রিয়