প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ আটের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই বিশ্বকাপ ইতিহাসে যুক্ত হয়েছে একটি ব্যতিক্রমী অধ্যায়। প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিতে পারেনি বিশ্বকাপের সবচেয়ে সফল দুই দল ব্রাজিল ও জার্মানি।
বিশ্বকাপের ২৩টি আসরের মধ্যে এবার ১৮তমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনাল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কিন্তু এই প্রথম এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে ব্রাজিল ও জার্মানি—দুই দলই শেষ আটের বাইরে। রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল বিদায় নিয়েছে শেষ ষোলো থেকে, আর জার্মানির যাত্রা থেমে গেছে রাউন্ড অব ৩২-তেই।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে ব্রাজিল ১৪টি আসরে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছে। এর আগে কেবল ১৯৩৪, ১৯৬৬ ও ১৯৯০ সালে তারা এই ধাপে পৌঁছাতে পারেনি। অন্যদিকে জার্মানি সর্বোচ্চ ১৭ বার কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। ১৯৩৮, ১৯৫০, ২০১৮ ও ২০২২ সালের পর এবারও তারা শেষ আটে উঠতে ব্যর্থ হলো। উল্লেখ্য, ১৯৩০, ১৯৫০, ১৯৭৪, ১৯৭৮ ও ১৯৮২ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্ব ছিল না।
এবারের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলছে আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, স্পেন, মরক্কো, বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড ও নরওয়ে। এর মধ্যে আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও স্পেন অতীতে বিশ্বকাপ জিতেছে। অন্যদিকে বেলজিয়াম, মরক্কো, সুইজারল্যান্ড ও নরওয়ে ছিল প্রথম শিরোপার অপেক্ষায়। তবে গত রাতে ফ্রান্সের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে মরক্কো।
শেষ চার দলের মধ্যে বেলজিয়াম ও মরক্কো এর আগে কখনও সেমিফাইনালের বাধা পেরোতে পারেনি, মরক্কো এবারও পারল না। সুইজারল্যান্ডের সর্বশেষ কোয়ার্টার ফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতা ১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপে। আর নরওয়ে এবারই প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে ইতিহাস গড়েছে।
কোয়ার্টার ফাইনালে অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যর্থতার রেকর্ড ইংল্যান্ডের। ১০ বার শেষ আটে খেলেও মাত্র তিনবার সেমিফাইনালে উঠতে পেরেছে তারা। অন্যদিকে ফ্রান্স খেলছে নবমবার, আর্জেন্টিনা অষ্টমবার, স্পেন পঞ্চমবার এবং বেলজিয়াম ও সুইজারল্যান্ড তৃতীয়বারের মতো এই পর্বে উঠেছে। মরক্কোর জন্য এটি দ্বিতীয় এবং নরওয়ের জন্য প্রথম কোয়ার্টার ফাইনাল।
মহাদেশভিত্তিক হিসাব করলে শেষ আটে ইউরোপের আধিপত্যই সবচেয়ে বেশি। আট দলের মধ্যে ছয়টি ইউরোপের, একটি দক্ষিণ আমেরিকার (আর্জেন্টিনা) এবং একটি আফ্রিকার (মরক্কো)। ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপেও একই চিত্র দেখা গিয়েছিল। তবে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় এবার ইউরোপের একটি দল বেশি রয়েছে কোয়ার্টার ফাইনালে।
গ্রুপপর্বে নিজেদের গ্রুপের শীর্ষে থেকে নকআউটে ওঠা ছয়টি দল এখনও টিকে আছে—আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, স্পেন, বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড। অন্যদিকে মরক্কো ও নরওয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হয়েও শেষ আটে জায়গা নিশ্চিত করেছে।
গোল করার দিক থেকেও এগিয়ে রয়েছে ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনা। কোয়ার্টার ফাইনালের আগে পর্যন্ত দুই দলই ১৪টি করে গোল করেছে। তাদের ঠিক পেছনেই রয়েছে বেলজিয়াম, যারা এখন পর্যন্ত ১৩ বার লক্ষ্যভেদ করেছে।


