প্রাইম ভিশন ডেস্ক »
সরকার কোরিয়ান কোম্পানিকে দিয়েই চট্টগ্রামে মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। চীনের চায়না কনস্ট্রাকশন কোম্পানি বা সিসিসি ফ্রি’তে সমীক্ষা পরিচালনাসহ বেশ কিছু প্রস্তাব দিয়েছিল। অপরদিকে কোরিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কো–অপারেশন এজেন্সির (কোইকা) ৭০ কোটিরও বেশি টাকা ব্যয়ে সমীক্ষা পরিচালনার প্রস্তাব দিয়েছে।
চীন এবং কোরিয়া দুইটি দেশের প্রতিষ্ঠানই সরকারের সাথে যৌথভাবে প্রকল্পটির সমীক্ষা পরিচালনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে যাচাই-বাছাই শেষে কোরিয়ার প্রস্তাব অপেক্ষাকৃত লাভজনক এবং দেশের জন্য সুবিধা হওয়ায় সরকার কোরিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কো–অপারেশন এজেন্সির সাথে যৌথভাবে চট্টগ্রামে মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নের সমীক্ষা শুরু করতে যাচ্ছে। আগামী মাস থেকেই এই সমীক্ষা শুরু হবে। চট্টগ্রামে মেট্রোরেল পথের দৈর্ঘ্য হবে ৫৪ দশমিক ৫০ কিলোমিটার। তিনটি পৃথক রুটের ৪৭টি পয়েন্টে যাত্রী ওঠানামার সুযোগ থাকবে।
২০২২ সালের ৪ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একনেক সভায় বক্তৃতাকালে মেট্রোরেল শুধু ঢাকায় সীমাবদ্ধ না রেখে পাশাপাশি চট্টগ্রামেও করার নির্দেশনা প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রীর ওই নির্দেশনার পর চট্টগ্রামে মেট্রোরেল চালুর ব্যাপারটিকে অনেকেই ‘সময়ের ব্যাপার মাত্র’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে তৎপরতা শুরু হলে কোরিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কো–অপারেশন এজেন্সির (কোইকা) চট্টগ্রামে মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়তার আশ্বাস প্রদান করে।
কিন্তু এই প্রকল্প চট্টগ্রামে আদৌ প্রয়োজন কিনা তা নিয়ে শুরুতে সমীক্ষা পরিচালনার প্রস্তাব দেয়া হয়। এতে ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ৭০ কোটি টাকা। ওই সময় সমীক্ষার খরচের পুরোটাই সরকারি কোষাগার থেকে দেয়ারও প্রস্তাব করে কোরিয়ান কোম্পানিটি।
কোরিয়ান কোম্পানি উপরোক্ত প্রস্তাবের দিন কয়েক পরেই চীনা কোম্পানি সিসিসি মেট্রোরেল প্রকল্পের সমীক্ষা একেবারে বিনে পয়সায় নিজেদের খরচে করে দেয়ার প্রস্তাব দেয়। শুধু সমীক্ষাই নয়, একইসাথে তারা ৮০ হাজার কোটি থেকে এক লাখ কোটি টাকার মেট্রোরেল প্রকল্প পুরোটাই নিজেদের অর্থায়নে করে দেয়ার কথাও বলে। মীরসরাই ইকোনমিক জোন থেকে বিমানবন্দর এবং শহরের গ্রোথ সেন্টারগুলোতে তারা মেট্রোরেলের রুট নির্ধারণ করবে এবং এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সমীক্ষা নিজস্ব অর্থায়নে করবে।
সূত্র জানিয়েছে, চীনা কোম্পানির প্রস্তাবের সাথে সাগর ভরাট, উপকূলে শহর গড়ে তোলা এবং প্লট বিক্রিসহ বিভিন্ন বিষয়ের শর্ত থাকায় সরকার তা গ্রহণ করেনি। বরং চীনা প্রস্তাবের চেয়ে কোরিয়ান প্রস্তাবই দেশের জন্য কল্যাণকর হবে বিবেচনায় কোরিয়ার প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হয়েছে।
কোরিয়ান প্রস্তাবে তিনটি রুট নির্ধারণ করে মেট্রোরেলের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। এরমধ্যে কালুরঘাট থেকে এয়ারপোর্ট, সিটি গেট থেকে শাহ আমানত সেতু এবং অক্সিজেন থেকে ফিরিঙ্গিবাজার। এই তিনটি রুটে মোট ৪৭টি স্টেশনে যাত্রী উঠানামা করবে। নগরের অভ্যন্তরে মূল শহরে মাটির নিচ দিয়ে এবং শহরের আশপাশে মাটির উপর দিয়ে মেট্রোরেল চলাচল করবে।
ট্রান্সপোর্ট মাস্টারপ্ল্যান অ্যান্ড প্রিলিমিনারি ফিজিবিলিটি স্টাডি ফর আরবান মেট্রোরেল ট্রানজিট কনস্ট্রাকশন অব চিটাগাং মেট্রোপলিটন এরিয়া’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় আগামী মাস থেকে কোরিয়ান কোম্পানি নগরীতে সম্ভাব্যতা যাছাইয়ের কাজ শুরু করার বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) এবং এলজিইডির বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি নিয়ে এই সমীক্ষা কার্যক্রম মনিটরিং এর জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সাউদার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোজাম্মেল হক। সম্ভাব্যতা যাছাইয়ের এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০ কোটি ৬২ লাখ ৫৮ হাজার টাকা।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা বলেছেন, আগামী মাস থেকে সম্ভাব্যতা যাছাইয়ের কাজ শুরু হচ্ছে। আমাদের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা প্রদান এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। খবর সূত্র আজাদী।
সিডিএর চিফ ইঞ্জিনিয়ার কাজী হাসান বিন শামস বলেন, প্রকল্পটি আমাদের নয়, তবে কমিটিতে আমাদের প্রতিনিধি রয়েছে। মেট্রোরেল সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্প এবং স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে অনন্য ভূমিকা রাখবে। তাই এই প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাছাইসহ পরবর্তীতে যেকোনো কার্যক্রমে সিডিএর পক্ষ থেকে সর্বাত্মক ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়া হবে।


