পিএইচপি ফ্যামিলি-এমএইচটিসি সমঝোতা স্মারক
বাংলাদেশি রোগীদের মালয়েশিয়ায় উন্নত ও বিশেষায়িত চিকিৎসার সুযোগ সহজতর করতে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ডিসকভার মালয়েশিয়া হেলথকেয়ার’ শীর্ষক আয়োজন। মালয়েশিয়া হেলথকেয়ার উইক ২০২৬-এর অংশ হিসেবে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে চিকিৎসা, স্বাস্থ্য পর্যটন এবং দুই দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে পিএইচপি ফ্যামিলি ও মালয়েশিয়া হেলথকেয়ার ট্রাভেল কাউন্সিলের (এমএইচটিসি) মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। পিএইচপি ফ্যামিলির পক্ষে ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মহসিন এবং এমএইচটিসির পক্ষে প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দাতো সুরিয়াগান্ডি সুপিয়াহ স্বাক্ষর করেন।
এর মাধ্যমে বাংলাদেশি রোগীদের জন্য মালয়েশিয়ার উন্নত চিকিৎসাসেবা সম্পর্কে তথ্যপ্রাপ্তি, যোগাযোগ ও সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে জানান আয়োজকেরা জানান।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউতে এ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পিএইচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান সুফি মুহাম্মদ মিজানুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন থাইল্যান্ডের অনারারি কনসাল আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী, বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি এমএ বক্কর, পিএইচপি ফ্যামিলির পরিচালক আনোয়ারুল হক, জহিরুল ইসলাম রিংকু ও নোভেদ মিজান ইকবাল।
সুফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং বহুমাত্রিক। স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও দুই দেশের সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্যসেবার মান ও আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বাংলাদেশি রোগীদের জন্য মালয়েশিয়ায় উন্নত চিকিৎসার সুযোগ তৈরি হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদকে বাংলাদেশে নিয়ে আসার সুযোগ হয়েছিল আমার। বাংলাদেশের মানুষ, বিশেষ করে তরুণ ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মাহাথিরের বক্তব্য এখনো স্মরণীয় হয়ে আছে। মাহাথির মোহাম্মদের শততম জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানেও মালয়েশিয়ায় উপস্থিত ছিলাম এবং বক্তব্য রেখেছিলাম।
অনুষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোক্তা ও মালয়েশিয়ার অনারারি কনসাল মোহাম্মদ আকতার পারভেজের ভূমিকার প্রশংসা করেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে ব্যবসা, চিকিৎসা, স্বাস্থ্য পর্যটন ও পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধিতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। বিশেষ করে বাংলাদেশি রোগীদের জন্য মালয়েশিয়ার উন্নত চিকিৎসাসেবা সম্পর্কে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া এবং দুই দেশের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যোগাযোগ তৈরিতে আকতার পারভেজের উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাঁর এ ধরনের কার্যক্রম শুধু চিকিৎসাসেবার সুযোগ সম্প্রসারণ নয়, বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ককে আরও কার্যকর ও জনকল্যাণমুখী করার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখছে।
অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্যসেবা খাতের বিভিন্ন আধুনিক সুযোগ সুবিধা তুলে ধরেন মালয়েশিয়া হেলথকেয়ার ট্রাভেল কাউন্সিলের ডেভেলপমেন্টাল মার্কেট, মার্কেটিং অ্যান্ড কমিউনিকেশন্স বিভাগের প্রধান হিজামি আইজাত। ম্যানেজার নর সুজিলাওয়াতি ইদ্রিস, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ রোসিলাহ চে ওমর এবং এক্সিকিউটিভ পুতেরি নুর আয়েশাহ মোহাম্মদ জামরি।
আলফা আইভিএফ-এর আঞ্চলিক বাণিজ্যিক পরিচালক ক্যারেন অ্যাং জানান, প্রতিষ্ঠানটি জটিল বন্ধ্যাত্ব ও প্রজনন চিকিৎসায় বিশেষায়িত। তার দাবি, তাদের আইভিএফ চিকিৎসায় সাফল্যের হার ৮৭ দশমিক ৫ শতাংশ।
আইএইচএইচ হেলথকেয়ার মালয়েশিয়ার প্রতিনিধি জানান, প্রতিষ্ঠানটির মালয়েশিয়া জুড়ে ১৮টি হাসপাতাল রয়েছে। ক্যানসার, ইউরোলজি, অর্থোপেডিকসসহ বিভিন্ন জটিল রোগের জন্য তাদের বিশেষায়িত চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে।
সানওয়ে মেডিক্যাল সেন্টারের প্রতিনিধি জানান, গত বছর তাদের হাসপাতালে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার আন্তর্জাতিক রোগী সেবা নিয়েছেন। এসব রোগী ১৫০টি দেশ থেকে এসেছেন। বাংলাদেশ তাদের আন্তর্জাতিক রোগীর শীর্ষ ১০ দেশের একটি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশি রোগীদের জন্য হাসপাতালটিতে আন্তর্জাতিক রোগী কেন্দ্র রয়েছে। সেখানে অ্যাপয়েন্টমেন্ট, যাতায়াত, ভিসার মেয়াদ বাড়ানো ও বিমানবন্দর থেকে রোগী আনার মতো সহায়তা দেওয়া হয়। হাসপাতালটিতে রোবটিক সার্জারি, শিশুস্বাস্থ্য, হৃদরোগ, অনকোলজি, নিউরোলজি ও গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা রয়েছে।
বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্যসেবাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশি রোগী ও তাদের পরিবারের কাছে মালয়েশিয়ার বিশেষায়িত চিকিৎসা, হাসপাতাল, চিকিৎসা প্রযুক্তি এবং স্বাস্থ্য পর্যটন সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।


